Header Ads

বশারত আলী পুটলাপুটলি নিয়ে বদরপুর রেল স্টেশনে




নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, বদরপুরঃ বার্ধক্য যে বোঝা হয়ে দাঁড়াবে তা আগে ঘুণাক্ষরেও ভাবতেও পারেননি আশীর্দ্ধো বশারত আলী। এক সময় সমর্থ দুটি হাত দিয়ে কত লোকের ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। আজ অশক্ত বশারত-কে দেখার কেউ নেই। ঘাড়ের বোঝা ঝেড়ে ফেলতে আত্মীয়রা তাকে পোটলা পুটলি সহ রেল স্টেশনে পৌছে দিয়ে গেছে। বুধবার সকাল থেকে বদরপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ঢোকার মুখে প্রধান দরজার সামনে এক কোনায় ঠাঁই হয়েছে কাছাড়ের শেয়ালটেকের কাছে ফুলবাড়ির বাসিন্দা বসারত আলির। জায়গাটা ঠিক সেটাই যেখানে গত জুন মাসে বৃদ্ধাশ্রমে যাওয়ায় আগে সন্তান পরিত্যক্তা লক্ষী সেনের ঠাঁই হয়েছিল। লক্ষীকে এখানে পৌঁছে দিয়েছিল নিজের গর্ভজাত সন্তানেরা আর বশারতকে পৌঁছে দিয়েছে  আত্মীয়রা। অকৃতদার বশারতের বয়স প্রায় পঁচাশি। এক সময় দিন মজুরের কাজ করতেন। ঘরামি অর্থ্যাৎ মানুষের বাঁশ বেতের ঘর তৈরি করে দিতেন তিনি। এ ব্যপারে ভাল কারিগর হিসেবে এলাকায় নামডাক ছিল।  এখন বয়সের ভারে ন্যুজ্জ। ডান পা প্রায় অকেজো। চলাফেরা করতে বড় কষ্ট হয়। এই অবস্থায় আত্মীয়রাও আর তাকে দেখতে রাজি নয়। বোঝা ঝেড়ে ফেলতে তাই তাকে ফেলে গেছে বদরপূর রেল স্টেশনে। সারা দিন অভূক্ত বশারত আলি যখন তাঁর দূর্দশার কথা বলছিলেন তখন তাঁর দু চোখ বেয়ে অঝরে জলধারা নামছিল। যে আত্মীয়রা তাকে আজ ঝেড়ে ফেলছেন, এদের অনেককেই অকৃতদার এই বৃদ্ধ কোলে পিঠে করেছেন। আজ তিনি বোঝা ! তবে এক সময় খেটে খাওয়া বশারত আলির আত্মসম্মান বোধ প্রবল। সারা দিন অভূক্ত থাকলেও কারো কাছে হাত পাতেননি। কাল কি ভাবে চলবে জিজ্ঞেস করতে  ছোট্ট উত্তর  "এক মাত্র আল্লাহ ভরসা। "

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.