শুভ জন্মদিন নজরুল সম্রাজ্ঞী ফিরোজা বেগম !!
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
জন্ম ১২ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই ১৯৩০— এক পূর্ণিমার রাতে। তখন কেই-বা ভেবেছিল এ মেয়ে একদিন সঙ্গীতাকাশকে আলোকিত করে রাখবে ! সঙ্গীতের সব শাখাতেই অনায়াস তাঁর পদচারণা। নজরুলের গানের প্রসঙ্গ এলে স্বভাবতই ভেসে ওঠে তাঁর ছবি। স্বর ও সঙ্গীতে একনাগাড়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় বেমালুম বুঁদ হয়ে থাকা ব্যক্তিত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছেন যিনি, তিনি ফিরোজা বেগম। মাত্র বারো বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে ফিরোজা বেগমের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। বিভিন্ন ছুটিতে তিনি কলকাতা বেড়াতে যেতেন।
একবার গ্রীষ্মে এক মাস ছুটি পেলেন। ফিরোজা বেগমের ছোট মামা তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করছেন। তার দুই কাজিনের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া বেতারের সুনীল বোসের সুসম্পর্ক ছিল। এক অনুষ্ঠানে সুনীল বোস তার গান শুনে বললেন— ‘ওকে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একদিন নিয়ে এসো তো। ওর অডিশন নেব। এইচএমভিতেও একদিন নিয়ে এসো। দেখো, ওরা কী বলে।’ তারপর ভাই আর মামা মিলে ফিরোজা বেগমকে এইচএমভিতে নিয়ে গেলেন। ফিরোজা বেগমকে রিহার্সেল রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। ঢুকেই দেখলেন ঘরভর্তি অনেক লোক। ওই ঘরে ঢোকার পর যাঁর পাশে ফিরোজা বেগমকে বসতে বলা হলো, তিনিই কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ফিরোজা বেগমকে বসতে বললেন। কাজী নজরুল ইসলাম তখন এইচএমভির প্রধান প্রশিক্ষক। কিন্তু ফিরোজা বেগম তখনো জানেন না ইনিই কাজী নজরুল ইসলাম। ফিরোজা বেগমের মামা এইচএমভির এক কর্মকর্তার মাধ্যমে কবিকে জানালেন যে ফিরোজা বেগমের গান শোনাতে নিয়ে এসেছেন। শুনে কাজী নজরুল ইসলাম হো হো করে হেসে উঠলেন, বললেন— ‘বাহ্, বেশ তো। তা কী গান শোনাবে আমাদের?’ ফিরোজা বেগম গাইলেন— ‘যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা শুধু চোখে দেখা দিতে এস না।’ গান শেষ করেই উঠে দাঁড়ালেন ফিরোজা বেগম, বাইরে চলে আসবেন কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম হাত টেনে ধরে তাকে বসালেন। বললেন—, ‘ওরে সর্বনাশ! এ কী গান শোনালে তুমি। এতটুকু মেয়ে এ গান কীভাবে, কোথা থেকে শিখলে ?’ ফিরোজা বেগম বললেন— ‘কারও কাছ থেকে নয়। বাড়িতে কালো মোটা রেকর্ডগুলো আছে না, ওইগুলো শুনে শুনেই শিখেছি।’ একথা শুনে কাজী নজরুল ইসলাম আবার হো হো করে হেসে উঠলেন।
ফিরোজা বেগম ১৯৪২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত কলকাতায় নিয়মিত গান করেছেন, যেমন বেতারে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। ১৯৪২-এর ডিসেম্বরে এইচএমভি থেকে ফিরোজা বেগমের প্রথম রেকর্ড বের হয়। মানে কবির কাছে যাওযয়ার এক বছর পর বের হলো তাঁর প্রথম রেকর্ড। এরপর একের পর এক রেকর্ড বের হতে লাগল। আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, গজল, ভজন সবকিছু করছেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতার কাগজ ‘আনন্দবাজার’ তাঁর গানের প্রশংসাও করেছিল। ১৯৪৯ সালে ঢাকায় এলেন। ওই বছরই ঢাকায় রেডিও স্টেশনের শর্টওয়েভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এবং তালাত মাহমুদ একত্রে গাইলেন— ‘খেওয়ান হার নেইয়া মোরি ক্যার দো পার’ গানখানি। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারে নিয়মিত গান করেছেন তিনি।
