Header Ads

জলবায়ু পরিবর্তন ,রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্ব নেতাদের এক কিশোরীর প্রশ্ন ,'আপনাদের সাহস কিভাবে হলো ?আপনারা আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।আমরা বিলুপ্তির পথে চলতে শুরু করেছি



দেবযানী পাটিকর ।গ্রেটা থুনবার্গ। বয়স ১৬ বছর। রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতাদের সামনে সাহসী গ্রেটা প্রশ্ন করে,' আপনারা আমাদের স্বপ্ন হরণ করেছেন। বিশ্বের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে ,আর আপনারা ব্যর্থই শুধু অর্থ ও অর্থনৈতিক উন্নতির উপর গল্প করে যাচ্ছেন।"
সোমবার নিউইয়র্কের রাষ্ট্রসঙ্ঘের জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর শীর্ষ সম্মেলনে নিজের ভাষণে এই কিশোরী বিশ্বের বড় বড় নেতাদের লজ্জা নত করল। সুইডেনেরএই কিশোরী একজন  পরিবেশ কর্মী।বিশ্বের নেতারা গ্রীনহাউস নির্গমের থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করে গ্রেটা। বিশ্বের নেতাদেরকে কিশোরী প্রশ্ন করে আপনারা এমন করতে সাহস কিভাবে পেলেন? গ্রেটা বলে যে যুব প্রজন্ম বুঝতে পেরেছে জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যার ক্ষেত্রে আপনারা আমাদের প্রবঞ্চনা করেছেন। আপনারা যদি   কিছুই না করেন তাহলে যুব প্রজন্ম কাউকে ক্ষমা করবে না।
 উল্লেখ্য যে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত 'জলবায়ুর ব্যবস্থা গ্রহণ শীর্ষক বৈঠকে"  আমন্ত্রিত বক্তা হিসাবে কথা বলার সুযোগ পেয়ে একথা বলেছেন গ্রেটা থুনবার্গ। গ্রেটার আহবানে ১৫০ টি দেশের লাখ লাখ মানুষ জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে গ্রেটা বলে যেখানে আপনারা আমাদের স্বপ্ন ,শৈশব ,অত্যন্ত নিষ্ঠুরতার সাথে ছিনিয়ে নিয়েছেন। গ্রেটা বলে আমি এখনো ভাগ্যশালী।  কিন্তু মানুষ কষ্ট পাচ্ছে, মৃত্যুবরণ করছে ,সম্পূর্ণ পরিবেশ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়ে  পড়েছে। 

গ্রেটা বলে আমরা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছি, আর আপনারা শুধু টাকা পয়সার ও আর্থিক বিকাশের কাল্পনিক কথাকে নিয়ে আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। আপনারা এই সাহস পেলেন কোথা থেকে? গ্রেটা বলে যে আপনারা আমাদের নিরাশ করেছেন, কিন্তু যুব প্রজন্ম আপনাদের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে আরম্ভ করেছে ।গ্রেটা আরো বলে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দৃষ্টি আপনাদের ওপর রয়েছে ।আর যদি আপনারা আমাদের নিরাশ করেন তাহলে আমি বলছি যে আমরা আপনাদের কখনো ক্ষমা করব না। 


সোমবার বিশ্বের নেতাদের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলার সুযোগ পেয়েছিল গ্রেটা । বিশ্বের নেতাদের দিকে তাকিয়ে সে বলে ,আপনারা আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন ,আমি এখানে এসেছি শুধু এ কথা বলতে মনে রাখবেন আপনারা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন আমরা তার ওপর নজর রাখব।
উল্লেখ্য যে গ্রেটা থুনবার্গ এমন এক পরিবেশ কর্মী ,যে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে সমগ্র বিশ্বে সজাগতা সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। আর গ্রেটা রাজনৈতিক নেতাদের জলবায়ু সংকটের ওপর ব্যবস্থা গ্রহণে গুরুত্ব না দেওয়ার জন্য দায়ী করেছে। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে মাত্র ১৫ বছরের  গ্রেটা থুনবার্গ সুইডিশ সংসদের বাইরে প্রদর্শনের জন্য স্কুল থেকে ছুটি নেয়।তার এই  আন্দোলনে স্কুলের অনেক ছাত্র ছাত্রীদের যোগদান করে। গ্রেটার একথা শুনে সাধারণ পরিষদের হলে থাকা সমস্ত বিশ্বের নেতারা প্রথমে হেসে ওঠেন। এরপর গ্রেটা তাদের উদ্দেশ্যে বলে আপনারা বলেছেন তরুণদের কাছ থেকে আপনারা আশার পথ খুঁজতে এসেছেন, এ কথা বলার সাহস পান কোত্থেকে ?গ্রেটার প্রশ্ন শুনে চুপ হয়ে উঠছিল বিশ্বের নেতারা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়ল  মাথো নিজের বক্তব্যে বিশ্বনেতাদের স্মরণ করিয়ে দিলেন যে এই মেয়েটি প্রায় এক বছরে প্রতি শুক্রবার স্কুলে যাওয়ার পরিবর্তে পরিবেশ সংকট সমাধানের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে।তার এই বিক্ষোভ  এখন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনীয় গুতেরেস বলেন "আমাদের প্রজন্ম বিশ্বকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ।যে জলবায়ু সম্পর্কে আমরা নিক্ষিপ্ত হয়েছি, তাতে আমরা পিছিয়ে পড়ছি, কিন্তু এই দৌড়ে জয়লাভ করা অসম্ভব নয়।" গ্রেটার ভাষণের পর বিশ্ব নেতাদের অনেকেই তাকে অভিনন্দন জানান । উল্লেখ্য যে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত সম্মেলনে গ্রেটার ভাষণ ভীষণভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে সরকারি পর্যায়ে  মোকাবেলার যথেষ্ট উদ্যোগ এখনো দেখা যাচ্ছেনা ।আনুষ্ঠানিকতার মাঝে আটকে রয়েছে সব। অনেক রাজনৈতিক নেতারা অর্থনৈতিক স্বার্থের দোহাই দিয়েও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব কমিয়ে দেখাচ্ছেন। ঠিক এই মনোভাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রেটা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.