 |
| শিলচরের রাস্তায় প্লেকার্ড হাতে প্রতিবাদকারীরা |
বি.এম.শুক্লবৈদ্য, শিলচর : নিঃশর্তে হিন্দুদের নাগরিকত্ব প্রদান সহ বিভিন্ন দাবীতে মঙ্গলবার উত্তাল হল কাছাড়, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি সহ সম্পূর্ণ বরাক উপত্যকা। উল্লেখ্য, বিগত ৩১ আগষ্ট তারিখে প্রকাশিত হওয়া এনআরসি পূর্ণাঙ্গ তালিকায় হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সী, খ্রীস্টান সহ বিভিন্ন ভাষা জনগোষ্ঠীর প্রায় ১৪ লক্ষ লোক বাদ পড়ে এনআরসির তালিকা থেকে। এর প্রতিবাদে দীর্ঘ-মেয়াদী আন্দোলনের কার্যসূচী হাতে নেয় বরাক উপত্যকার শক্তিশালী সংঘটন এনইএলইসিসি বা নেলেক।
এই আন্দোলনের প্রথম পর্যায় হিসাবে মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকায় বরাক উপত্যকার তিনটি জেলায় জেলা উপায়ুক্তের কার্যালয়ের সামনে একই সময়ে এক বিরাট প্রতিবাদী ধর্ণা কার্যসূচী পালন করা হয়। এতে সাত দফা দাবি সহ একটি মেমোরেণ্ডাম দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সহ সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে জেলা উপায়ুক্তের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়।
 |
| সমাবেশ স্থলের ছবি। |
মেমোরেণ্ডামে প্রদান করা দাবীগুলি হল - প্রথমতঃ বাংলাদেশ পাকিস্থান থেকে নির্যাতনের ফলে আসা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিনাশর্তে নাগরিকত্ব প্রদান। দ্বিতীয়তঃ ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার দ্বারা জারী করা জোড়া অধ্যাদেশ অবিলম্বে বলবৎ করা। তৃতীয়তঃ অবিলম্বে সংশোধিত রূপে ক্যাব আইনে রূপান্তরিত করা। চতুর্থতঃ আসাম চুক্তির ৬ নং ধারার সকল প্রকার সংরক্ষণ বাতিল করা। পঞ্চমত ডিটেনসন কেম্পের হিন্দু নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া। ষষ্ঠঃ আসাম চুক্তির ৬ নং ধারার রূপায়ন কল্পে গঠিত উচ্চস্তরীয় সমিতিতে সকল ভাষা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের স্থান দেওয়া। সপ্তমতঃ বিদেশীযুক্ত এনআরসি বাতিল করা। এই দাবীগুলি নিয়েই উত্তাল হয় শিলচরের জেলা উপায়ুক্তের কার্যালয় নিকটস্ত ক্ষুদিরাম মূর্তির পাদদেশ এলাকা।
প্রথমাবস্থায় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও ধীরে ধীরে জড়ো হতে থাকে জনতার ঢল। নিরাপত্তা বেষ্টনিতে মোড়া হয় কাছাড়ের জেলা উপায়ুক্তের কার্যালয়। প্রায় দশ হাজার লোকের সমাবেশে সরগরম হয়ে উঠে ধর্ণাস্থলী। 'ভাতর মাতা কি জয়' 'বন্দে মাতরম্' 'ন্ হিন্দু বিদেশি ভবেৎ' ইত্যাদি শ্লোগানের মাধ্যমে ফুটে উঠে মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। শিলচরে আন্দোলনের মোর্চা সামাল দেন বিবেক পোদ্দার, নেলেকের সাধারণ সম্পাদক কংকন নারায়ন সিকদার সহ অন্যরা।
 |
| হাইলাকান্দিতে প্রতিবাদের ছবি। |
হাইলাকান্দিতেও নেলেকের নেতৃত্বে প্রায় সাড়ে সাত হাজার লোক জেলা উপাযুক্তের কার্যালয় পাশের শহিদ বেদীর সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করে। সেখানে ছাত্রনেতা মিলন দাস সহ অন্যরা ধর্ণা কার্যসূচিতে নেতৃত্ব দেন।করিমগঞ্জ জেলায়ও নেলেকের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার লোক জড়ো হয় ধর্ণা কার্যসূচিতে।
এ ধর্ণা সমাবেশে উপচে পড়া জনসমর্থনের পর নেলেকের নেতৃত্বে আগামীতে এই আন্দোলন তীব্র রূপ নেবে বলে মত অনেকের। তবে নেলেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এটা মাত্র আন্দোলনের প্রথম পর্যায়। অনতিবিলম্বে সরকার দাবীগুলি মেনে হিন্দুদের নিঃশর্ত নাগরিকত্ব প্রদান না করলে আরো বৃহৎ আকারের আন্দোলনে নামবে তারা।
কোন মন্তব্য নেই