১৯৫১ সালে ঢাকা ছেড়ে আবার কলকাতায় চলে এলেন ফিরোজা বেগম। সে বছরই কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সুরে বেশকিছু গান করেন। এভাবেই তাঁর সঙ্গীত গুরু হয়ে উঠলেন কমল দাশগুপ্ত। তিনি নজরুলের কথার সুর দিতেন আর ফিরোজা তা কণ্ঠে তুলে নিতেন। এভাবে প্রতিদিন তাদের দু’জনার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। ১৯৫৬ সালে কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কমল দাশগুপ্ত জীবনে আট হাজার ৫০০ গানে সুরারোপ করে গেছেন, যার মধ্যে অধিকাংশ গানই জনপ্রিয়তার অতুল্য শীর্ষে স্থান করে নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০০টি নজরুল সংগীত রয়েছে। কমল দাশগুপ্ত এবং ফিরোজা বেগম ১৯৫৭ সালে কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন ঢাকায়। পাকিস্তানি আমল তখন। তাই ভারতে ফিরোজা বেগমের সমস্যা, আবার ঢাকায় কমল দাশগুপ্তের সমস্যা। ঢাকায় দু’জনে ফিরে গিয়ে বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যেখানে দু’জনে যান, সেখানে মুখের ওপর দরজা বন্ধ। এজন্য বাড়িভাড়া পেতেও বেগ পেতে হলো।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কমল দাশগুপ্ত গৃহবন্দি ছিলেন ঢাকাতেই। বাংলা সঙ্গীতের কিংবদন্তি সুরকার কমল দাশগুপ্ত ১৯৭৪ সালে মারা গেলে ফিরোজা বেগম একাকী হয়ে পড়লেন সন্তানদের নিয়ে।
১৯৬৮-৬৯ ইসলামাবাদ রেডিওর উদ্বোধন। গান গাইতে হবে ফিরোজা বেগমকে। তাঁকে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ফিরোজার এক কথা, ‘আগে আমি বাংলা গাইব তারপর উর্দু। নইলে যাব না।’ তখনকার তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন ঐ শর্তেই রাজি। তিনি গাইলেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’।
সত্তরে দেশ ফুঁসছে আর সে সময় করাচীতে ইএমআই পাকিস্তানে তিনি ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ আর ‘জন্ম আমার ধন্য হল মাগো’ এই বাংলা গানগুলো রেকর্ড করেন। এই গান গাওয়ার অপরাধে দেশে ফেরার পর একদিন রেডিও স্টেশন থেকে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নেয়া হচ্ছে বুঝতে পারেননি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত একটায় ফিরোজা বেগমকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাড়ির সামনে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার তাঁর বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। চেষ্টা করেছে তাঁকে মেরে ফেলার। ১৪ ডিসেম্বর একটুর জন্য তিনি বেঁচে যান।
অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আর সুকঠিন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরোজা বেগম হয়ে উঠলেন নজরুল সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী। বিভিন্ন সময়ে নানা সম্মাননা পেয়েছেন ফিরোজা বেগম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্বাধীনতা পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ টিভি শিল্পী পুরস্কার (পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদক, দীননাথ সেন স্বর্ণপদক, সত্যজিৎ রায় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার, সিকোয়েন্স পুরস্কার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০১২-এর বিশেষ নজরুল সম্মাননা পেলেন সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম। কলকাতার নজরুল মঞ্চে রাজ্য সরকার আয়োজিত ‘নজরুল দিবস’ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। নজরুল সঙ্গীতের এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্মদিনে শ্রদ্ধা !!
