Header Ads

ধ্বসের সমস্যাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গ্রহণের আর্জি

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমের বন্যা ও ধ্বসের সমস্যাকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করে কেন্দ্রীয় সরকার যথােপযুক্ত হারে আর্থিক প্যাকেজ দেয়—সেই দাবি জানিয়ে আজ বিধানসভায় প্রায় সব দলের সদস্য সরকারের কাছে আর্জি জানান। জলসম্পদ বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাবে বিতর্কের জবাবে জলসম্পদ মন্ত্রী কেশব মহন্ত আজ বিধানসভায় বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মােদী অসমের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যার খবরাখবর নিতে মুখ্যমন্ত্রী সর্বনন্দ সনােয়ালকে কয়েকবার টেলিফোন পর্যন্ত করেছেন। তবে অসমের বন্যার থেকেও ধ্বসের সমস্যা ভয়াবহ। তাই ১৫ তম অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যানকে সর্বানন্দ সনােয়াল স্মারকপত্র দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, বন্যার সঙ্গে ধ্বসের সমস্যাকেও জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে গণ্য করে আর্থিক প্যাকেজ দিতে হবে। 
জলসম্পদ মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার জলসম্পদ বিভাগকে জলশক্তি বিভাগ হিসেবে গণ্য করে এক নতুন কনসেপ্ট তৈরি করছে। এইনতুন কনসেপ্ট কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বরাদ্দ নিয়ে শুধু বাঁধ মেরামতি করবে না, বাঁধের উপর যাতায়াতের রাস্তা তৈরির লক্ষ্যে জলসম্পদ এবং পুর্তদপ্তর মিলেমিশে কাজ করবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিটিএডি এবং ডিমা হাসাও স্বশাসিত জেলায় নদীগুলিতে খুশিমতাে দশ-বারাে ফুট গভীরের পাথর ও বালি উত্তোলন করা হয়। নদীর ওপরে ঠিকাদারদের নিয়ন্ত্রণ থাকে। বনবিভাগের ওপর বালি ও পাথরের কর্তৃত্ব থাকে। জলসম্পদ বিভাগের কোনও অধিকার নেই, অথচ নদী ভেসে গেলে তাদের ওপর দায়িত্ব পড়ে। বনবিভাগ আমাদের দায়িত্ব দিক, তা থেকে আমরা রাজস্ব আদায় করবাে। রাজ্যের বন্যা ও ধ্বস দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, গুয়াহাটি বরঝাড় বিমানবন্দর আজ হুমকির মুখে। গুয়াহাটি মহানগর অল্প বৃষ্টিতে ভেসে যায়। এই কৃত্রিম বন্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে একদিন জালুকবাড়ি থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভেসে যাবে। বেআইনিভাবে নির্মিত বাড়ি-ঘরগুলি ভেঙে-চুরে তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করে এই সমস্যা সমাধান করা ছাড়া কোনও গত্যন্তর নেই। বিগত সরকারের সময় একেকটি বাঁধ নির্মাণে শয়ে শয়ে ঠিকাদার নিয়ােগ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের কথামতে বিধায়করা বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প তৈরি করত, এবার বিধায়কদের কথাতেই প্রকল্প তৈরি হবে। জলসম্পদ বিভাগকে শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন শূন্যপদ পূরণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার পদে ৬৫ জন, সেকশনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে ৫০৩ জন, খালাসি পদে ১২৩০ জন ইত্যাদি পদ পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। আজকের জলসম্পদ বিভাগ নিয়ে ঘঁটাই প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ গ্রহণ করেন।কংগ্রেসের ওয়াজেদ আলি চৌধুরী, এআইইউডিএফ-এর ইমদাদুল হক চৌধুরী ও আমিনুল ইসলাম, অগপ-র রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতা, কংগ্রেসের অজন্তা নেয়ােগ, বিজেপির গুরুজ্যোতি দাস, প্রশান্ত ফুকন-সহ আরও বারাে জন।
অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আজ বিধানসভায় ‘দ্য আসাম বিনিয়ােজন বিল-২০১৯’ পেশ করে বলেন—বন্যার পটভূমিকায় তিনি বাজেট পেশ করেছেন। তিনি নিজের এসডিআরএফ-এর ওপর নির্ভর না করে রাজ্য সরকার নিজেই রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং মানুষের বাড়িঘর ভাঙন প্রভৃতি ক্ষতিপূরণের জন্য ৫২১ কোটি টাকা মঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩২ টি বাঁধ ভেঙেছে। প্রত্যেকটি বাঁধ নতুন করে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কংগ্রেসের অজন্তা নেওগ ক্যাগ রিপাের্টের কথা উল্লেখ করে অভিযােগ করেন, ক্যাগের প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রীর বাজেটকে দুর্বল এবং বাজেট বহির্ভুত ব্যয় বেশি বলে অভিযােগ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মাত্র ৬১ শতাংশ টাকা ব্যয় করেছেন। তিনি ৭০,০০০ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন। অথচ ৪০ শতাংশ টাকা কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ইত্যাদি দিতে ব্যয় হয়েছে। তাই ক্যাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এই বাজেট বাস্তবসম্মত নয়, দুর্বল বাজেট। এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বিগত সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে বলেন, বিগত সরকারগুলি কাজের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল করতে পারেনি। আগামি অর্থবর্ষে অসমই ভারতের মধ্যে একমাত্র রাজ্য হবে যথাসময়ে প্রতিটি প্রকল্পে সম্পূর্ণ ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল সম্ভবপর করে তুলবে। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে কোড অফ কন্ডাক্ট-এর জন্য ৭,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। অর্থমন্ত্রী দাবি করেন বিগত কংগ্রেস রাজত্ব থেকে বাড়তি খরচ ১৬৮ কোটি টাকা কমে গেছে। অর্থের অপচয় হয়নি। অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ গােস্বামী বাকি বিভাগগুলির ছাঁটাই প্রস্তাব গিলােটিনে পাশ করিয়ে নেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.