Header Ads

মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে নতুন অভিযোগ শিবসেনার



বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের

মহারাষ্ট্রে টাকার খেলায় মেতেছে 
বিজেপি, অভিযোগ শিবসেনার !!
মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে নতুন অভিযোগ শিবসেনার। সরকার গঠনের জন্য বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগ এনে বিজেপি-কে তোপ দেগেছে সেনা শিবির। শিবসেনার মুখপত্র সামনার একটি প্রতিবেদনে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে লেখা হয়েছে যে মহারাষ্ট্রের জনগণ রাজ্যে শিবসেনার থেকে মুখ্যমন্ত্রী চায়। কিন্তু জনগণের এই ইচ্ছেকে সম্মান না জানিয়ে বিজেপি টাকার খেলায় মেতেছে।
সামনার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, "কিছু লোক আছেন যারা টাকার ক্ষমতা প্রদর্শন করে জয়ী শিবসেনা বিধায়কদের কেনার চেষ্টা করছে। এরকম অভিযোগ ক্রমশই বাড়ছে। কিন্তু শিবসেনা মহারাষ্ট্রে এই অনৈতিক রাজনীতি হতে দেবে না। পূর্বতন সরকার টাকার ক্ষমতা দেখিয়ে নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা করছে। কিন্তু তারা কৃষকদের সাহায্য করার কথা ভাবছে না। মহারাষ্ট্রের কৃষকরা শিবসেনার মুখ্যমন্ত্রী চায়।"
শিবসেনার বিজেপির বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের মুখপাত্র সচিন সেখাওয়াত বলেন, "শিবসেনা মহারাষ্ট্রে বিজেপির জোটসঙ্গী। যদি তারা ভয় পেয়ে অভইযোগ আনে যে বিজেপি তাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা রইল না যে বিজেপি কোন অনৈতিক ভঙ্গিতে রাজনীতি করে। বিজেপি থেকে মহারাষ্ট্রকে বাঁচাতে হবে আমাদের। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি-সেনা জোটের কি সরকার গঠন করার কোনও নৈতিক অধিকার রয়েছে?"
এদিকে মহারাষ্ট্রের বিজেপি মন্ত্রী সুধীর মুঙঅগান্তিওয়ারের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছে সেনা শিবির। এর আগে সুধীর বলেছিলেন যে মাহারাষ্ট্রের জন্য সুখবর আসতে চলেছে। এই বিষয়ে সেনার পক্ষ থেকে বলা হয়, "সুধীর মুঙ্গান্তিওয়ার ভালো খবরের কথা বলছেন কিন্তু তিনি কোনও সংখ্যার উল্লেখ করছেন না। মহারাষ্ট্রের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার নেই। সেনা সব পরিস্থিতিতে তরোয়াল নিয়ে প্রস্তুত।"
ফলাফল প্রকাশের ১৪ দিন পরেও সরকার গঠন করা সম্ভব হয়নি মহারাষ্ট্রে। মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে তরজার মাঝে বেড়ে ছলেছে রাজনৈতিক চাপানউতর। বিজেপির সঙ্গে ক্রমশই বাড়ছে শিবসেনার দূরত্ব। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সুধীর বলেন যে বৃহস্পতিবার বিজেপির এক প্রতিনিধি দল রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে।
সদ্যপ্রকাশিত মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছে ১০৫টি আসন, শিবসেনার ঝুলিতে এসেছে ৫৬টি আসন। ২৮৮ আসন বিশিষ্ট মহারাষ্ট্র বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৫টি আসন। দুই দলের সম্মিলিত সংখ্যা খুব সহজেই ম্যাজিক ফিগার অতিক্রম করেছে। কিন্তু সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বাধ সেধেছে সেনার মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি। ফলপ্রকাশের পরেই সেনা ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলা নিয়ে সরব হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৮ নভেম্বর। এখন দেখার কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।

No comments

Powered by Blogger.