Header Ads

বরাকে উন্নয়নের জন্য বিচ্ছিন্ন মানসিকতা ঢেকে গেছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রী সনােয়ালের

অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : ১৯৯১ সালে আমি ভেবেছিলাম, আমার রাজনৈতিক জীবন হয়তাে বা শেষ হয়ে গেল। বরাকঅসমের ক্যানসার, দিসপুর বরাকের প্রতি বৈমাতৃক সুলভ ব্যবহার করে। এইসব শুনতে শুনতে হতাশ হয়ে গিয়েগিলাম। বিজেপি ক্ষমতায় এল। সর্বানন্দ সনােয়াল আমাদের মুখ্যমন্ত্রী কম করেও ২২ বার তিনি বরাক সফর করেছেন। বরাকের মানুষ এখন ভাবতে শিখেছে, তাদের একজন অভিভাবক আছেন দিসপুরে। তাদের পরিবারের একজন সদস্য তিনি। আগে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি চছবি ভুলে গিয়ে ছিল বরাকবাসী। এখন শিশুরাও মুখ্যমন্ত্রীর মুখটা ভালােভাবেই মনে রাখে। আজ অসম বিধানসভায় ‘স্পিকার ইনিশিয়েটিভ' শীর্ষক আলােচনায় অংশ গ্রহণ করে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী তথা ব্রাকের প্রতিনিধি পরিমল শুক্লবৈদ্য এইভাবেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠলেন। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনােয়াল স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আলােচনায় অংশ গ্রহণ করে ব্রাক-ব্ৰহ্মপুত্র, পাহাড়-সমতলের সম-উন্নয়ন ও সমমর্যাদার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে দিয়ে বরাক উপত্যকার মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ২০১২ সালে বরাক উপত্যকার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বরাক কি অসমের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়? তবে কেন আপনারা বলেন, আমরা আসাম যাচ্ছি। জবাবে সেই ব্যক্তি বলেছিলেন, দিসপুর আমাদের সম্পর্কে যে বিরূপ মানসিকতা পােষণ করে—তারই প্রতিফলন হিসাবে আমাদের দিসপুর সম্পর্কেও ধারণা ভালাে নয়। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম এই মানসিকতার পরিবর্তন আনতেইহবে এবং বরাকবসীর হৃদয় জয় করতে হবে। সেই থেকে বরাকবাসীর প্রতি আমি নিরলসভাবে সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে চলেছি। বরাকের বিচ্ছিন্ন মানসিকতার বহুল পরিমাণে পরিবর্তন ঘটেছে। বরাকের মানুষকে যাতে দিসপুরের মুখাপেক্ষী হয়ে যাতে না থাকতে হয়, তাই বরাকে এক মিনি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাদের সরকার। যার ফলে বরাকের ৪০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে বরাককে গড়ে তুলতে চাইছি। দ্রুত যােগাযােগের সুবিধার্থে বরাকে গ্রিন ফিল্ড এয়ারপাের্ট স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যার ফলে আমদানিরপ্তানির সুবিধা হবে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে যােগাযােগ ব্যবস্থা সুগম হবে। শাসকবিরােধী বলে কোনও ক্ষতি নেই। যারা ভালাে কাজ করবে তাদের কোনও মৃত্যু নেই। অসমকে বিশ্বের দরবারে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়াস অক্ষুন্ন থাকবে বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, করিমগঞ্জে মালেডহরে সিপাহী বিদ্রোহে ২৬ জন ভারতীয় সেনা আত্ম বলিদান দিয়েছিল। পাঞ্জাবের ওয়াঘা সীমান্তে যেমন প্রতিদিন শহীদদের শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানাে হয়। ঠিক একইভাবে করিমগঞ্জের মালেডহরে তা করা সম্ভব কি না—তা কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে এক বিশেষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বরাক উপত্যকা।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.