ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও !!
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
মোটা মাথার মোটা বুদ্ধির নতুন সার্কাসে মানুষ কিন্তু হাসছে ! যারা কাটমানি ও ব্ল্যাকমানিকে একই বন্ধনীতে বসিয়ে ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও বলে আওয়াজ তুলছেন তাদের কিন্তু এই বিষয়টার সমস্ত দিক ভেবে দেখা দরকার। প্রথমতঃ ব্ল্যাকমানি যাদের কাছে আছে তথ্য-প্রমাণ সহ তাদের চিহ্নিত করার কাজ পুলিশ-প্রশাসন-ভিজিলেন্স-অ্যান্টিকরাপশন্-সিআইডি-ইডি-আয়কর বিভাগের। ব্ল্যাকমানি বাজেয়াপ্ত করা বা ব্ল্যাকম্যানদের শাস্তি দেওয়ার কাজও প্রমাণ সাপেক্ষে আইন-আদালতের কাজ। আমি ‘‘ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও’’ বলে রাস্তায় নেচে বেড়ালেই কেউ ব্ল্যাকমানির থলি আমার হাতে তুলে দেবে না--কারণ সেই ব্ল্যাকমানির মালিকানা আমার নয়। আমাদের দেশে সাধারণতঃ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাণবায়ুই হল ব্ল্যাকমানি। কর্পোরেট জগতের হীরের টুকরোরা তাদের কালো টাকার একটা বড় অংশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্টন করে থাকে। যে দলের পেছনে টাকা ঢাললে ‘বাণিজ্যে বসতিঃ লক্ষ্মী’ সহজ হয় সেই দলের কোষাগার ফুলে-ফেঁপে ওঠে। সেই দল নির্বাচনে প্রচুর পরিমাণে টাকা খরচ করে থাকে। এটা কোন নতুন কথা নয়।
ব্ল্যাকমানি’র সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক হার্দিক ও আত্মিক। এ সম্পর্ক, এমন কী রাজনীতিকদের সঙ্গেও নয়। রাজনীতিকদের সঙ্গে হার্দিক সম্পর্ক অবশ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গেই। ব্যবসায়ীরা ব্ল্যাকমানি সঞ্চয় করে আর তার একটা অংশ রাজনীতিকদের পকেটে গুঁজে দেয়। এর সঙ্গে কাটমানি’র কোন সাদৃশ্য বা সম্পর্ক নেই।
সরকারি প্রকল্প আমি তোমার হাতে পৌঁছে দেব যদি আমার চাহিদা মতো পার্সেন্টেজ আমাকে দাও--ঐ পার্সেন্টেজটাই হল কাটমানি। প্রাইমারি-সেকেণ্ডারি-কলেজ থেকে শুরু করে যে কোন নিয়োগের দাম মূল্য হিসেবে দশ বিশ-পঁচিশ লাখ টাকা গলায় গামছা দিয়ে আদায় করাটাই কাটমানিখোরদের কাজ। কাটমানি কেস প্রমাণ করাটা সংশ্লিষ্ট লোকজনের পক্ষে কঠিন কিছু নয়। এখন মোবাইল রেকর্ডিংয়ের যুগ--ধরা পড়ছে অনেকেই। ধুরন্ধর ক্রিমিন্যাল চরিত্রের কাটমানিখোররা অবশ্য প্রমাণ চাইতেই পারে--চাইছেও--কিন্তু যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে কাটমানি দিতে বাধ্য হয়েছে তাদের রোষের হাত থেকে রেহাই পাওয়াটা তত সহজ হচ্ছে না বা হবে না। এই রোষের হাত থেকে বাঁচার তাগিদে খড়কুটোর মতো ‘‘ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও’’ আওয়াজ তুলে বিশেষ কিছু লাভ হওয়ার কথা নয়।
তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি’র যে কেউ হোক না কেন--কাটমানিখোর হিসেবে যারা চিহ্নিত হয়ে গেছে তাদের মানসম্মান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবই জাহান্নমের যাত্রী হয়ে গেছে। তারা চিহ্নিত এবং বহুলাংশে প্রমাণিত কাটমানিখোর।
কিন্তু কার কত ব্ল্যাকমানি আছে--কিভাবে কোথায় আছে--তার কতটা অংশ কোন কোন রাজনীতিকের পকেটে নিয়মিত ঢুকছে--এসব প্রমাণ করে তর্জনী তোলা সাধারণের পক্ষে একেবারেই সহজ নয়। যার-তার কাছ থেকে ব্ল্যাকমানি দাবি করা (প্রমাণ ছাড়াই) দেশের আইন-আদালত মান্যতা দেয় না। ব্ল্যাকম্যানদের চিহ্নিত করার কাজ সরকারের (রাজ্য ও কেন্দ্র)--তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই--কিন্তু তারা সেটা না করে যদি কিছু মানুষকে পতাকা-ফেস্টুন হাতে সঙের মতো রাস্তায় নেচে বেড়াতে প্ররোচিত করে--মানুষ হাসবে না? হাসবে--মানুষ সত্যি সত্যি হাসছে--কিন্তু কাটমানিখোরদের তৈরি করা অন্ধকার থেকে সেটা যাদের দেখার কথা তারা সেটা দেখতেই পাচ্ছে না !!
