একটা বুথে ২০ জনই যথেষ্ট তৃণমূলের ! পুরভোটে বাজিমাত করতে ‘টিম’ গড়ছেন পিকে
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : ২০২১-এ তৃণমূলকে ফের জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে ২ লক্ষ কর্মী চেয়েছিলেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। এবার ছোট লালবাড়ি দখলে রাখতেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মতোই কলকাতা পুরসভা ও অন্যান্য পুরসভা ভোটে জিততে বুথভিত্তিক রণকৌশলও তৈরি হয়ে গিয়েছে। তৈরি হয়ে গিয়েছে নয়া বাহিনী।
আগামী বছর রাজ্যের ১০৭টি পুরসভা ও পুরনিগমে ভোট। সেই ভোটের আগে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো অঙ্ক কষে এগনোর চেষ্টা করছে। বসে নেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসও। ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলায় জোর দিচ্ছেন।
ওয়ার্ডভিত্তিক স্থানীয় নেতা-কাউন্সিলরদের মনোভাব জানতেও সমীক্ষা চালানোর কথা ভেবেছেন প্রশান্ত কিশোর। কার প্রতি কেমন মনোভাব, কাকে টিকিট দেওয়া সমীচিন হবে, কার ভাবমূর্তি কেমন- সবকিছুই তিনি সমীক্ষা চালিয়ে দেখে নিতে চাইছেন। পুরসভা ভোট স্থালীয় এলাকার উন্নয়নের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। তাও খতিয়ে দেখবে প্রশান্ত-বাহিনী।
এছাড়াও বুথভিত্তিক ২০ জন সক্রিয় কর্মীকে তিনি বেছে নিতে চাইছেন। প্রতি ওয়ার্ডে একটা দল তৈরি করে তাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হবে। প্রতি ওয়ার্ড সভাপতিকে ৫ থেকে ২০ জনের নাম দিতে বলা হয়েছে। পরে আরও নাম চাওয়া হতে পারে। তাঁদেরকে বেছে নেবেন প্রশান্ত কিশোর নিজে।
ওই ২০ জনের নামের তালিকা ও ঠিকানা ১০ দিনের মধ্যে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওয়ার্ড ও ব্লক সভাপতিদের। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, এই তালিকায় যেন সমস্ত শ্রেণির মানুষ থাকে। দলীয় নিচুতলার কর্মী ছাড়াও রাজনীতির বাইরে থাকা বিশিষ্ট মানুষেরা যেন থাকেন এই তালিকায়।
এর পাশাপাশি বুথভিত্তিক তিনজনের একটি কমিটিও গঠন করা হবে। সেই নামও চেয়ে পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যে। এদের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ রাখবে শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রয়োজনে এঁদের কাছ থেকে খোঁজ খবর নেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এইভাবেই নিচুতলার সঙ্গে শীর্ষনেতৃত্বের যোগসাধনও হবে।
এই মর্মে জেলা সভাপতি ও ব্লক সভাপতিদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে। তৃণমূল ভবনে এই বৈঠকেই ওই নামের তালিকা নিয়ে আরও বিস্তারিত জানানো হবে সভাপতিদের। প্রতি বুথে যে তিনজনের কমিটি তৈরি করা হবে, তাঁদের উপরই সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে।
কীভাবে হবে এই সমীক্ষা? তার আভাসও মিলেছে। টিম পিকে কমিটির তিনজনকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে মানুষের মনোভাব শুনবে। প্রয়োজনে ফোন করেও এই প্রক্রিয়া চালানো হবে। সেই মতোই রিপোর্ট তৈরি করে জমা পড়বে তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে। সেইমতোই তৈরি হবে পুরভোটের প্রার্থী তালিকা।
এইভাবেই বুথভিত্তিক টিম তৈরিও হয়ে যাবে ২০২১-এর। ওয়ার্ডের সমস্ত বুথে এবং ব্লকের সমস্ত বুথে তিনজন করে সক্রিয় কর্মীকে নিয়ে গড়া হবে কমিটি। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে এই বুথ ভিত্তিক ‘টিম' তৈরির কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানান, জনসংযোগ কর্মসূচির সঙ্গে এই বুথভিত্তিক টিম তৈরি করা হবে।
তিনি আগেই দলের অন্দরে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, জনসংযোগ কর্মসূচির সঙ্গেই প্রতি বুথে অন্তত তিনজন সক্রিয় কর্মী চাই। বিধায়ক ও স্থানীয় নেতৃত্বকে এই দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি জানান। যেখানে বিধায়ক নেই, সেখানে জেলা সভাপতি বা অন্য স্থানীয় নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে এই কাজে। এই কর্মীদের দিয়েই বুথ স্তরে টিম তৈরি হবে।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ‘দিদিকে বলো' কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংযোগ চালাচ্ছে। এই কর্মসূচিরও প্রণেতা প্রশান্ত কিশোর। এরপর দিদিকে বলোতে ভালোই সাড়া মিলেছে। এবার নতুন এই টিম তৈরির কাজ জনসংযোগের সঙ্গেই চলবে বলে জানান তিনি।









কোন মন্তব্য নেই