প্রসঙ্গ : ২১-শে জুলাই
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : ‘‘শতাব্দীর সেরা কৌতুক’’ শীর্ষক একটা ছোট্ট পোস্ট আপলোড করেছিলাম গতকাল। সেটার কিছু উত্তপ্ত প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করেছিলাম আমার ইনবক্সে। যথারীতি আমি বিস্মিত হই নি-উত্তেজিতও হইনি। কারণ আমি জানতাম এবারের ২১-শে জুলাই সর্বকালের সেরা ফ্লপ শহিদ দিবস হতে চলেছে। আমার মাথাতেও ছিল-চাঁদিফাটা রোদ-গরম, উত্তরের বৃষ্টি, ধান্যরোপণের কাল, রবিবারের কম চলাচলের ট্রেন-বাস ইত্যাদি বিষয়গুলো-কিন্তু এগুলোকে অজুহাত হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন অনুভব করি নি--তার কারণ, এসব বিষয়গুলো এবারের জন্যেই বিশেষভাবে সৃষ্ট সমস্যা হিসেবে উঠে আসেনি। কম বেশি এসব সমস্যা প্রতি বছরেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
যেসব বিষয়গুলো বিচার বিশ্লেষণ করে আমি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে পূর্বাভাস দিয়েছিলাম-এবারেও সেইভাবেই কিছু নির্দিষ্ট বিষয়কে সামনে রেখেই উল্লেখিত পোস্টটা আপলোড করেছিলাম। মমতা’র ভাষণ চলাকালীন সামনের এবং বাঁদিকের প্রধান দুটি প্রশস্ত সড়কের যত দূর চোখ যায় তত দূর মানুষের থিকথিকে ভিড়ে এক দানা সরষে ফেলার জায়গা থাকত না-আজ সেই দুই রাস্তার চেহারা ছিল একেবারে ছানাকাটার মতো চেহারা। এক কথায় বলতে গেলে অকল্পনীয় দৃশ্য।
যুবরাজ অবশ্য জনপ্লাবন দেখেছেন এবং যথারীতি লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যেভাবে মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে নানান চুড়ান্ত ব্যর্থ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এবারেও সেই একই ভঙ্গিতে ভবিষ্যৎবাণী করলেন আগামী বিধানসভা ভোটে তিনি ২৫০-এর বেশি আসন পাবেন। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করার কোন মানেই হয় না। যেমন মানে হয় না ববি হাকিমের ভাষণ নিয়ে একটা শব্দও খরচ করার। তিনি যতটা বলেন ততটাই বিজেপি’র পক্ষে স্বস্তিদায়ক হয়ে থাকে। শুভেন্দু অধিকারি (একমাত্র উপস্থাপনযোগ্য দলের উজ্জ্বল আইকন) সামান্য সময় নিয়েছেন-বেশি সময় পেলে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু কথা বলতে পারতেন বলে আমার মনে হয়েছে।
মমতাকে অবশ্য এবারে বেশ খানিকটা ভিন্ন মেজাজে পাওয়া গেল। বক্তব্যের দৃঢ়তা থাকলেও এবারে আলটপকা কোনও মন্তব্য তিনি করেন নি এবং ভাষা ব্যবহারেও প্রশংসনীয় সংযম দেখিয়েছেন। তাঁর এই পরিবর্তন দলের পক্ষে লাভদায়ক হতে পারে।
যুবরাজ অবশ্য জনপ্লাবন দেখেছেন এবং যথারীতি লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে যেভাবে মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে ছুঁড়ে নানান চুড়ান্ত ব্যর্থ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন এবারেও সেই একই ভঙ্গিতে ভবিষ্যৎবাণী করলেন আগামী বিধানসভা ভোটে তিনি ২৫০-এর বেশি আসন পাবেন। এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করার কোন মানেই হয় না। যেমন মানে হয় না ববি হাকিমের ভাষণ নিয়ে একটা শব্দও খরচ করার। তিনি যতটা বলেন ততটাই বিজেপি’র পক্ষে স্বস্তিদায়ক হয়ে থাকে। কের দিয়ে কিভাবে কতদূর এই সংস্কার কর্ম বাস্তবায়িত করা যাবে সেটা এখনই বলা কঠিন। তবু তিনি যে ২১-এর নির্বাচনকে একেবারেই হাল্কা ভাবে নিচ্ছেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন।









কোন মন্তব্য নেই