Header Ads

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সন্ধানহীন হাফলঙের যুবক বিশ্বজিতের মৃতদেহ উদ্ধার হল নিউ কোচবিহারে

                          
  বিপ্লব দেব, হাফলংঃ শিয়ালদাহ থেকে হাফলং আসার পথে শুক্রবার নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সন্ধানহীন হয়ে যাওয়া হাফলং রেলওয়ে কলোনির বাসিন্দা বিশ্বজিৎ দেব ওরফে বুড়ার ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ আজ সকালে উদ্ধার হয় নিউ কোচবিহার স্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সন্ধানহীন হওয়ার পর বিশ্বজিতের কোন খোঁজ মিলছিল না আর এতেই তার পরিবারে উৎকন্ঠা বাড়ছিল। অবশেষে আজ সকালে নিউ কোচবিহার থেকে বিশ্বজিতের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তবে বিশ্বজিতের মৃত্যু সম্পূর্ণ রহস্যের আবর্তে ঘেরা। 


কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের এসি এ১ টুটায়ার কামরায় বিশ্বজিতের পাশের ২৪ নম্বর আসনের সহ যাত্রীর ভাষ্যমতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭ টায় ট্রেনটি নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে আসার পর বিশ্বজিৎ ট্রেন থেকে নেমে খাবার কিনতে যায়। এবং খাবার নিয়ে ট্রেনে চলে আসার পর সে দেখতে যেখান থেকে সে খাবার কিনেছিল সেখানে তার মোবাইল ছেড়ে আসে তারপর সে মোবাইল ফোনটি আনতে আবার ট্রেন থেকে নেমে পড়ে তারপর বিশ্বজিৎ আর ফিরে আসেনি তারমধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন ছেড়ে চলে যায়। তারপর থেকেই বিশ্বজিৎ সন্ধানহীন হয়ে পড়ে। এদিকে শনিবার দুপুরে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেন হাফলং পৌঁছার পর ও যখন বিশ্বজিৎ বাড়ি পৌঁছায়নি তখন পরিবারের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি স্যুইচ অফ আসছিল। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বিশ্বজিৎ সন্ধানহীন হয় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে কিন্তু তার ক্ষত বিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয় নিউ কোচবিহার স্টেশনের কাছে রেললাইনের পাশ থেকে তাই এটি একটি দূর্ঘটনা না খুনের ঘটনা এনিয়ে ধন্ধে রয়েছে বিশ্বজিতের পরিবার। এদিকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্বজিতের কোন খবর না পেয়ে তার দাদা বাবলা দেব হাফলং জিআরপি পুলিশের কাছে নিখোঁজ সংক্রান্ত এজাহার দিতে চাইলে জিআরপি এজাহার নিতে চায়নি বলে অভিযোগ। তারপর রাতে হাফলং থানায় বিশ্বজিতের নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি এজাহার দাখিল করে। এদিকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বজিতের কোনও খোঁজ না পেয়ে অবশেষে লামডিং জিআরপির সাহায্যে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত সব কয়টি স্টেশনের জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে জিআরপি লামডিং জিআরপিকে জানায় যে নিউ কোচবিহার স্টেশনের কাছে রেললাইনে একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে জিআরপি মৃতদেহের ছবি পাঠিয়ে দেয় লামডিং জিআরপির কাছে। এবং লামডিং জিআরপি তা হাফলং পাঠালে বিশ্বজিতের দাদা মৃতদেহ বিশ্বজিতের বলে সনাক্ত করে। এদিকে খবর পেয়ে সঙ্গে বিশ্বজিতের দাদা বাবলা দেব ও পরিবারের সদস্যরা নিউ কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। উল্লেখ্য কলকাতায় মাকে রেখে ১৯ জুলাই শিয়ালদাহ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস ট্রেনে হাফলং আসছিল বিশ্বজিৎ দেব। সন্ধ্যায় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে আসার পরই বিশ্বজিৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। তারপর আজ সকালে বিশ্বজিতের মৃতদেহ উদ্ধার হয় নিউ কোচবিহারে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.