চিলপাথারের ডি ভোটার বাঙালি যুবক অমর মজুমদার হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার পথকেই শ্রেয় বলে বেছে নিলেন, সরকারের টনক নড়ে না
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
৩১ জুলাই অসমের বাংলাভাষী হিন্দু মুসলিমদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে অর্থাৎ ওই দিন বহু প্রতিক্ষিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাবে। সেই দিন জানা যাবে কত ভারতীয় নাগরিকে বিদেশি সাজানো হবে, এনআরসি প্রস্তুতির নামে ব্যাপক দুর্নীতি চলছে, প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম নথি পত্র পরীক্ষা না করে কেটে ফেলা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগকে এনআরসি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। যাকে তাকে ডি ভোটার তকমা দেওয়া হচ্ছে, মানুষ হতাশ গ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এ পৰ্যন্ত ৫০ জনেরও বেশি এই সরকারি অবিচারের প্রতিবাদে নিজেকে শেষ করে দিয়েছে, এনআরসি কর্তৃপক্ষ বা সরকারের নূন্যতম প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায় নি। দেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিষ্ময়কর ভাবে নীরব। আজ ৮ জুলাই আবার একজন তথাকথিত ডি ভোটার, সরকারের খাতায় অপরাধী, আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। ধেমাজি জেলার চিলপাথারের অমৃতপুর গ্রামে অমর মজুমদার নামে যুব ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করলেন। ভারতীয় নাগরিকত্বের সব নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও দুই সন্তানের বাবা বিজেপি দলের সমৰ্থক মজুমদারকে ডি ভোটার বানানো হয়েছিল বলে পরিবার পরিজনদের অভিযোগ। সেনাবাহিনীর প্রাক্তন অফিসার সনাউল্লাহর পর প্রাক্তন হাবিলদার আব্দুল বারেকের নামও এন আর সি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, আজ জাগিরোডে প্রদীপ কুমার বরদলৈ অভিযোগ করলেন তার বাবা রামেশ্বর বরদলৈ স্বাধীনতা সংগ্রামী অথচ তাদের পরিবারের নাম আসেনি। এনআরসি কৰ্তৃপক্ষ যে হাজার ভুলে ভরা তালিকা প্রকাশ করবে তা অনুমান করা যেতে পারে। সোমবার কংগ্রেস বিরোধী দলপতি দেবব্রত শইকিয়া, বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ, বিধায়ক জাকির হোসেইন লস্কর এবং আব্দুল কালাম আজাদ অসমের গৃহ সচিবকে এক চিঠি দিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অসমের বাইরে নানা কাজে জড়িয়ে থাকা অসমের মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে এসে বায়োমেট্রিক পরীক্ষা দিতে পারবে না। বহিঃ রাজ্যে এবং বিদেশি কর্মসূত্ৰে আছে তাদের যদি অতিরিক্ত সময় দেওয়া না হয় তাদের নাম বাদ পড়ে যাবে।









কোন মন্তব্য নেই