Header Ads

কোভিড-১৯ শিক্ষা জগৎ : ভার্চুয়াল ক্লাস হল আত্মসংযম প্রক্রিয়ার এক মসৃণ উত্তরণ



সুধৃতি দত্ত, নয়াদিল্লি : কোভিড-১৯ লকডাউন সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক অতুলনীয় ঘটনা। দৈনন্দিন জীবনকে বাধাগ্রস্ত করে আমাদের এক কঠিন মানসিক শক্তি পরীক্ষার সম্মুখীন করেছে। প্রকৃত পক্ষে এ এক দুরূহ সময়।
অতিমারির শৃঙ্খল ভাঙার প্রয়াসে বিশ্বজুড়ে স্কুলগুলি অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছে। যদিও - মুখোমুখি কথোপকথন করা, সৃজনশীলতা, বুদ্ধিদীপ্ত অধিবেশন এবং শ্রেণিকক্ষের মজাদার উপাখ্যানের মতো উপাদান ভার্চুয়াল বা অনলাইন ক্লাসে নেই। কিন্তু, আজ সময়ের প্রয়োজন হল ঘরে নিরাপদ থাকা ও যতসম্ভব স্বাভাবিক জীবন যাপন অতিবাহিত করা।
অনলাইন ক্লাসকে উৎসাহিত করার জন্য স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের সময় আনন্দ এবং উষ্ণতার মাধ্যমে এরূপ পাঠদান প্রক্রিয়াকে জীবন্ত করার কোন প্রয়াস ছাড়ছেন না। ভার্চুয়াল বা অনলাইন ক্লাসগুলি আসলে প্রচলিত ক্লাসরুম পাঠদান প্রক্রিয়ার এক মসৃণ রূপান্তরণ।
ভার্চুয়াল মোডের এ রূপান্তরটি স্কুল পরিচালনা গোষ্ঠী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মিলিত প্রচেষ্টার এক প্রতিফলন। পরিকল্পনা, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ঘন ঘন অভিভাবক-শিক্ষক ইন্টারফেস, অনলাইন সংস্থার উপর নির্ভরতা এবং শিক্ষানবিশদের উৎসাহিত যোগদান ভার্চুয়াল ক্লাসের মুখ্য উপাদানসমূহ। ভিডিও কনফারেন্সিং শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের একে অপরের বাড়িতে নিয়ে গেছে। লকডাউনের সময় চার  দেওয়ালে আবদ্ধ থাকা এক স্নায়ু-বিধ্বংসীকারী অবস্থা। ভার্চুয়াল ক্লাস শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থী এক শৃঙ্খলাবদ্ধ সময়সূচীতে বেঁধে রাখে। সিলেবাসও সময়সীমার মধ্যে শেষ করাতে হয়।
অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে কেবল এক কম্পিউটার, ট্যাবলেট বা মোবাইলের প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য স্কুলে পৌঁছানোর সময়টুকু নষ্ট না করে বাড়ির স্বাচ্ছন্দ্যে থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুবিধা পায়। স্বাচ্ছন্দ্যে উপস্থিতি নিয়মানুবর্তিতাও নিশ্চিত করে। প্রতিনিয়ত, জীবনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস আত্মসংযমের বিকাশ ঘটায়। ভিডিও ভাগাভাগি, ইন্টারেক্টিভ সেশন, বক্তৃতা, উপস্থাপনা তৈরি, সম্পর্কিত অনলাইন বিষয়বস্তুর অনুসন্ধান এবং কোনও বিষয়ের ব্যবহারিক নিদর্শন নিয়ে আলোচনার মতো মডিউলগুলির মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হয়। ভার্চুয়াল বা অনলাইন ক্লাসে সাধারণত প্রদর্শিত হয় সিলেবাস সম্পর্কিত ভিডিও এবং অন্যান্য উপাদান যা  ক্লাসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো হয়। যেহেতু ক্লাস চলাকালীন কোনও বিঘ্ন না বিরাম নেই, তাই শিক্ষার্থীরা একান্ত মনোযোগ দিয়ে ক্লাসের ক্রিয়াকলাপ শুনে এবং স্ফূর্তভাবে অবদানও রাখে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য তুলনামূলকভাবে কম সময়ের ভিতর সিলেবাস শেষ কার যায়।
