সব্যসাচীকে ছেঁটে ফেলতে অনাস্থা আনার প্রক্রিয়া শুরু তাপসের নেতৃত্বে
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়: বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে দলের কাউন্সিলররা। পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ফোন করে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে। এবং ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশ পাওয়ার পরই তাপস চট্টোপাধ্যায় ও অন্যান্য কাউন্সিলররা অনাস্থা প্রস্তাব আনার খসড়া তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোমর বেঁধে নামছে দল। তাঁকে প্রথমে অনাস্থা প্রস্তাব এনে মেয়র পদ থেকে সরানো হবে। তারপর তাঁকে দলে রাখা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল।
এদিন তাপস চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ফিরহাদ হাকিমের ফোন তাঁর কাছে এসেছে। এবং তিনি মেয়র সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশের যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে বলেছেন। খসড়ার কাজ কালকের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ফলে মঙ্গলবার বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপারসন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কাছে তা জমা দেবেন তৃণমূলের প্রতিনিধিরা। এবং মেয়র সব্যসাচীকে যাতে অবিলম্বে ছেঁটে ফেলা হয় তার দাবি জানাবেন।
এরপর সাত দিনের একটি সময়সীমা থাকে। তারপরে ভোটাভুটি হবে। সেই ভোটাভুটিতে কি ফল হয় সেটাই এখন দেখার। তবে সব্যসাচী যে তৃণমূলে কোণঠাসা হয়ে পড়লেন তাই একপ্রকার বলাই যায়।
যদিও বিধাননগর পুরসভায় খুব সহজে মেয়র পদ থেকে সব্যসাচী দত্তকে ছেঁটে ফেলা যাবে না--এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে তেমনটাই স্পষ্ট করে দিলেন বিক্ষুব্ধ সব্যসাচী দত্ত। নিয়ম হল, এমন পদ থেকে কাউকে সরাতে হলে দুটি প্রক্রিয়া হয়। এক যদি সব্যসাচী দত্ত নিজে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। এবং দ্বিতীয়, তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ। সেক্ষেত্রে বাকী কাউন্সিলরদের ভোটাভুটিতে স্পষ্ট হয়ে যাবে সব্যসাচী দত্ত বিধাননগরের মেয়র পদে থাকতে পারবেন
কিনা।
এই প্রসঙ্গে সব্যসাচী বলেছেন, আগে দল মেয়র পদে তাঁকে চাইছে নাকি চাইছে না সেটা স্পষ্ট হোক। যেটাই হোক, সেটা তিনি আগে লিখিত ভাবে জানবেন। তারপর সেই চিঠির জবাব দেবেন। এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ঠিক করবেন। এমনকী ভোটাভুটি হলেই দেখা যাবে, জল কতটা গড়িয়েছে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন সব্যসাচী।
অর্থাৎ পুর প্রতিনিধিরা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের কাছে গিয়ে বৈঠক করলেও অনাস্থা প্রস্তাব পেশ এরপর ভোটাভুটিতে সব্যসাচীকে সরানো যে সহজ হবে না, তা এদিন তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। গোপনে অনেক পুর প্রতিনিধি সব্যসাচীর সঙ্গে রয়েছেন বলেও ঘুরিয়ে হেঁয়ালি করেছেন সব্যসাচী দত্ত। ফলে বিধাননগর পুরসভা নিয়ে নাটক যে জমে উঠেছে তা বলাই যায়।









কোন মন্তব্য নেই