হাই অ্যালার্ট এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা হলো এনআরসির অন্তিম সূচি
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটি : অসমের জন্য আজকের দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শনিবার প্রকাশিত করা হল রাষ্ট্রীয় নাগরিকপঞ্জিকরনের অন্তিম সূচী। লোকের মনে ভয়, উৎকণ্ঠা, শঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের তরফ থেকে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। স্পর্শ কাতর এলাকাতে সর্তকতা জারি করার সাথে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এই তালিকায় যাদের নাম থাকবে না নাগরিকতা নিয়ে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে সেটা নিশ্চিত।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন যে তালিকায় নাম না থাকায় যদি না থাকে তাহলে কি হবে ? তাদেরকে কী বিদেশী মানা হবে? অসম এমন একটি রাজ্য যেখানে ১৯৫১ পরে এই নাগরিক পঞ্জিকরনের তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আসামে অবৈধ প্রবেশকারীদের রাজ্য থেকে সরানোর জন্য ২০১০ সালে নাগরিকপঞ্জিকরনের কাজ শুরু করা হয়েছিল। এবং বরপেটা ও কামরুপ জেলার থেকে প্রথম এনারসির কাজ শুরু করা হয়। দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালায় ২০১৪ সালে এনারসির প্রক্রিয়া সম্পুর্ন করার আদেশ দেন। ২০১৫ সালে উচ্চ ন্যায়ালয়ের দেখা শোনাতে এনারসির কাজ শুরু করা হয়।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল শুক্রবার বলেন, এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া লোকদের চিন্তা করার কারন নেই তাদের বিশেষভাবে দেখবে রাজ্য সরকার। তিনি আরো বলেন, শনিবার প্রকাশিত হতে চলেছে এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা। এই তালিকায় যাদের নাম আসেনি তাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। তাদের বিশেষভাবে সহায়তা করবে রাজ্য সরকার। তাদের উপর যাতে কোনো ধরনের উৎপীড়ন না হয় সেটার দিকে বিশেষ নজর রাখা হবে।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আবেদনকারী বিদেশী ন্যাধিকরনের (এফটি) বিচারাধীন থাকবে ততদিন পর্যন্ত তাকে বিদেশী মানা হবে না। এজন্য তিনি বরাক, ব্রহ্মপুত্র, পার্বতীয় ও ময়দান এলাকার সমস্ত লোকরদের আপিল করে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলেছেন। সচেতন নাগরিকদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি ভরসা দিয়ে বলেছেন যে যাদের নাম এনআরসি দেশ থাকবে না উঠেনি তাদের আপিল করার নাম দাখিল করার সুযোগ দেওয়া হবে ।কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুসারে বিদেশী ন্যাধিকারণ (এফটিতে) তাদের শুনানি হবে ।তিনি আরও বলেন যে এফটিতে আপিল করার সময়সীমা বাড়িয়ে ১০০ দিন পর্যন্ত করা হয়েছে। যাতে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার লোকদের আরও একবার সুযোগ দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, কাউকে অনাবশ্যাক উৎপীড়ন করা হবে না। তিনি একথাও বলেন যে এনআরসি হাজারো লোকের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল।অসমের লোকেদের সমর্থন ও সহযোগিতা এটা সম্ভব হয়েছে ।আসামের শান্তিপূর্ণ এনআরসি প্রকাশিত করার জন্য নাগরিক সমিতিরা পুলিশের সহযোগিতা করেছে ।উল্লেখ্য যে এনআরসির কাজ বেশ কয়েক বছর ধরে চলছে পুলিশ নাগরিক সমিতির সহযোগিতায় কানুনী ব্যবস্থা সঠিক ভাবে কাজ করতে সফলতা সম্ভব হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ আয়ুক্ত দীপক কুমার বলেন, নাগরিক সমিতির সাথে প্রতিদিন কথা বার্তার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা পুলিশ পর্যন্ত পৌঁছেছে এতে পুলিশের অনেক সুবিধা হয়েছে। পুলিশ জানতে পেরেছে যে সাধারণ লোকেরা এনআরসি সম্পর্কে কি ভাবছে। তাদের মনের ভয় দূর করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন যেঅসমে প্রথমবার নাগরিকপঞ্জি করন হচ্ছে এটা একটা গর্বের বিষয় ।অন্যান্য রাজ্যের লোকেরা এনআরসি কাজকর্ম অসমে এসেছেন। শনিবার সকাল ১০ টায় তালিকার প্রতিলিপি প্রকাশিত করা হয়।এই প্রতিলিপি দেখা যাবে এনআরসি সেবা কেন্দ্র, সার্কেল অফিসারের কার্যালয় তথা জেলা উপযুক্তের কার্যালয়ে। অন্তর্ভুক্ত এবং বাদ পরা এনআরসি ওয়েবসাইটেও (www.assam.nic.in) উপলব্ধ হবে।









কোন মন্তব্য নেই