Header Ads

বিদেশী দুলাল চন্দ্র পালের মৃতদেহ পরিবার গ্রহণ করবে না, ৬ দিন পরেও মৃতদেহ মর্গে

অমল গুপ্ত,
গুয়াহাটিঃ বড় দুর্ভাগ্য যে অত্যন্ত গরীব শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি দুলাল চন্দ্র পাল স্বদেশী হওয়া সত্ত্বেও আজ মৃত্যুর ৬ দিন পরেও বিদেশী হয়ে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (জিএমসিএইচ) অনাদরে পড়ে আছেন। তাঁর পুত্র আশীষ পাল আজ এই প্রতিবেদককে জানালেন যে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার বাবাকে ভারতীয় নাগরিক হিসাবে গ্রহণ করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা মৃতদেহকে সৎকারের জন্য গ্রহণ করব না। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের পক্ষ থেকেও আমাদের বাড়িতে দুজন বিধায়ক এসেছিলেন বিজয় সিংহল ও গণেশ লিম্বু । তারা আমাদেরকে মৃতদেহ গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেন এবং সেই সাথে একটি সাদা কাগজ ধরিয়ে দেয় স্বাক্ষর করার জন্য। সেখানে বলা হয়েছে যে আমরা "বিদেশী 'দুলাল চন্দ্র পালের মৃতদেহ গ্রহণ করলাম। ওদিকে শোনিতপুর জেলার ঢেকীয়া জুলির কাছে আলীসিঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা প্রণ করেছেন যে তারা "বিদেশীর" দেহ  গ্রামে সৎকার করতে দেবে না । গ্রামের মানুষরা বলেন যে আমরা তীব্র ভাষায় এর প্রতিবাদ করছি। আশীষ পাল জানান যে  আমাদের গ্রামের মানুষ একজোট হয়েছে। কারণ এই ঘটনা তে আমাদের গ্রামেরই বদনাম হবে।





 দুলাল তাঁর বাবা রাজেন্দ্র চন্দ্র পালের ১৯৬৫ সালের জমির দলিলের প্রতিলিপি রয়েছে। মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বাংলাদেশী বানানো হয় এবং তেজপুরের জেলে তাঁকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকদেরও জানানো হয়নি। তেজপুর জেলে দীর্ঘ দুই বছর তাঁকে আটকে রাখা হয়। আশীষ বাবু জানান যে আমার বাবা ডায়াবেটিক পেশেন্ট ছিলেন ও তাঁর মানসিক অবস্থা ভাল ছিল না । অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ( জিএমসিএইচ ) নিয়ে আসা হয় , এরপর আমাদের খবর দেওয়া হয় ।সেখানে গিয়ে  আমরা দেখি যে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজের করিডোরে অবহেলিতভাবে পড়ে আছেন তিনি ।এই ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। অল ইন্ডিয়া বেঙ্গলি অরগানাইজেশন সাধারণ সম্পাদক মানস রায় এই ঘটনাটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে এনেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে তারা খোঁজখবর শুরু করেছেন। ওদিকে বিদেশী এক টিভি চ্যানেল আজ নিম্ন অসমের চিরাং জেলার মধুবালা মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে মধুবালার সাথে তার বোবা মেয়ে বাসন্তী মণ্ডল আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  মধুবালা মণ্ডলকে বিনা দোষে ৩ বছর আটকে রাখা হয় । অসম সরকার এর কোনও ক্ষতিপূরণ দেয়নি ,উপরন্তু এত বড় ভুলের জন্য ক্ষমা চায়নি ।এটা মানবিকতা লঙ্ঘনের চূড়ান্ত নিদর্শন ।এদিকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী জানাচ্ছেন যে দুলাল চন্দ্র পালের ক্ষেত্রে সরকার মানবিকতা নিয়েই বিষয়টি দেখছে। কিন্তু যেহেতু বিদেশী ট্রাইব্যুনালের হাতে এটা রয়েছে তাই আমাদের হাত বাঁধা। সারা আসাম বেঙ্গলি যুব ছাত্র ফেডারেশনের ও আমসু যৌথভাবে আজও প্রতিবাদ আন্দোলন করেছে। তারা দাবি তুলেছে যে মুখ্যমন্ত্রী কী একবারও দুলাল চন্দ্র পালের শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে যেতে পারতেন না? রাজ্যের বিশিষ্ট আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেছেন যে সরকার ইচ্ছে করলেই তাদের নিজেদের আইনে পরিবর্তন করতে পারে ও  তথা কথিত বিদেশীকে ভারতীয় বানিয়ে সম্মানটুকু দিতে পারতেন এক্ষেত্রে তাদের বাধা থাকবেই বা কেন ?একটা মানুষের মৃতদেহ নিয়ে ঘৃণ্য  রাজনীতি অসমেই সম্ভব।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.