ব্যাঙ্গালোর শ্রীহট্ট সম্মেলনীর ১৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস
আশিষকুমার দে, বেঙ্গালুরু : দেশ বিদেশের মাটিতে বাঙালির বসবাস আজ ইতিহাস, সেই কোন প্রাচীন কালে দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশ বুদ্ধের বাণী প্রচার করতে পাড়ি দিয়েছিলেন তিব্বত ও সুমাত্রা। সাধারণত পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে তাদের উৎপত্তি স্থান সম্পর্কে জানা ও সেই জেলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও প্রচলিত ভাষায় কথা বলার নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু সিলেটের মানুষ একটু অন্যরকম করে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি খাদ্যাভাসকে সংরক্ষণ ও ক্রমাগত উন্নতি করে আসছেন যা অবশ্যই দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। ২০০৫ সালে কিছু সিলেটী উদ্যোগী হন শ্রীহট্ট সম্মেলনীর বেঙ্গালুরু শাখা প্রতিষ্ঠা করতে। ও গত ২০ জুলাই এই সংস্থার ১৪তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয় ভিকে স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রেক্ষাগৃহে। এই উপলক্ষে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, এই সম্মেলনীর বার্ষিক মুখপত্র "চক্রবাল" উন্মোচিত হয়। শিশু শিল্পীদের বাংলা লোকগাণের সাথে নাচ মনমুগ্ধ করে। মহিলাদের দ্বারা পরিবেশিত হয় বর্ষার উপর একটি সমবেত মেডলি। প্রয়াত লোকসংগীতের দিকপাল কালিকা প্রসাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মঞ্চস্থ হয় একটি সমবেত নৃত্য।
উল্লেখ্য, কালিকা প্রসাদ মূলত সিলেটি ছিলেন, তার কাকা শ্রীহট্টের লোকসংগীতের বিশেষ সংরক্ষক অনন্ত ভট্টাচার্যের কাছ থেকেই তিনি গান শেখেন। অনন্ত ভট্টাচার্য শিলচর আই পি টি-এর সদস্য ছিলেন, এবং তার বিখ্যাত নাচ "রানার" গানের সাথে হয়তো পুরানো লোকেদের মনে থাকবে। চক্রবাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে আঠারোটি লেখা। এর মধ্যে সোমা দেবের, লেখা, শ্রীহট্ট-বরাকের একটি ঐতিহাসিক রূপরেখা, একটি তথ্য সমৃদ্ধ লেখা, সুনির্মল পূরকায়স্থের লেখা, 'আত্ম পরিচয়ের সন্ধানে শিকড়ের টানে শ্রীহট্ট বাসী', লেখাটি একটি আত্মবিশ্লেষন, বাঙালির ইতিহাস আদি পর্ব : ইতিহাসের ইঙ্গিত, লিখেছেন দেবব্রত আচার্য ও রাজর্ষি পাল চৌধুরীর লেখা 'দেশ' পড়ে শ্রীহট্ট বাসীদের ইতিহাস, আকাঙ্ক্ষা ও দেশভাগের পরিনতি কিছুটা বোঝা যায়। অভিজিত দেব রায়ের লেখা সিলেটি ভাষায় 'সংরাইন মাসর খানি' তাদের সংক্রান্তিতে খাওয়ার একটি সম্পূর্ণ তালিকা পাওয়া যায়। দিবাকর সেনের কবিতায় খুঁজে পাওয়া যায় দেশ ভাগের বেদনা। আশিষকুমার দের 'বেঙ্গালুরুতে বাঙালিয়ানা' পড়লে এই শহরে বাঙালি জাতির মাইগ্রেশন এর ইতিহাস পাওয়া যায়। এছাড়াও অনেক লেখা আছে তা সবই ইংরেজিতে যা একটু কষ্টকর। সান্তনা দাসের আঁকা ছবি ও শিশু শিল্পী অনন্যা শর্মা পাঠক ও নিভৃতি দের আঁকা ছবি প্রশংসার দাবি রাখে। যাই হোক প্রবাসে একটুকরো শ্রীহট্ট খুঁজে পাওয়া গেল।









কোন মন্তব্য নেই