সিপিএম-এর মতোই 'ঐতিহাসিক' ভুল টিডিপির ! উপলব্ধি চন্দ্রবাবু নাইডুর
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : সাধারণ নির্বাচনের এক বছর আগে তাঁর এনডিএ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। প্রথমবারের জন্য নিজের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করেছেন চন্দ্রবাবু নাইডু। ২০১৮-র মে মাসে তাঁর ওই সিদ্ধান্তের জন্যই বিধানসভার পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনে টিডিপির ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
বিশাখাপত্তনমে দলের বর্ষীয়ান নেতা এবং সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে দলের অবস্থার পর্যালোচনায় বসেছিলেন টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। যে দল গত ৫ বছর রাজ্য শাসন করেছে, সেই দল বিধানসভায় ১৭৫ আসনের মধ্যে মাত্র ২৩ টি আসন দখল করেছে। অন্যদিকে সাংসদ সংখ্যা নেমে গিয়েছে তিন-এ। নাইডু বলেছেন, তিনি কখনই ভাবতে পারেননি দলের ফল এত খারাপ হবে।
চন্দ্রবাবু বলেছেন, অন্ধ্রের জন্য বিশেষ মর্যাদার দাবিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ত্যাগ করেছিল টিডিপি। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বড় ধাক্কা দিয়েছে। কেন্দ্রের অসহযোগিতার জেরে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, ঠিক তেমনই রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা হারিয়েছে টিডিপি। দলের হার নিয়ে একাধিক সমীক্ষা করিয়েছেন তিনি। বিজেপির সঙ্গ ছাড়ার পর সারা দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিলেন তিনি। বন্ধুত্ব করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এইচডি দেবেগৌড়া, অরবিন্দ কেজরিওয়ালদের সঙ্গে।
নাইডু শুধু এনডিএ সরকার থেকে দলকে সরিয়ে নেননি, তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছিলেন। ডিসেম্বরে তেলেঙ্গানায় বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন মহাকুটামিতে যোগ দিয়েছিল টিডিপি। যদিও সেখানে ফের ক্ষমতায় আসে টিআরএস।
চন্দ্রবাবু নাইডুর শিবির পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত খানিকটা মিলে যায় ২০০৭ সালে প্রথম ইউপিএ সরকারের ওপর থেকে সিপিএমের সমর্থন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে। ২০০৭ সালের সেই সিদ্ধান্তই সিপিএমকে কার্যত পশ্চিমবঙ্গ থেকে ক্ষমতাচ্যুত করে প্রায় মুছে দিয়েছে, যেমনটি করেছে অন্ধ্রপ্রদেশে টিডিপিকে। সিপিএম-এর ক্ষেত্রে প্রথম ধাক্কা লেগেছিল ২০০৯ সালে--একধাক্কায় লোকসভা আসন ১৫-এ নেমে গিয়েছিল। পরবর্তী কালে ২০১১ সালে তৃণমূলের কাছে অত্যন্ত লজ্জাজনক ভাবে পরাজিত হয় তারা।









কোন মন্তব্য নেই