সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের জনগণ ভারতকে সমর্থন করছে, বলছে- পাকিস্তানের দাদাগিরি আর মেনে নেব না
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী মোদী জি-৭ সম্মেলনের সময় একান্তে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে বলেছেন যে কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক ইস্যু--ভারত এবং পাকিস্তান মিলে এটি সমাধান করবে। অন্য কোনও দেশকে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার দরকার নেই। মোদির এই কথা শুনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষেপে গিয়ে ভারতকে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি দিয়েছেন। পাকিস্তান, কাশ্মীর ইস্যুতে স্থির থাকতে পারছে না, পাকিস্তানের ঘরে ঘরে এখন বেদম হট্টগোল শুরু হয়েছে। বেলুচিস্তানের জনগণ আলাদা দেশের দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর করছে।
সিন্ধের প্রবাসীরাও স্বাধীনতার দাবিতে বিক্ষোভ করছে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের রাজনীতির বিরুদ্ধে আজ ফ্র্যাঙ্কফুর্টে পাকিস্তানি কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। জার্মানিতে বালুচ রিপাবলিকান পার্টি ফ্র্যাঙ্কফুর্টে পাকিস্তান কনস্যুলেটের বাইরে স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেয়। বালুচ রিপাবলিকান পার্টির কর্মীরা ফ্রাঙ্কফুর্টে পাকিস্তান কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিতেও স্লোগান দিয়েছে।
বেলুচিস্তান ৭২ বছর আগে হওয়া পাকিস্তানের সাথে একীকরণকে আজও মেনে নেয়নি।পাকিস্তানের মোট জমির ৪০% বেলুচিস্তানে রয়েছে। পাকিস্তান ও বেলুচিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্ব ১৯৪৫, ১৯৫৮, ১৯৬২-৫৩, ১৯৮৩-৭৭ থেকে মাঝে মাঝে তীব্রতর হয়ে আসছে । পাকিস্তানের দমন-পীড়নের পরে প্রায় দুই দশক ধরে সেখানেে একটু শান্তি থাকলেও ১৯৯৯ সালে পারভেজ মোশাররফ ক্ষমতায় এসে বালুচ ভূমিতে সামরিক ঘাঁটি গড়ে তোলার পর এখানে বহু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন তীব্র গতি নিতে শুরু করে।
অতএব, এখানে বিচ্ছিন্নতার আগুন নিরন্তর জ্বলছেই। ২০০১ সালে পাক সেনাবাহিনীর অত্যাচারে ৫০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল এখানে। ২০০৬ সালে ২০ হাজার সমাজকর্মীকে অপহরণ করা হয়েছিল, যাদের খোঁজ এখনো অবধি পাওয়া যায়নি। ২০১৫ সালে ১৫৭ মানুষকে বিকৃত করা হয়েছিল। গিলগিট-ব্লুচিস্তান ন্যাশনাল কংগ্রেস নামে একটি আমেরিকান সংস্থা প্রকাশ করেছে সেখানকার পাকিস্তানী দমন-পীড়নের তালিকা।
পাকিস্তান, বার বার বলছে যে কাশ্মীরে অত্যাচার হচ্ছে--অথচ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলিই পাকিস্তানের মিথ্যাচার খুলে দিয়েছে সবার সামনে। এমকিউএম কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি বলেছে যে পাকিস্তান নিজেই করাচি ও সিন্ধ প্রদেশের অন্যান্য শহরগুলিতে দমন-পীড়ন ও অত্যাচার করছে। জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির থেকে এখানের পরিস্থিতি আরও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।
কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সহ-সমন্বয়কারী কাসিম আলী রাজা এবং কমিটির সদস্য মোস্তফা আজিজবাদী, মনজুর আহমেদ ও আরশাদ হুসেন বলেছেন, পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের বালুচ, মুহাজিরো, পশতুন, সিন্ধি এবং অন্যান্য নিপীড়িত মানুষের উপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার করছে। আর এই নৃশংসতা বেশ ব্যাপক আকারেই করা হচ্ছে। রজা বলছিলেন যে পাকিস্তানের নৃশংস সেনাবাহিনী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে হাজার হাজার নিরীহ নির্দোষকে হত্যা করেছে। কয়েক’শ মানুষের ঘর, বাড়ি, সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের কোনও সরকারী প্রতিষ্ঠান মুহাজিরো এবং অন্যদের কন্ঠস্বর শুনতে রাজি নয়।
মোস্তফা বলছিলেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে এমকিউএম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তবে বাস্তবতা হচ্ছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী করাচি ও অন্যান্য শহরে নৃশংসতা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কোন মুখে ভারতকে কাশ্মীরের উপর নৃশংসতার জন্য অভিযুক্ত করতে পারেন? আরশাদ বলছিলেন যে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, যারা নিজেদের শান্তিকামী বলে অভিহিত করে, তারাই কাশ্মীর ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি করছে এবং মুহাজির, বালুচ, পশতুন এবং পাকিস্তানের অন্যান্য নিপীড়িত মানুষকেই তাড়না করছে।









কোন মন্তব্য নেই