অনলাইন ক্লাসগুলি কোরনা বিরুদ্ধে সামাজিক দূরত্বের বাস্তবতা তৈরি করে। যদিও প্রত্যেকেই এ রূপান্তরিত শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার সাথে সড়গড় হওয়ার জন্যে লড়াই করছে। করোনা ভাইরাস হঠাৎ করে এক বিশাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার শুরু করিয়েছে আমাদের সামাজিক জীবনে। সুখের কথা হল মারাত্মক কোরনা ভাইরাস আক্রমণ কিন্তু আমাদের জ্ঞান আহরণ প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি। ভার্চুয়াল ক্লাসগুলি শিক্ষার্থীদের অনলাইন কোর্সের উপাদানগুলো নেভিগেট করতে, বই ডাউনলোড করতে, ই-বুকগুলি পড়তে, ডিজিটালভাবে যোগাযোগ করতে ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করছে। অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীরা বেঁধে দেওয়া সময়ের ভিতরে হোমওয়ার্ক শেষ করতে বাধ্য করছে। সাধারণত স্কুলে যে বিষয়গুলো পড়ানো হয় সেগুলোকে মূল্যবান সময় বাঁচানোর জন্য হোমওয়ার্ক হিসাবে বরাদ্দ করা হয়। ভার্চুয়াল ক্লাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাত্ক্ষণিক সন্দেহের্ নিরসন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ব্যাখ্যা ও আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীরা ক্লাস চলাকালীন সুশৃঙ্খল থাকে এবং ক্লাসগুলি থেকে সর্বোত্তমভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা যখন মনোনিবেশ, আন্তরিকতা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে অনুশাসিত হয়, তখন আর সিলেবাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার কোনো সমস্যা হয় না।
শিক্ষকরা পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়া জন্য ভার্চুয়াল ক্লাসগুলিকে মজাদার, কার্যকর এবং আকর্ষণীয় করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে চলছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মানব বিকাশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ এ বিষয়ে বিশেষ উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। অনলাইন ক্লাসগুলিকে আরও কার্যকর করার জন্য সময় সময়ে মূল্যবান পরামর্শ কেন্দ্রীয় মন্ত্রনালয়টি দিচ্ছে। আমরা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে দাঁড়িয়ে আছি। মনে হয় যেন একটি অন্ধকার টানেলের মধ্যে সবাই আটকা পড়েছি। নেতিবাচকতা চিন্তা ও মানসিক চাপ আমাদের সার্বিক মানসিকতাকে পঙ্গু করার অহরহ চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকা সত্যিই এক বড় কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমরা অবশ্যই টানেলের শেষে বহু কাঙ্খিত আলো দেখতে পাব- এ আমাদের এক দৃঢ় ইতিবাচক বিশ্বাস।
বর্তমানের লকডাউনের পর্বটি ইতিহাস হয়ে ওঠার পরে আমরা যেন গর্বের সাথে ফিরে তাকাতে পারি এ পর্বে শিক্ষার্থীদের সময়ের সদ্ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে। উন্নত স্কুল পরিচালনার মূল কাজ হল শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানসিক সুস্থতার বিকাশের প্রতি দৃষ্টি রাখা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও ভ্রাতৃত্ববোধের বিকাশ ঘটানো। সিলেবাসের সাথে মোকাবিলা করার জন্য সর্বোত্তমভাবে তৈরি করানো। ভার্চুয়াল ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষকরা বিদ্যার্থীদের সৃজনশীলতা অন্বেষণ ও বিকাশ ঘটানোর জন্য কাজ করছেন। শিক্ষার্থীদের পারিবারিক বন্ধনকেও উপভোগ করতে উৎসাহিত করেছেন।শিক্ষার্থীদের গানবাজনা, খেলাধুলা আদিতে নতুন দক্ষতা শিখতে, যোগব্যায়াম অনুশীলন করতে, ই-বই পড়তে ও পুষ্টিকর খাদ্য খেতে অনুপ্রাণিত করছেন। সর্বোপরি, লকডাউনের সময়ে ছাত্রদের বাড়ির নিরাপদ পরিবেশে থেকে সার্বিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য ও উৎসাহিত করছেন।
ছাত্ররা আগামী দিনে অনলাইন শিক্ষকদের নিজেদের জীবনে এ মহত্বপূর্ণ অবদানের কথা অবশ্যই শ্রদ্ধা সহকারে স্মৃতিচারণ করবেন। বিদ্যার্থীদের অমূল্য সময়ের সদ্ব্যাবহার ও সার্বিক দক্ষতার বিকাশে ভার্চুয়াল টিচারদের অবদান অনস্বীকার্য লকডাউনের এ কঠিন সময়ে।
[লেখক নুতন দিল্লির নয়া ঠাহরের ব্যুরো চিফ। হোয়াটস্যাপ : ৯৯৯৯২১৯৬৮২]

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.