ক্যাব-র বিরুদ্ধে বদরপুরের ছাত্র সমাজ ও সচেতন মহলের বিক্ষোভ
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, বদরপুর : ক্যাব-র বিরুদ্ধে বদরপুরের ছাত্র সমাজ ও সচেতন মহলের বিক্ষোভ।'কোন অবস্থায় এই বিল মেন নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত।
মোদি সরকার যেভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য নাগরিকত্ব সংশোধন বিল ক্যাব মন্ত্রীসভায় পাশ করে লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাশ দিতে চাইছেন টা মোটেও সমর্থন যোগ্য নয় ।দীর্ঘ চর্চিত নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল নিয়ে বিজেপির নোংরা রাজনীতির বিরুদ্ধে সমগ্র রাজ্যে উত্তাল পরিবেশ। গদিতে থাকা মোদী সরকার বিশ্বের দীর্ঘতম সংবিধান কে অবমাননা করে ধর্মের ভিত্তিতে এ দেশে সাম্প্রদায়িকতাকে আহ্বান জানিয়ে বিভাজনের সৃষ্টি করতে মরিয়া । বর্তমান নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখে আবার বিদেশিদের ভারতে নাগরিকত্ব দিয়ে এই সরকার রাজনৈতিক মুনাফা লাভ করতে উঠে পড়ে লেগেছে । এই সরকার বিদেশি শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ভারতীয়দের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে চায়। এহেন সংবিধান বিরোধী কার্যকলাপ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে রাজপথে ছাত্র সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এদিন পথে নামেন। কোন অবস্থায় এই জাতিধ্বংসী বিল অসমের কোন সচেতন মহল মেনে নেবে না। সমগ্র অসমের সঙ্গে বরাক উপত্যকায় ও এই আন্দোলন তীব্র হচ্ছে। শনিবার বদরপুর সার্কল অফিসে ছাত্র এবং এলাকার সুশীল সমাজ ক্যাব বাতিলের দাবিতে ধর্ণা দেন। বুন্দশীল জিপি সভাপতি হবিবুর রহমান,উমরপুর জিপি সভাপতি আসুক উদ্দিন, মনসুর ও সাইদুল ইসলাম,জেলা পরিষদ এনাম উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন,ফয়জুল হক,জিন্নুর নূর চৌধুরী,জাকির বেগ চৌধুরী উছামা মবরুর,সামিনুন রাজা চৌধুরী, ছাত্র দের পক্ষে গফুর আহমেদ, আব্বাস আহমেদ,ইমরান হুসেন, তাহির আহমেদ প্রমুখ।
বুন্দশীল জিপি সভাপতি হবিবুর রহমান প্রমুখর বক্তব্য, মোদী সরকার ধর্মীয় বিভাজনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি রাষ্ট্র থেকে আগত আনুমানিক শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রধানের যে সংস্থান আলোচ্য বিলে রেখেছেন তা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী এবং সংকীর্ণ রাজ নৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। নাগরিকত্ব সংশোধন বিল অর্থাৎ ক্যাব বাঙালি হিন্দুদের কেবল ভোট ব্যাংক হিসাবে ব্যাবহারের জন্য করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন বিলটি পাশ হলে ও পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন। উমরপুর জিপি সভাপতি আসুক উদ্দিন, বলেন নাগরিকত্ব সংশোধন বিলটি প্রায় বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তিনি আরও জানান এই বিলের মাধ্যমে আসলে বিজেপি সরকার আসামে ভোটের অঙ্ক খেলতে চাইছে। বাংলাদেশ থেকে আসামে যে অনেক হিন্দু চলে এসেছেন, তাদেরকে নাগরিকত্ব দিয়ে দেওয়া গেলে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্ক জোরদার হবে। ঘটনাচক্রে নাগরিক পঞ্জীথেকে যে লাখ লাখ হিন্দু বাঙালীর নাম বাদ পড়েছে, তাদেরও বিজেপি এটাই বোঝাচ্ছে যে নাগরিকত্ব বিল পাশ হয়ে গেলে তারা ভারতীয় হয়ে যেতে পারবেন।কিন্তু নাগরিক পঞ্জী থেকে যে কয়েক লক্ষ মুসলমান বাদ পড়েছেন, তাদের যে কী হবে, তা নিয়ে কোনও কথা বলে নি বিজেপি। বিলটি লোকসভা ও রাজ্যসভায় উপস্থাপন না করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট জোরালো দাবী জানান। বিলটি উপস্থাপন করলে ও যাতে পাস না হয় সে ব্যাপারে সকল বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের প্রতি সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন।









কোন মন্তব্য নেই