অসম ভারতের মধ্যে অন্যতম শান্তিপ্রিয় স্থান, অসহিষ্ণুতার স্থান নেইঃ চন্দ্র মোহন পাটোয়ারি
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসম ভারতের মধ্যে
অন্যতম শান্তিপ্রিয় স্থান। আধ্যাত্মিক পবিত্র স্থান। শংকর-মাধবদেব, আজানপীড়ের শান্তি সম্প্রীতির পীঠস্থান, এই শান্তিপ্রিয় রাজ্যে অসহিষ্ণুতার কোনো স্থান
নেই। আজ অসম বিধানসভায় জিরো আওয়ারে নুরুল হুদার উত্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে শিল্প
ও বাণিজ্য মন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি একথা বলেন। এই রাজ্যে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিষ্টান
প্রভৃতির জনগোষ্ঠীর মানুষ পরস্পর সদ্বভাবের সঙ্গে বসবাস করেন। শ্ৰীমন্ত শংকরদেব
বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের কথা বলে গেছেন। আমার সামনে উপবিষ্ট ছয়গাওঁয়ের
বিধায়ক রেকিবুদ্দিন আহমেদ আমরা মুসলিম বলে চিনি না, এক পরমাত্মার অংশ বলে তাকে জানি। ভারতীয়
দর্শন সেকথাই বলে। আমাদের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক শব্দ পরিহার করে সংযত
আচরণ করতে হবে। গত ৩ মার্চ বাকসা জেলার এক মসজিদে অগ্নি সংযোগের তীব্র নিন্দা করে
মন্ত্রী বলেন,
অপরাধীদের বিরুদ্ধে
কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ওই মসজিদে ১১টি কোরান এবং হাদিসের গ্রন্থ জ্বালিয়ে
দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গোবর্ধন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ এই ঘটনার তীব্র
নিন্দা জানিয়েছেন। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ কোরান গ্রন্থও দান করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব কা সাথ, সবকা বিশ্বাস’ নীতিতে বিশ্বাস করেন, আমরাও সেই সাম্প্রদায়িক হানাহানিকে কোনো
ভাবেই প্রশ্রয় দেই না। মসজিদে আগুন লাগানো ঘটনা শুধু বিধায়কদের নিন্দা করলে হবে
না, বিধানসভাতেও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা উচিত।
আজ বিধানসভায় নুরুল হুদা জিরো আওয়ারে প্রস্তাব উত্থাপন করে বাত্সার মসজিদ
আক্রমণের ঘটনা তুলে অভিযোগ করেন, কেবল একই সম্প্রদায়ের, কেবল একই জাতির উপর আক্রমণ হানা হচ্ছে। পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারছে
না। সেসময় বিধানসভায় অধ্যক্ষের আসনে ছিলেন উপাধ্যক্ষ আমিনুল হক লস্কর। নুরুল
হুদার এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। বিজেপির পদ্ম হাজরিকা
আপত্তি প্রকাশ করে বলেন,
সাম্প্রদায়িক
উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখা উচিত নয়। কংগ্রেসের কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ হিন্দু-মুসলিম
মিলনপ্রীতির উপর |
জোর দিয়ে বলেন, দুষ্কৃতিদের কোনো জাত নেই। তাদের বিরুদ্ধে
কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কংগ্রেসের দলপতি দেবব্রত শইকিয়া বলেন, সহনশীলতার অভাব ঘটেছে। তিনি শিলচরের এক কলেজের
অধ্যাপককে জেলে পাঠানোর কড়া নিন্দা জানান। অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ গোস্বামী বলেন, সহিষ্ণুতা অবলম্বন করতেই হবে। মসজিদ, গির্জা, মন্দির আমাদের পবিত্র স্থান। তা সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের। বিধায়কদের প্ররোচনা
মূলক বক্তব্য রাখা উচিত না। বিধানসভা থেকে এক সদর্থক বার্তা প্রেরণ করা উচিত।









কোন মন্তব্য নেই