(সৌজন্যে: বাবলু ভট্টাচার্য)
জন্ম ১২ শ্রাবণ, ২৮ জুলাই ১৯৩০— এক পূর্ণিমার রাতে। তখন কেই-বা ভেবেছিল এ মেয়ে একদিন সঙ্গীতাকাশকে আলোকিত করে রাখবে ! সঙ্গীতের সব শাখাতেই অনায়াস তাঁর পদচারণা। নজরুলের গানের প্রসঙ্গ এলে স্বভাবতই ভেসে ওঠে তাঁর ছবি। স্বর ও সঙ্গীতে একনাগাড়ে ছয় দশকেরও বেশি সময় বেমালুম বুঁদ হয়ে থাকা ব্যক্তিত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়েছেন যিনি, তিনি ফিরোজা বেগম। মাত্র বারো বছর বয়সে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে ফিরোজা বেগমের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। বিভিন্ন ছুটিতে তিনি কলকাতা বেড়াতে যেতেন।
একবার গ্রীষ্মে এক মাস ছুটি পেলেন। ফিরোজা বেগমের ছোট মামা তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় এমএ করছেন। তার দুই কাজিনের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া বেতারের সুনীল বোসের সুসম্পর্ক ছিল। এক অনুষ্ঠানে সুনীল বোস তার গান শুনে বললেন— ‘ওকে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একদিন নিয়ে এসো তো। ওর অডিশন নেব। এইচএমভিতেও একদিন নিয়ে এসো। দেখো, ওরা কী বলে।’ তারপর ভাই আর মামা মিলে ফিরোজা বেগমকে এইচএমভিতে নিয়ে গেলেন। ফিরোজা বেগমকে রিহার্সেল রুমে নিয়ে যাওয়া হলো। ঢুকেই দেখলেন ঘরভর্তি অনেক লোক। ওই ঘরে ঢোকার পর যাঁর পাশে ফিরোজা বেগমকে বসতে বলা হলো, তিনিই কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ফিরোজা বেগমকে বসতে বললেন। কাজী নজরুল ইসলাম তখন এইচএমভির প্রধান প্রশিক্ষক। কিন্তু ফিরোজা বেগম তখনো জানেন না ইনিই কাজী নজরুল ইসলাম। ফিরোজা বেগমের মামা এইচএমভির এক কর্মকর্তার মাধ্যমে কবিকে জানালেন যে ফিরোজা বেগমের গান শোনাতে নিয়ে এসেছেন। শুনে কাজী নজরুল ইসলাম হো হো করে হেসে উঠলেন, বললেন— ‘বাহ্, বেশ তো। তা কী গান শোনাবে আমাদের?’ ফিরোজা বেগম গাইলেন— ‘যদি পরানে না জাগে আকুল পিয়াসা শুধু চোখে দেখা দিতে এস না।’ গান শেষ করেই উঠে দাঁড়ালেন ফিরোজা বেগম, বাইরে চলে আসবেন কিন্তু কাজী নজরুল ইসলাম হাত টেনে ধরে তাকে বসালেন। বললেন—, ‘ওরে সর্বনাশ! এ কী গান শোনালে তুমি। এতটুকু মেয়ে এ গান কীভাবে, কোথা থেকে শিখলে ?’ ফিরোজা বেগম বললেন— ‘কারও কাছ থেকে নয়। বাড়িতে কালো মোটা রেকর্ডগুলো আছে না, ওইগুলো শুনে শুনেই শিখেছি।’ একথা শুনে কাজী নজরুল ইসলাম আবার হো হো করে হেসে উঠলেন।
ফিরোজা বেগম ১৯৪২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত কলকাতায় নিয়মিত গান করেছেন, যেমন বেতারে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। ১৯৪২-এর ডিসেম্বরে এইচএমভি থেকে ফিরোজা বেগমের প্রথম রেকর্ড বের হয়। মানে কবির কাছে যাওযয়ার এক বছর পর বের হলো তাঁর প্রথম রেকর্ড। এরপর একের পর এক রেকর্ড বের হতে লাগল। আধুনিক গান, রবীন্দ্রসংগীত, গজল, ভজন সবকিছু করছেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতার কাগজ ‘আনন্দবাজার’ তাঁর গানের প্রশংসাও করেছিল। ১৯৪৯ সালে ঢাকায় এলেন। ওই বছরই ঢাকায় রেডিও স্টেশনের শর্টওয়েভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এবং তালাত মাহমুদ একত্রে গাইলেন— ‘খেওয়ান হার নেইয়া মোরি ক্যার দো পার’ গানখানি। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ঢাকা বেতারে নিয়মিত গান করেছেন তিনি।
