Header Ads

‘বিদেশি’ দুলাল চন্দ্র পালকে স্বদেশী ঘোষণা করতেই হবে, নতুবা আত্মহত্যা করার হুমকি পাল পরিবারের

 অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি

অসমের শোণিতপুর জেলার ঢেকিয়াজুলির কাছে আলিশিঙা গ্রামের  দারিদ্র্যপীড়িত সহায় সম্বলহীন দুলাল চন্দ্র পালের পরিবার অপরদিকে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্র, ন্যায় বিচারের আশা নিয়ে আজ সাত দিন ধরে একক যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। সরকারের নানা চাপ, অপমান মুখ বুঝে মেনে নিয়েও বিদেশি বাবা দুলাল চন্দ্র পালকে স্বদেশী করে কলঙ্কমুক্ত করে সৎকার করার কথা দু দু মন্ত্রীকে ঠারেঠোরে জানিয়ে দিলেন। তিন পুত্র আশীষ, অশোক, রোহিত মন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য এবং রঞ্জিত দত্তের কাছে মাথা নত করেনি।

বিজেপি আমলে বাঙালিদের যে ভাবে অপদস্থ, অপমানিত হতে হচ্ছে, পাল পরিবারের মতো দু চারজন প্রতিবাদী কণ্ঠ থাকলে স্বদেশীকে বিদেশি বানিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্প ছুড়ে ফেলার সাহস দেখাতে পারতো না। আলিসিঙ্গা গ্রামের মানুষ  যখন ঘুমিয়ে পড়েছে, রাত প্রায় ১০টা, দুই মন্ত্রী এসেই হাত জোড় করে কাকুতি মিনতি করে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ৬ দিন থেকে পরে থাকা বিদেশি বাবা দুলাল চন্দ্র পালের মৃতদেহ সমঝে নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 দুই মন্ত্রী জানান বিদেশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে বিদেশি করা হয়েছে। একমাত্র বিদেশি ট্রাইবুন্যাল তা প্রত্যাহার করতে পারবে, তারা অসহায়, সরকার পাল পরিবারকে আইনের সাহায্য দেবে। এর জবাবে আশীষ বাবুরা মন্ত্রীদ্বয়কে সোজাসুজি জানিয়ে দেন তারা শুধু সাতদিন ফল জল খেয়ে আছেন, বাবাকে বিদেশির কলংক নিয়ে সৎকার করবো না, বাবাকে স্বদেশী ঘোষণা করতে হবেই, নতুবা আমরা সবাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবো। এমনই অনড়, এমনই সিদ্ধান্তের কথা বড় ছেলে আশীষ পাল জানালেন। বরাক উপত্যকা ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমোনি, সহ রাজ্যের বিভিন্ন   সংগঠন পাল পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিশিষ্ট আইনজীবী সহদেব দাস জানান, অসম সরকারের নির্দেশে বিদেশি ট্ৰাইব্যুনালগুলো গঠন করা তা কোয়াশী জুডিসিয়াল,সরকার মনে করলে যে কোনোও দিন বিদেশিকে স্বদেশী ঘোষণা করতে পারে, আইনগত বাধা নেই। কিন্তু সরকার করবে না। রাতে জানা গেল দুলাল চন্দ্র পালের বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর পাল পরিবারের কাছে যাওয়ার কথা আছে।  রাজ্য সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.