Header Ads

মৌমাছির গুন গুন নয় এবার কাঠের তৈরি জিরাফ দেখিয়ে বুনো হাতিদের কাবু করার চেষ্টা, শেষ পৰ্যন্ত ৫৫ জনকে খুন করা ঘাতক হাতি লাদেনকে ড্রোন শনাক্ত করল


 অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি

অসমে বনাঞ্চলের পরিমাণ ৩৫ শতাংশই বলে বন বিভাগ দাবি করলেও গভীর বনাঞ্চলের পরিমান মাত্র ৯ শতাংশ। রাজ্যের মুখ্য বন সংরক্ষক এএম সিং আকাশবাণীর এক অনুষ্ঠানে একথা জানান। কিন্তু রাজ্যে সৰ্বত্ৰ বন কেটে বসতি স্থাপনের ধুম পরে গেছে। ২০১১ সালে হাতি গণনা অনুযায়ী অসমে ৫৬৩০ টি হাতি আছে।বন ধ্বংসের ফলে প্রবল খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়েছে।

 ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল
 জঙ্গল ছেড়ে জনপদে দলে দলে হানা দিচ্ছে। বনাঞ্চলে হাতিদের অবাধে চলাচলের করিডোরগুলো সব ধ্বংস করা হচ্ছে। নুমলীগরে হাতিদের করিডোরে সরকারি আনুকূল্যে পতঞ্জলি কারখানা স্থাপন করেছে। এই এলাকায় বিরাট প্রাচীর দেওয়া হয়েছে। বুনো হাতীরা বার বার বাধা প্রাপ্ত হয়ে মারা পড়ছে। ৩,৪ টি হাতি গৰ্তে পরে মারা গেছে। এখন ধান ভরা ফসল ক্ষেতে প্রতিদিন ওদালগুড়ি, গোয়ালপাড়া, গোলাঘাট প্রভৃতি জেলাতে হাতি মানুষের সংঘাত চরম রূপ ধারণ করেছে। 

গতকাল ডিব্ৰুগড়ে বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে দুটি হাতির করুন মৃত্যু হয়েছে, রংজুলিতে একটি হাতির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের রঙিয়া ডিভিশন হাতিদের করিডোর গুলোতে মৌমাছির গুন গুন শব্দ শুনিয়ে হাতিদের ভয় দেখিয়ে অন্য পথে ডাইভার্ট করার প্রয়াস কিছুটা সফল হয়েছে। লাউডস্পীকারে মৌমাছির  গুন গুন শব্দে বুনো হাতীরা কিছুটা বিচলিত হলেও,পরে গোঁ ধরে বসে থাকছে। হাতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে নুমলীগর অঞ্চলের ধলাগুড়ি চা বাগান কাঠের জিরাফ তৈরি করে বাগানে হাতি চলাচলের করিডোরে জিরাফটি রেখে দেয়। হাতির দল এসে দুদিন ভয়ে সরে গিয়েছিল। তারপর তা ভেঙে দেয়। 

আফ্রিকার হাতিরা জিরাফকে ভয় পায় এই রকম ধারণা করেই কাঠের নির্মিত জিরাফটি বসানো হয়েছিল। গত তিন বছর চেষ্টা করেও ৫৫  জন মানুষকে খুন করা লাদেন নামে হাতি টিকে বন বিভাগ ধরতে পারছে না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে বন বিভাগ নড়ে চড়ে বসে। এক কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার ড্ৰোন ব্যবহার করে ঘাতক হাতিটিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। মানস বনাঞ্চলের গভীরে হাতিটিকে ঘুরতে দেখা গেছে। ট্রাঙ্কুলাইজার  গুলি ছুড়ে লাদেনকে কাবু করে ধরার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের কড়া আদেশ কি ভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে বন বিভাগ।


No comments

Powered by Blogger.