মোটা মাথার মোটা বুদ্ধির নতুন সার্কাসে মানুষ কিন্তু হাসছে ! যারা কাটমানি ও ব্ল্যাকমানিকে একই বন্ধনীতে বসিয়ে ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও বলে আওয়াজ তুলছেন তাদের কিন্তু এই বিষয়টার সমস্ত দিক ভেবে দেখা দরকার। প্রথমতঃ ব্ল্যাকমানি যাদের কাছে আছে তথ্য-প্রমাণ সহ তাদের চিহ্নিত করার কাজ পুলিশ-প্রশাসন-ভিজিলেন্স-অ্যান্টিকরাপশন্-সিআইডি-ইডি-আয়কর বিভাগের। ব্ল্যাকমানি বাজেয়াপ্ত করা বা ব্ল্যাকম্যানদের শাস্তি দেওয়ার কাজও প্রমাণ সাপেক্ষে আইন-আদালতের কাজ। আমি ‘‘ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও’’ বলে রাস্তায় নেচে বেড়ালেই কেউ ব্ল্যাকমানির থলি আমার হাতে তুলে দেবে না--কারণ সেই ব্ল্যাকমানির মালিকানা আমার নয়। আমাদের দেশে সাধারণতঃ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাণবায়ুই হল ব্ল্যাকমানি। কর্পোরেট জগতের হীরের টুকরোরা তাদের কালো টাকার একটা বড় অংশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বন্টন করে থাকে। যে দলের পেছনে টাকা ঢাললে ‘বাণিজ্যে বসতিঃ লক্ষ্মী’ সহজ হয় সেই দলের কোষাগার ফুলে-ফেঁপে ওঠে। সেই দল নির্বাচনে প্রচুর পরিমাণে টাকা খরচ করে থাকে। এটা কোন নতুন কথা নয়।
ব্ল্যাকমানি’র সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক হার্দিক ও আত্মিক। এ সম্পর্ক, এমন কী রাজনীতিকদের সঙ্গেও নয়। রাজনীতিকদের সঙ্গে হার্দিক সম্পর্ক অবশ্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গেই। ব্যবসায়ীরা ব্ল্যাকমানি সঞ্চয় করে আর তার একটা অংশ রাজনীতিকদের পকেটে গুঁজে দেয়। এর সঙ্গে কাটমানি’র কোন সাদৃশ্য বা সম্পর্ক নেই।
সরকারি প্রকল্প আমি তোমার হাতে পৌঁছে দেব যদি আমার চাহিদা মতো পার্সেন্টেজ আমাকে দাও--ঐ পার্সেন্টেজটাই হল কাটমানি। প্রাইমারি-সেকেণ্ডারি-কলেজ থেকে শুরু করে যে কোন নিয়োগের দাম মূল্য হিসেবে দশ বিশ-পঁচিশ লাখ টাকা গলায় গামছা দিয়ে আদায় করাটাই কাটমানিখোরদের কাজ। কাটমানি কেস প্রমাণ করাটা সংশ্লিষ্ট লোকজনের পক্ষে কঠিন কিছু নয়। এখন মোবাইল রেকর্ডিংয়ের যুগ--ধরা পড়ছে অনেকেই। ধুরন্ধর ক্রিমিন্যাল চরিত্রের কাটমানিখোররা অবশ্য প্রমাণ চাইতেই পারে--চাইছেও--কিন্তু যারা পরিস্থিতির শিকার হয়ে কাটমানি দিতে বাধ্য হয়েছে তাদের রোষের হাত থেকে রেহাই পাওয়াটা তত সহজ হচ্ছে না বা হবে না। এই রোষের হাত থেকে বাঁচার তাগিদে খড়কুটোর মতো ‘‘ব্ল্যাকমানি ফিরিয়ে দাও’’ আওয়াজ তুলে বিশেষ কিছু লাভ হওয়ার কথা নয়।
তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস-বিজেপি’র যে কেউ হোক না কেন--কাটমানিখোর হিসেবে যারা চিহ্নিত হয়ে গেছে তাদের মানসম্মান রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সবই জাহান্নমের যাত্রী হয়ে গেছে। তারা চিহ্নিত এবং বহুলাংশে প্রমাণিত কাটমানিখোর।
কিন্তু কার কত ব্ল্যাকমানি আছে--কিভাবে কোথায় আছে--তার কতটা অংশ কোন কোন রাজনীতিকের পকেটে নিয়মিত ঢুকছে--এসব প্রমাণ করে তর্জনী তোলা সাধারণের পক্ষে একেবারেই সহজ নয়। যার-তার কাছ থেকে ব্ল্যাকমানি দাবি করা (প্রমাণ ছাড়াই) দেশের আইন-আদালত মান্যতা দেয় না। ব্ল্যাকম্যানদের চিহ্নিত করার কাজ সরকারের (রাজ্য ও কেন্দ্র)--তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই--কিন্তু তারা সেটা না করে যদি কিছু মানুষকে পতাকা-ফেস্টুন হাতে সঙের মতো রাস্তায় নেচে বেড়াতে প্ররোচিত করে--মানুষ হাসবে না? হাসবে--মানুষ সত্যি সত্যি হাসছে--কিন্তু কাটমানিখোরদের তৈরি করা অন্ধকার থেকে সেটা যাদের দেখার কথা তারা সেটা দেখতেই পাচ্ছে না !!









কোন মন্তব্য নেই