Header Ads

ভারতীয় ক্রিকেট দলের মুখ থুবড়ে পড়া প্রসঙ্গে দু’চার কথা

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়: পেশাদারিত্বের অভাব ভারতীয় ক্রিকেট দলকে এমনিতেই সবসময়ে বেশ খানিকটা পিছিয়ে রেখে আসছে চিরকাল। সোনায় সোহাগা হিসেবে কূট রাজনীতিও ভারতীয় ক্রিকেট দলকে মাঝে মাঝে চরম অপমানজনক পরিস্থিতির মধ্যে ঠেলে দেয়। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের (বিশেষ করে যখন যারা ক্ষমতায় আসে) কাছে ভারতীয় ক্রিকেট সংস্থা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিরাট লাভজনক বাণিজ্যিক সংস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে বিগত কয়েক দশক ধরে। ফলে কোচ থেকে নির্বাচকমণ্ডলী এবং ক্রিকেটার নির্বাচনের মধ্যে স্বচ্ছতার ছিটেফোঁটা দেখতে পাওয়া যায় না। 
এই কূট রাজনীতির কারণেই ফর্মে থাকা সত্ত্বেও সৌরভকে বিদেশি কোচ এবং ক্ষমতাসীন লবির পছন্দের ক্যাপ্টেনকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয় সৌরভ গাঙ্গুলির মতো খেলোয়াড়কে--আদিখ্যেতা ও আবেগের আতিশয্যে শচীনকে যেখানে স্বেচ্ছায় যেদিন খুশি অবসর নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়--কিন্তু কূট রাজনৈতিক চক্রান্তে কোণঠাসা করে সৌরভকে অনেক আগেই অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়। সেহবাগ-হরভজন-যুবরাজের মতো দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়কে প্রায় হেনস্থার শিকার করেই অবসর নিতে বাধ্য করা হয়। 
অথচ চূড়ান্ত আদিখ্যেতা ও আবেগের আতিশয্য প্রমাণের জন্য যে ধোনি’র এবারের বিশ্বকাপের পারফরমেন্সে দলের ক্ষতির কথা ভেবে লজ্জায় মুখ ঢাকার কথা--সেই ধোনি’র অবসরকে স্মরণীয় করার জন্য তাকে দলের বোঝা করে বিশ্বকাপ দলে সেঁটে দিয়ে লণ্ডনে পাঠানো হয়। কিন্তু দীনেশ কার্তিকের বদলে অলরাউণ্ডার যুবরাজকে চোখের জল ফেলিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়। কূট রাজনীতিতে মারাত্মকভাবে দলের কাঠামোটাকেই দুর্বল করে যাওয়া রবি শাস্ত্রীকে ছাড়া ক্রিকেট বোর্ড আর কারুর মধ্যে কোচের যোগ্যতা খুঁজে পায় না। 
এবারের বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকার হিসেবে ক্রিকেটারদেরই বিস্ময়করভাবে দেখা গেল--যেহেতু তারা ক্রিকেটার অতএব তারাই প্রশ্নাতীত ক্রিকেট বিমেষজ্ঞ--আর এই অধিকারেই সঞ্জয় মঞ্জরেকর নামক এক ক্রিকেটার রাবীন্দ্র জাদেজা সম্পর্কে অনায়াসে চূড়ান্ত অবমূল্যায়ণ করতে পারলেন--কিন্তু বিরাটের সৌজন্যে আজ যদি জাদেজা খেলার সুযোগ না পেতেন তাহলে বোকা ও মুর্খ বিশেষজ্ঞের অবমূল্যায়ণই রবীন্দ্র জাদেজার কপালে সেঁটে থাকত ! মাঠের মধ্যে থেকে ৫০ রানের পর জাদেজা যে ভঙ্গিতে ব্যাট ঘুরিয়ে এবং হাত ঘুরিয়ে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে বসে থাকা রবি শাস্ত্রী ও কমেন্ট্রিবক্সে বসে থাকা সঞ্জয় মঞ্জরেকরকে বার্তা পাঠালেন সেটা আমার কাছে অত্যন্ত উপভোগ্য মনে হয়েছে। 
ক্রিকেটে সবার দিন প্রতিদিনই একরকম যায় না--রোহিত-রাহুল-বিরাটের দিন আজ ছিল না। তবু ৫০ ওভারে মাত্র ২৪০ রান তোলার মতো ব্যাটিং লাইন-আপ কি আজ ছিল? কেন ছিল না? নির্বাচকদের দেবার মতো যুক্তিগ্রাহ্য কোন উত্তর আছে কি? পাণ্ডিয়া, রীষভ চেষ্টা করেছে-সবাই আশা করেছিল বিস্ময়কর রকামের অভিজ্ঞ কুল-কুল ধোনি গোটা পাঁচেক চার মেরে দলের রাণ রেট বাড়িয়ে দেবেন--ধোনির কাছে এটা কোন ব্যাপারই ছিল না। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি কি ঐ ধরণের আত্মঘাতী ডিফেন্স খেলার মতো ছিল? আত্মরক্ষা’র পাশাপাশি রাণরেটের দিকেও সতর্ক নজর থাকা কি জরুরি ছিল না? ধোনির অবসরের খেলাকে স্মরণীয় ছেলেখেলায় পরিণত করাটা কি খুবই দরকার ছিল? এত গুরুত্বপূর্ণ খেলায় ন্যূনতম পেশাদারিত্ব থাকবে না? আজ ঠিক যে খেলার দরকার ছিল সেই খেলা খেলেছে রবীন্দ্র জাদেজা। ধোনি’র দিক থেকে যোগ্য সঙ্গত যদি পাওয়া যেত তাহলে আজ এই লজ্জাজনক হারের কালি মুখে মাখতে হত না ভারতীয় দলকে। ক্রিকেট বোর্ড-নির্বাচক মণ্ডলী-কোচদের যোগ্যতায় ভারতীয় দলের খেলোয়াড়রা সম্মান ছিনিয়ে আনে না--তাদের নিজস্ব যোগ্যতা এবং প্রতিভায় আনে। বোর্ডের সব কেষ্টবিষ্টুরা ক্রিকটারদের সাফল্যকে ক্যাশ করে দেশ-বিদেশে সপরিবারে ছানাপোনা সহ দেদার ফূর্তি করে বেড়ান। এটাই যে দেশের ক্রীড়া-কালচার সেই দেশের কোন টিমের কাছেই কি খুব বেশি কিছু আশা করা যায়?

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.