রেলের শ্রমিকদের মজুরি হবে মাত্র ১৭৮ টাকা, কেন্দ্র নতুন আইন করছে, আন্দোলন ছাড়া গতি নেই, রাখাল দাস গুপ্ত
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
রেলের চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিকদের মজুরি হবে মাত্র ১৭৮ টাকা, স্থায়ী পার্মানেন্ট কর্মচারীদের ন্যূন্যতম বেতন ১৮ হাজার টাকাও কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।৩০ বছর চাকরি করলে বা ৫৫ বছর হলে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণের ব্যবস্থার কথাও চিন্তা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি করণ তো শুরু হয়ে গেছে। এই গুরুতর অভিযোগ সাধারণ মানুষের নয়।
অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেন্স ফেডারেশনের সভাপতি রাখাল দাশগুপ্ত শনিবার এই অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ব্রুট মেজোরিটির সুযোগ নিয়ে জন বিরোধী আইন পাশ করে চলছে। দেশে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও এর মত ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে । ধর্ষিতাকে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে, দুই জনকে মেরে ফেলা হল, নির্যাতিতা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, এই দেশে ভাল আর কি বা আশা করা যেতে পারে? দেশের বিশিষ্ট রেল শ্রমিক নেতা তথা এন এফ রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাখাল দাসগুপ্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, লামডিংয়ের মতো রেল শহরকে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে, ডিজেল শেড বন্ধ করে দেওয়া হল, কেরেজে মাত্র ৮০০ কর্মী আছে। লামডিং রেলের অর্ধেক কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হল। লামডিংয়ের অর্থনীতি রুগ্ন হয়ে পড়েছে।
হাজার হাজার বেকার সমাধানের কোনও রাস্তা নেই। তিনি অভিযোগ করেন ন্যূন্যতম মজুরি করতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যে শ্রমিক বিরোধী আইন পাশ করতে চাইছে তাতে রেলওয়ের চুক্তি ভিত্তিক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে দৈনিক মাত্র ১৭৮ টাকা। ২০০৪ সালের 1 জানুয়ারি থেকে পেনশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম, ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে মজদুর ইউ নিয়নের নেতা রাখাল দাশগুপ্ত এন এফ রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারকে এক পত্র দিয়ে তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, চিন যখন নেফা পেরিয়ে তেজপুর পর্যন্ত চলে আসে তখন জেল কর্তৃপক্ষ সব বন্দিদের ছেড়ে দিয়েছিল, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের লকারের সব টাকা জ্বালিয়ে দিয়েছিল, আর রেলওয়ের কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল চিন সীমান্তে সেনা পাঠানো হবে, একজন রেলকর্মী ও যেন তেজপুর না ছাড়ে। রেলকর্মীরা সেই নির্দেশ পালন করেছিলেন। সেই রেল কর্মীদের আজ নানাভাবে হয়রান করা হচ্ছে। নিজেদের জীবন বিপিন্ন করেও ডিউটি করছে, সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ পর্যন্ত দিচ্ছে। জীবনের মূল্য পাচ্ছেনা। দেশের বিশিষ্ট শ্রমিকনেতা হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় সরকার যদি একটির পর একটি শ্রমিক বিরোধী আইন পাশ করতে থাকে তবে তারা ও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না, দেশ জুড়ে গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।








কোন মন্তব্য নেই