চার বছরে আশি শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে চার বছরের মধ্যে আশি শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করেছি, এই বাজেট সফল হলে কৃতিত্ব সবার, ব্যর্থ হলে দায়িত্ব মাথা পেতে নেব : হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসম বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী
হিমন্তবিশ্ব শর্মা তার দীর্ঘ বাজেট বিতর্কে দাবি করলেন, চার বছরের মধ্যে আশি
শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। এই বাজেট সফল হলে কৃতিত্ব সবার, ব্যর্থ হলে তার দায়িত্ব
তিনি মাথা পেতে নেবেন। এই বাজেটকে নির্বাচনমুখী বাজেট নয় বলে দাবি করে বলেন, রাজ্যের দারিদ্র পীড়িত
মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক জরিপ করার পর এই বাজেট প্রস্তুত করা
হয়েছে। বিরোধীরা বাজেট বিশ্লেষণ না করেই অভিযোগ করে যাচ্ছে। এই বাজেটের মধ্যে
নতুন এক
‘কনসেপ্ট’ তুলে ধরেছেন বলে দাবি
করে বলেন,
যা
দীর্ঘ মেয়াদি ফল দেবে। তাকে ‘বেনিফিসিয়ারি’ বললে গরিব মানুষকে অপমান করা হবে। তার এই বাজেট জাত
পাতের উর্ধ্বে। দারিদ্র পীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষও উপকৃত হবেন।
হিন্দু-মুসলিম মানুষ দেখে এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়নি। কত জন হিন্দু পেল তা গুরুত্ব
পায়নি। প্রধানমন্ত্রী ১৬শো কোটি টাকা ব্যয় করে ২৭ লক্ষ কৃষককে আর্থিক প্যাকেজ
দিয়েছেন। সেখানে সংখ্যালঘু অঞ্চলও আছে। তিনি বলেন, তার এই বাজেটে ঠিকাদারি
ব্যবস্থা বা মধ্যভোগী ব্যবস্থার কোনো স্থান নেই, সরাসরি দারিদ্র পীড়িত
মানুষের হাতে অনুদান তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। সাদিয়া থেকে ধুবড়ি পর্যন্ত
প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের হাতে মাসে মাসে নূন্যতম ৮১৪ টাকা এছাড়াও পূজা-পার্বন, ঈদ, বন্যার মতো জরুরি
ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যা সরাসরি
দারিদ্র পীড়িত মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা পরবে। এই ৮১৪ টাকার মধ্যে ওষুধপত্র, চিনি, ডাল, শাকসজি প্রভৃতি আছে।
প্রসঙ্গত,
চাল
এখন বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে। কোনো ঠিকাদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা দেওয়া
হবে না। সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। গরিব মানুষ সেই টাকা
পেয়ে কী করবে না করবে তা তাদের সিদ্ধান্তের উপরে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে
মন্ত্রী বিধায়ক বা ঠিকাদারদের কোনো ভূমিকা থাকবে না। কেনা বেচার কোনো ব্যাপার
নেই। সরাসরি গরিব মানুষের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। তা এক ঐতিহাসিক যুগান্তকারী
সিদ্ধান্ত বলে ব্যাখ্যা করেন। দরিদ্র নারায়ণ সেবাই তার লক্ষ্য। তিনি রাজনীতি
করছেন না বলে দাবি করে বলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর অরবিন্দ কেজরিওয়ালার মতো লোক
দেখানো মহল্লা ক্লিনিক নয়,
তিনি
প্রকৃতার্থে মানুষের সেবায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল গড়ে তুলেছেন প্রতিটি জায়গায়। সে
প্রসঙ্গে গুয়াহাটির পাণ্ডু, ধীরেণ পাড়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানকার গ্রামীণ
প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র দিল্লির মহল্লা ক্লিনিক থেকেও শতগুণে ভালো। লক্ষীপুর, ডিফুর মতো জায়গাতেও
মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করেছেন। যা তুলনা মেলা ভার। তরুণ গগৈর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস
সরকারের কাজকর্মের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, তরুণ গগৈর সরকারের আমলে বিগত পাঁচ বছরে ব্যয় করেছেন
৩৬ হাজার কোটি টাকা। এ বছর ৮০ হাজার টাকার কাছাকাছি খরচা করেছে। যা প্রায় ৬৮
শতাংশ। কংগ্রেস আমলে বৃদ্ধির হার ছিল ১.৩৯ শতাংশ। বিজেপি সরকারের আমলে বৃদ্ধির হার
২৪ শতাংশ (জিডিপি)। তাই কোনো পর্যায়ে তরুণ গগৈ সরকার তাদের ধারে কাছে পৌছাতে
পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল সহ কানায় কানায় ভরা বিধায়ক
মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে বার বার দাবি
করেন, তার এই বাজেট আগামী দিনে
এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তা তার অহংকারের কথা নয়। প্রকৃতার্থে বাজেটের
অভিমুখকে সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে কোনো রাজনীতি করা
হয়নি। তার এই বাজেট নিয়ে বিরোধীরা ভালোভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা না করেই সমালোচনায়
মুখর হয়েছেন। হিমন্ত এ পর্যন্ত পাঁচবার বাজেট পেশ করেছেন। বাজেট পেশ করে দাবি করে
বলেন, এই বাজেট কতখানি সফলতা
লাভ করেছে,
কত
শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে সে বিষয়েও তিনি অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে থাকেন। বিরোধী
একবারও তো প্রশ্নও তোলেন না, তিনি কি কি কাজ করলেন?
আজ বিধানসভায় বাজেট বিতর্কে অংশগ্রহণ করে কংগ্রেসের কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, এই বাজেট ‘ইন্ডিভিউজাল বেনিফিসিয়ারি’দের জন্য করা হয়েছে। সার্বিক উন্নয়নের কোনো লক্ষণ নেই। দীর্ঘ ৭০ বছরে কংগ্রেস আমলে নির্মাণ করা ব্রিজ, রাস্তা-ঘাট নিয়েই বিজেপি রাজত্ব করছে। নিজস্বভাবে নতুন কিছু তৈরি করেনি। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারেনি। তিনি এনআরসির নামে ভাষিক ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত দুলাল পালের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি মতো আর্থিক সাহায্য দেয়নি। তার বৈধ সরকারি নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক করে রাখা হয়েছিল। বিজেপির রণোজ পেগু এই বাজেটকে অবিরত যাত্রা বলে প্রশংসা করে বলেন, সব জনগোষ্ঠীর সার্বিক কল্যাণে এই বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই