Header Ads

ঘোর অমাবস্যায় পাকিস্তানে আরাধনা হয় দেবী কালীর !

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : নিশি রাত৷ মুখ লুকিয়েছে চাঁদ৷ পঞ্জিকা অনুসারে ঘোর অমাবস্যা৷ নিশি রাতে পূজিত হন দেবী কালিকা৷ অশুভ শক্তিকে দূর করতে চারিদিকে প্রদীপ-মোমবাতির আলোর মালা৷ দীপাবলী৷ এই আলোর উৎসবে সামিল পাকিস্তানও ! ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত দেশটিতে প্রাচীন কালী বন্দনা হয়৷ স্থান বিতর্কিত বালোচিস্তান৷ যেখানে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সরকারের চিন্তার কারণ৷
পাকিস্তানে পূজিত কালীর সঙ্গে জড়িত প্রাচীন স্থাপত্য, স্বাধীন নবাব বংশ, দেশভাগ ও ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু সমাজের কথা৷ অবিভক্ত ভারত৷ তার সঙ্গে ছিল আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকা৷ সেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের এক দেশীয় রাজ্য কালাত খানত৷ ১৬৬৬ সালে এই দেশীয় রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়৷ 
স্বাধীনতার পর বালোচ প্রদেশ পাকিস্তানের মাটিতে পড়ে যায়৷ ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, পাকিস্তানে নয়  ভারতের সঙ্গেই যুক্ত হতে ইচ্ছুক ছিল কালাতের বাসিন্দারা৷ দিল্লিতে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন কালাতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব৷ ভৌগলিক কারণেই তা সম্ভব নয়--এই বলে তাঁদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেওয়া হয়৷ পরে পাকিস্তানের মাটিতেই এক দশক রাজত্ব চালায় কালাতের নবাব বংশ৷ শেষপর্যন্ত  ১৯৫৫ সালে পাক সরকারের আনুগত্য স্বীকার করেন তাঁরা৷ এসব ঘটনা নিয়েই পরিচিত বালোচিস্তানের কালাত৷ তার ইতিহাসের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কালী মন্দির৷ ধর্ম নিরপেক্ষতার নিদর্শন রেখেই স্থানীয় কালী মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণ করতেন কালাতের নবাবরা৷ পাকিস্তান পুরাতত্ত্ব বিভাগের মতে কালাতের গুরুত্বপূর্ণ শহর মনোরা৷ কালী মন্দিরটি এই শহরেই অবস্থিত৷ 
 সংখ্যালঘু সমাজের অন্যতম ধর্মীয় স্থান৷ প্রচলিত ধারণা, মন্দিরটি হাজার বছরের প্রাচীন৷ মূলত হিন্দু বণিকদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল৷ পারস্য পর্যন্ত সম্প্রসারিত ছিল তাদের বাণিজ্য৷ পঞ্চাশের দশকে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়৷ পাকিস্তান পুরাতত্ত্ব বিভাগের দাবি, ষোড়শ শতকে কালাতের মনোরা শহরে এসেছিলেন ভোজমল ভাটিয়া নামে এক ব্যক্তি৷ তিনি কাঠের তৈরি মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন৷ সেই থেকে নিয়মিত কালী পুজো হচ্ছে৷
পাকিস্তানের সিন্ধু ও বালোচিস্তান দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ৷ করাচি ও কোয়েটা হল দুই প্রদেশের রাজধানী৷ এখানে সংখ্যালঘু হিন্দুরা প্রভাবশালী৷ এই দুই প্রদেশেই রয়েছে বিভিন্ন মন্দির ও শিখ উপাসনাস্থল৷ যার অন্যতম কালাত কালী মন্দির৷

No comments

Powered by Blogger.