কবে ডিএ ও পে কমিশন, মুখ্যমন্ত্রীর কথায় হয়ে গেল স্পষ্ট
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : এখনও পে-কমিশনের সুপারিশ জমা পড়েনি নবান্নে। কবে জমা পড়বে তাও এখনও স্পষ্ট হয়নি। এদিকে ডিএ মামলায় বড় জয় সরকারি কর্মীদের। এদিন স্যাটের তরফে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ না দাওয়াটা বৈষম্যমূলক। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দিতে হবে রাজ্যকে। এমনটাই বলেছেন দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ। স্যাট বলেছে, অনিয়মিত ডিএ দেওয়ায় বকেয়া মহার্ঘভাতা পড়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, ২০১০-এর পর থেকে তা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে স্যাট। তবে ডিএ কীভাবে দেওয়া হবে তা ঠিক করবে রাজ্য সরকার। দিল্লি, চেন্নাইয়ের কর্মীদের সঙ্গে রাজ্যে থাকা কর্মীদের কোনও বৈষম্য রাখা চলবে না। রাজ্যের তরফে অর্থের অভাবের কথা বলা হলেও আদালত তা মানেনি।
এর আগে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘভাতার আইনসিদ্ধ অধিকার বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু বকেয়া ডিএ পাওয়ার ক্ষেত্রে এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকারি কমর্চারীরা সমান হারে ডিএ পাবেন কিনা এবং একই পদে কাজ করা দিল্লি ও চেন্নাইয়ে কর্মরত এ রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও রাজ্যে কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বৈষম্য থাকবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এদিন তা পরিষ্কার করে দিয়েছে স্যাট। স্যাটের বিচারক রঞ্জিতকুমার বাগ ও বিচারক সবেশকুমার বাগের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় শুনিয়েছে শুক্রবার।
২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার যখন ১২৫ শতাংশ হারে ডিএ দেয় তখন রাজ্য দেয় ৭৫ শতাংশ হারে। ডিএ এর বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করে স্যাটের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দুটি সংগঠন, কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ও ইউনিটি ফোরাম। স্যাটে মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ায় ২০১৭ র ফেব্রুয়ারিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। টানা ১৭ মাস ধরে ৩২ টি মামলার শুনানিতে আইনি যুক্তি, পাল্টা যুক্তির লড়াই শেষে ডিএ সংক্রান্ত সেই মামলার ২০১৮ র ৩১ আগস্ট রায় দেয় হাইকোর্ট। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও চলে টাল বাহানা। পুনর্বিবেচনার আবেদন নিয়ে ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। চলতি বছরের ৭ মার্চ রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ নিয়ে রাজ্যের সেই পুনর্বিবেচনার মামলা খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এর পর স্যাটে শুনানি চলে। এই শুনানি শেষেই রায় দান।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কথা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল এই অর্থবর্ষের লাগু করা হবে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য পে কমিশন। প্রসঙ্গত এদিনই স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাষা দিতে স্পষ্ট করেই নির্দেশ দিয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের পর এদিনই প্রশাসনিক বৈঠক শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকটি হয় উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের খরচ নিয়ে কথা বলছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটা সময়ে তিনি বলেন, দিতে তো চাই। কিন্তু টাকা আসবে কোথা থেকে। তিনি বলেন এবছর ৫৬ হাজার কোটি টাকা সুদ হিসেবে দিতে হবে। পাশাপাশি রয়েছে পে কমিশন। নির্বাচিত এক জনপ্রতিনিধির প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, সরকারের টাকার অবস্থা ভাল নয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাতেই পে কমিশন লাগু করা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রী এনিয়ে আর কোনও কথা বলেননি।









কোন মন্তব্য নেই