১৯৫১ সালে ঢাকা ছেড়ে আবার কলকাতায় চলে এলেন ফিরোজা বেগম। সে বছরই কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে দেখা করে তাঁর সুরে বেশকিছু গান করেন। এভাবেই তাঁর সঙ্গীত গুরু হয়ে উঠলেন কমল দাশগুপ্ত। তিনি নজরুলের কথার সুর দিতেন আর ফিরোজা তা কণ্ঠে তুলে নিতেন। এভাবে প্রতিদিন তাদের দু’জনার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। ১৯৫৬ সালে কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কমল দাশগুপ্ত জীবনে আট হাজার ৫০০ গানে সুরারোপ করে গেছেন, যার মধ্যে অধিকাংশ গানই জনপ্রিয়তার অতুল্য শীর্ষে স্থান করে নিয়েছিল। এর মধ্যে ৪০০টি নজরুল সংগীত রয়েছে। কমল দাশগুপ্ত এবং ফিরোজা বেগম ১৯৫৭ সালে কলকাতা ছেড়ে চলে গেলেন ঢাকায়। পাকিস্তানি আমল তখন। তাই ভারতে ফিরোজা বেগমের সমস্যা, আবার ঢাকায় কমল দাশগুপ্তের সমস্যা। ঢাকায় দু’জনে ফিরে গিয়ে বিভিন্ন বাধার মুখোমুখি হয়েছিলেন। যেখানে দু’জনে যান, সেখানে মুখের ওপর দরজা বন্ধ। এজন্য বাড়িভাড়া পেতেও বেগ পেতে হলো।
১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত কমল দাশগুপ্ত গৃহবন্দি ছিলেন ঢাকাতেই। বাংলা সঙ্গীতের কিংবদন্তি সুরকার কমল দাশগুপ্ত ১৯৭৪ সালে মারা গেলে ফিরোজা বেগম একাকী হয়ে পড়লেন সন্তানদের নিয়ে।
১৯৬৮-৬৯ ইসলামাবাদ রেডিওর উদ্বোধন। গান গাইতে হবে ফিরোজা বেগমকে। তাঁকে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ফিরোজার এক কথা, ‘আগে আমি বাংলা গাইব তারপর উর্দু। নইলে যাব না।’ তখনকার তথ্যমন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দিন ঐ শর্তেই রাজি। তিনি গাইলেন- ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’।
সত্তরে দেশ ফুঁসছে আর সে সময় করাচীতে ইএমআই পাকিস্তানে তিনি ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ আর ‘জন্ম আমার ধন্য হল মাগো’ এই বাংলা গানগুলো রেকর্ড করেন। এই গান গাওয়ার অপরাধে দেশে ফেরার পর একদিন রেডিও স্টেশন থেকে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কোথায় নেয়া হচ্ছে বুঝতে পারেননি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত একটায় ফিরোজা বেগমকে নামিয়ে দেওয়া হয় তাঁর বাড়ির সামনে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একাধিকবার তাঁর বাড়ি তল্লাশি করা হয়েছে। চেষ্টা করেছে তাঁকে মেরে ফেলার। ১৪ ডিসেম্বর একটুর জন্য তিনি বেঁচে যান।
অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আর সুকঠিন সংগ্রামের ভেতর দিয়ে ফিরোজা বেগম হয়ে উঠলেন নজরুল সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী। বিভিন্ন সময়ে নানা সম্মাননা পেয়েছেন ফিরোজা বেগম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্বাধীনতা পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ টিভি শিল্পী পুরস্কার (পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদক, দীননাথ সেন স্বর্ণপদক, সত্যজিৎ রায় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার, সিকোয়েন্স পুরস্কার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০১২-এর বিশেষ নজরুল সম্মাননা পেলেন সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম। কলকাতার নজরুল মঞ্চে রাজ্য সরকার আয়োজিত ‘নজরুল দিবস’ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। নজরুল সঙ্গীতের এই জীবন্ত কিংবদন্তির জন্মদিনে শ্রদ্ধা !!
(সৌজন্যে: বাবলু ভট্টাচার্য)









কোন মন্তব্য নেই