বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একই জায়গায় দশ বছর থাকতে হবে, এই সময়ে গৃহ জেলাতেও যেতে পারবে না, বিধানসভায় আইন আসছে
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমের শিক্ষা জগতে নৈরাজ্য চলছে, শিক্ষক নিয়োগ, বদলিকরণ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে
বিভিন্ন অব্যবস্থার ফলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সদ্য
প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য শিক্ষা জগতকে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারেননি। পরিস্থিতি ক্রমবনতি হচ্ছিল। প্রাক্তন সফল শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব
শর্মা পুনরায় শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে শৃঙ্খলা
বৃত্তে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আজ বিধানসভায়
প্রশ্নোত্তর পর্বে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন। শিক্ষকদের
নিযুক্তি ও বদলি নিয়ে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে এক কড়া আইনের কথা
জানালেন। জানালেন, একজন
শিক্ষককে নিয়োগ করার পর সংশ্লিষ্ট স্থানে অন্তত দশ বছর থাকতেই হবে। দশ বছর পরে
প্রয়োজন সাপেক্ষে বদলির ব্যবস্থা হবে। এই দশ বছরের মধ্যে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কোনো
অফিসার কাউকে বদলি করেন, তাকে এবং
যে শিক্ষককে বদলি করা হল তার তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তবে এই সময়ের
মধ্যে ব্যক্তিগত ‘মিউচাল’ করে কোনো শিক্ষককে বদলি করা হলে
তা অনুমোদন যোগ্য। দশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর নির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে অন লাইনে
আবেদন করার পর সংশ্লিষ্টব্যক্তিকে গৃহ জেলায় বদলি করা হতে পারে। বাজেট অধিবেশনের
পর বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল আনা হবে। শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার আপোষ করবে
না বলে শিক্ষামন্ত্রী ঠারে ঠোরে জানিয়ে দিলেন। বললেন, ২০১২ সালে নিযুক্তি পাওয়া টেট
শিক্ষকদের ২০২২ সালে গৃহ জেলায় নিযুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা রাজ্যের স্বাস্থ্য চিত্রের নানা দিক তুলে ধরে বলেন, বিগত সরকারের আমলে স্বাস্থ্য বিভাগ ভেঙে পড়েছিল। কোনো উন্নতি হয়নি। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মেডিক্যাল কলেজ, ১৮টি কেন্সার হাসপাতাল প্রভৃতি উন্নয়ন মূলক প্রকল্পগুলি সম্পূর্ণ হয়ে গেলে ডাক্তারের কোনো অভাব থাকবে না। তিনি এমবিবিএস ডাক্তারদের কমপক্ষে এক বছর গ্রামে গিয়ে কাজ করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান। যারা তা করবে না, তাদের এমবিবিএস সম্পূর্ণ করার সময়ের সরকারি খরচা দশ লক্ষ টাকা তাদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে। ডাক্তারদের নার্সিংহোমে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজের
ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস ও নার্সিংহোমে প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্ত ডাক্তারদের দিল্লির এইমস-এর সমতুল্য হারে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত করা হয়েছে। যারা সরকারের নির্দেশাবলী মেনে চলবে তাদেরইসুযোগ দেওয়া হবে। কংগ্রেসের অজন্তা নেওগের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা জানান, যে সব বিধায়ক ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের তাদের এলাকা উন্নয়নের অর্থের একশো শতাংশ কাজের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে তাদের পুরো টাকা সরকার দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু যারা ১৯১৮-১৯ অর্থ বর্ষের টাকার হিসাব দেয়নি তাদের পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। কাজ করার পরেও ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটনা দেওয়ার জন্য যে সব ডেপুটি কমিশনার দায়ী থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









কোন মন্তব্য নেই