Header Ads

ডেপুটি স্পিকার হিসাবে শপথ নিলেন আমিনুল হক লস্কর

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : স্বাধীনােত্তর কালে বরাক উপত্যকা থেকে এই সর্বপ্রথম মুসলিম ধর্মাবলম্বী বাঙালি প্রতিনিধি হিসেবে অসম বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পেলেন আমিনুল হক লস্কর। এর আগে বরাকের রাতাবাড়ি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রে চা জনগােষ্ঠী বিজেপি বিধায়ক কৃপানাথ মাল্লাহ অসম বিধানসভার উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বরাক উপত্যকারই শিলচর কেন্দ্রের বিজেপি-র বিধায়ক দিলীপ পালের স্থলাভিষিক্ত হন। সর্বানন্দ সনােয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট সরকারে দিলীপ পাল ১৪ তম বিধানসভায় সর্বপ্রথম উপাধ্যক্ষের দায়িত্বে আসীন ছিলেন। এর আগে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাঙালি প্রার্থী হিসেবে লামডিঙের কংগ্রেস বিধায়ক দেবেশ চক্রবর্তী উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি অধ্যক্ষের দায়িত্ব পান। অসম বিধানসভায় ৬১ জন। বিজেপি বিধায়কের মধ্যে কাছাড় জেলার সােনাই বিধানসভা কেন্দ্রের একমাত্র বাঙালি মুসলিম ধর্মাবলম্বী প্রার্থী আমিনুল হক লস্কর। তিনি সম্ভবত সারা দেশে বিজেপি-র একমাত্র মুসলিম ধর্মাবলম্বী বিধায়ক, বরাক উপত্যকায় মর্যাদাসম্পন্ন আসন অলংকৃত করলেন। 
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় তিনি নির্বাচিত হন। তার পক্ষে তিনটি মনােনয়ন পত্র জমা পড়ে। বিজেপির পক্ষে মন্ত্রী ভবেশ কলিতা, অগপর পক্ষে মন্ত্রী কেশব মহন্ত এবং বিপিএফ-এর পক্ষে প্রমীলারানি ব্রহ্ম তার পক্ষে প্রস্তাবক হিসেবে ছিলেন। বিমল বরা, উৎপল দত্ত এবং মনেশ্বর ব্রহ্ম সেই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। বিরােধী দল কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ কোনও মনােনয়ন পত্র দাখিল করেনি। অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ গােস্বামী বিধানসভায় আমিনুল হক লস্করের উপাধ্যক্ষ পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। জয়লাভের কথা ঘােষণা করেন। এর পর বিভিন্ন দলের সদস্যরা উপাধ্যক্ষকে তার নির্দিষ্ট আসনে পৌঁছে দেন। মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিরােধী দলপতি সবাইনবনির্বাচিত উপাধ্যক্ষের প্রশংসা করে গণতান্ত্রিক পরম্পরা মেনে বিধানসভার গরিমা রক্ষা করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল আশা প্রকাশ করেন সার্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দল-মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে সবার মন জয় করবেন তিনি।
লস্কর বিভিন্ন সামাজিক কাজে ব্রতী আসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য-সহ অগপ দলেরও পক্ষে কাজ করেছিলেন। বিরােধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়া আশা ব্যক্ত করেন, বিধানসভার মর্যাদা রক্ষা করে সুচারুভাবে বিধানসভা পরিচালনা করবেন। অগপ-র সভাপতি তথা মন্ত্রী অতুল বরা বলেন, নব নির্বাচিত উপাধ্যক্ষ ইতিপূর্বে অসম গণ পরিষদ দলের যুব শাখার সম্পাদক পদে আসীন ছিলেন। তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এআইইউডিএফ দলের পরিষদীয় নেতা হাফিজ বশির আহমেদ কাসিমি নবনির্বাচিত উপাধ্যক্ষ নিরপেক্ষভাবে বিধানসভা পরিচালনা করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন। একই আশা ব্যক্ত করেন বিপিএফ দলেন মন্ত্রী প্রমিলারানীব্ৰহ্ম। বিজেপির সভাপতি তথা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ রঞ্জিত দাস আমিনুল হক লস্করের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মে জড়িত। হাতে মাত্র বছর দুয়েক সময় পাবেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তার গুরুদায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। কংগ্রেসের কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ বলেন, দিলীপ পাল উপাধ্যক্ষ পদ থেকে সরে গেছেন। তারা খুশি যে, বরাক থেকেই আবার উপাধ্যক্ষ পদে একজনকে বসানাে হল। তবে আমিনুল হক লস্করকে মন্ত্রীত্ব দিলে বেশি ভালাে হতাে। 
অধ্যক্ষ হিতেন্দ্রনাথ গােস্বামী বলেন, আমিনুল হকলস্কর ভালােভাবে নিজের কাজ সামলাবেন। তঁাকে কিন্তু নিয়ম-নীতির মধ্যেই চলতে হবে, বেশি কথা বলতে পারবেন না। আশা করি তিনি বিধানসভার মানমর্যাদা যথাযথভাবে মেনে চলবেন। ভগবান এবং আল্লাহর কাছে তিনি তার দীর্ঘজীবন কামনা করেন। এইসব প্রশংসার জবাবে নব নির্বাচিত উপাধ্যক্ষ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, কেশব মহন্ত, সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য প্রমুখদের হাত ধরে প্রথমে রাজ্য-রাজনীতিতে এসেছিলেন। সর্বানন্দ সনােয়াল তাঁকে বিজেপিতে যােগদানের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। শাসক ও বিরােধীদলের স্বার্থ রক্ষা করে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে রাজ্যের সেবা করার গণতান্ত্রিক পরম্পরাকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন বিজেপি বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর।



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.