Header Ads

চির নিদ্রায় : লামডিঙের ডেভিড বুন

আশিস কুমার দে, লামডিং : আমাদের সবার প্রিয় দীপকদা গত ২৭জুলাই  চেন্নাই থেকে  লামডিঙ আসার পথে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মাত্র ৭১ বছরেই নিঃশব্দ ঘাতক মধুমেহ'র শিকার হন তিনি। ১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী এই শহরেই  জন্ম। বাবা-কাকা সবাই রেলকর্মী ছিলেন। তাঁর এক কাকা স্বর্গীয় আদিপ্রসাদ চক্রবর্তী ছিলেন বিশিষ্ট শ্রমিক সংগঠনের নেতা। জীবনের প্রথমে ক্যারেজ বিভাগ থেকে কাজ শুরু। ১৯৭৮-এ ডিআরএম'র পার্সোনাল বিভাগে চলে আসেন। ২০০৮ সালে অবসর নেন তিনি।
দীর্ঘদেহী শক্তপোক্ত শরীরে একগাল কালো দাড়ি ওনার গমের মতন রঙকে আরও বেশি  ফুটিয়ে তুলত। খেলাধুলার প্রতি  ভালোবাসা ও ডিভিশনাল রেলওয়ে  স্পোর্টস  ক্লাবের  সদস্য হিসেবে  খেলার মাঠে  ওনার উপস্থিত থাকা অনিবার্য ছিল। ক্রিকেট খেলার  সময়  মাথায়  টুপি  পড়লে ওনাকে অস্ট্রেলীয় খেলোয়াড়  ডেভিড বুনের মত লাগতো, আমরা ওনাকে  ডেভিড বুন বলেই ডাকতাম। একসময়ের নামকরা ক্লাব  ফ্রেন্ডস ইউনিয়নের কর্মকর্তা ছিলেন ও পরে ওয়াইএমসি-এর  সাথে যুক্ত ছিলেন। আমার দেখা প্রকৃত সমাজসেবীদের মধ্যে  অন্যতম ছিলেন দীপকদা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রান্না করা খাবার  পরিবেশন করা,  মরাপোড়ানো থেকে নেতাজী জয়ন্তী  সবেতেই ওনার  উপস্থিতি থাকতো। বহুবার রেলের  ফুটবল  টিমের ম্যানেজার হিসেবে বাইরে গেছেন। আমি  যখন রেলওয়ে ইন্সটিটিউট-এর সম্পাদক ছিলাম, উনি ছিলেন সদস্য। সাত দিনের নাট্যোৎসব ও বইমেলার সময়  নাট্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী ও বইবিক্রেতাদের রান্না করে খাওয়ানোর দায়িত্বে ছিলেন দীপকদা। সাথে ছিলেন কান্তিদা, শশী রায়, শ্যামসুন্দর বসাক। 
ইন্সটিটিউট-এর তরফে ক্লাব ফুটবল খেলায়  আমার ভরসা ছিল দীপকদা। চন্দ্রশেখরদা, জহরদা, সলিল দত্ত, রানাদা, দিলিপ দত্ত,  করুণা সুত্রধর। একসময় লামডিঙ শহরে  পেশাদার  রান্নার  লোকের অভাব ছিল, এই শুন্যতা পূর্ণ করতেন দীপকদা ও অন্যান্যরা। আমাদের অফিসে কোন সমস্যা-অভিযোগ-প্রতিবাদ করতে গেলে দীপকদাই নেতৃত্ব দিতেন। গতকাল দুপুরে ওনার মৃত্যু সংবাদে বিচলিত করে। যতদুর শুনলাম ওনাকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়া হয়  ডিব্রুগড়। ওখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়ে  যাওয়া হয়েছিলো এপোলো চেন্নাইয়ে। সেখানে ওনার অপারেশন করতে হয়। লামডিঙ ফিরে আসার পথে উনি ট্রেনে হঠাৎ করেই মারা যান। রেখে যান স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, জামাতা, নাতি-নাতনি ও অগুনতি গুনমুগ্ধ বন্ধুদের।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.