অসমের জাগিরোড-এর ২০ টি গ্রামের ৭ হাজার বাঙালি শরনার্থীর নাম বাদ
৫০, ৬০ বছরের পুরনো বাসিন্দারা বিদেশি ট্রাইব্যুনালের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
অসমের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা ধুবড়ি,১৩৪ কিলোমিটার সীমান্ত, তারমধ্যে ৪৫ কিলোমিটার জল সীমান্ত, বাকিটা স্থল সীমান্ত, জল সীমান্ত উন্মুক্ত, স্থল সীমান্তের অনেক এলাকা কাগজে কলমে কাঁটা তারের বেড়া থাকলেও অধিকাংশ সীমান্ত খোলা। অবৈধ অনুপ্রবেশ অব্যাহত, বাংলাদেশের গরু চালান কেউ বন্ধ করতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের নিকটবর্তী ধুবড়িকে ট্রানজিট করিডোর হিসাবে অস্ত্র, জালনোট, মাদকদ্রব্য প্রভৃতি চোরা চালানের জন্যে ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশয়ের কাছে বহু অভিযোগ রয়েছে। ১৯ লাখেরও বেশি সংখ্যালঘুঅধ্যুষিত জেলার জনসংখ্যার জেলায় কয়েক শো চর অঞ্চল, অত্যন্ত অনগ্রসর জেলা, প্রায় ৮৫ শতাংশ নিরক্ষর মানুষ। জন্যসংখ্যা বৃদ্ধির হার এক দশকে ২৪, ৪৪ শতাংশ।
ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল
এই জেলায় এনআরসি তালিকা থেকে মাত্র ৬,৭ শতাংশ বাদ পড়েছে , ধুবড়ি থেকে একসূত্র এই তথ্য দিয়ে জানান,ধুবড়ি পুরসভায় ১৬ টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৫ হাজার হিন্দু মানুষের নাম বাদ গেছে। এদিকে জাগিরোড নির্বাচন কেন্দ্রের অধীন মায়ঙ থানার অন্তৰ্গত বুড়াবুড়ি, কুসুমপুর,পালুরিয়া দিবে, খোলেনি, পাথালি পাহাড়, গরুমারা দলনি, নরালবাড়ী, শিমুলতলা প্রভৃতি ২০ টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার গরিব বাঙালির নাম এনআরসি তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আজ ওই গ্রামগুলোর ভুক্তভোগী মানুষ অভিযোগ করেন। ৫০, ৬০ বছর আগে ধর্মীয় নির্যাতনের বলি হয়ে এই রাজ্যে এসেছিল,সরকার শরণার্থী সার্টিফিকেট, মাটির নথি দিয়েছিল। সেইসব বুহু পুরনো নথিপত্র দেখানোর পরও তা বাতিল করে দেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ বিদেশি ট্রাইব্যুনালের প্রতি তাদের বিশ্বাস নেই, নথিপত্র নয়, বাঙালি হলেই তাদের নাম কেটে দেবে।
অসমে ৭০ টি সংগঠন অসমের পার্মানেন্ট বাসিন্দা বাংলাভাষী মানুষদের হিন্দু বাংলাদেশি বলে অপমান করার পর এনআরসি সেবা কেন্দ্রগুলোতে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। নাগরিকদের বৈধ নথিপত্র খারিজ করে দেয়। গোয়ালপাড়া জেলায় মাটিয়া অঞ্চলে ষাট-এর দশক থেকে ৫ টি শরনার্থী শিবির আছে। গারো, হাজং, কোচ প্রভৃতি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের প্রায় দু’হাজার মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ওই মাটিয়া অঞ্চলে নতুন করে ডিটেনশন ক্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই নাম বাদ পড়া মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই