কাজিরঙার বাঘগুলো কোথায় গেল?
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
রাষ্ট্রীয় উদ্যান কাজিরাঙা এক শিং বিশিষ্ট গণ্ডারের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত, গণ্ডার অসমের গর্ব জাতীয় স্মারক, সেই গণ্ডার এবং বাঘ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতিও বিখ্যাত। ২০১৫ সালের গণনা অনুযায়ী মোট গণ্ডার আছে ২৬৩৪ টি, ২০১৪ সালের গণনা অনুযায়ী বাঘ আছে ১৬৭ টি। এই দুই পশু নিয়ে লাখ লাখ টাকার দুর্নীতি, গণনার কারচুপি বিগত সরকারের সময় সব রেকর্ড গুঁড়িয়ে দেয়। গণ্ডারের শিং বাজারে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছে একাংশ বন বিভাগের অসাধু কর্মচারী, ওদিকে টাইগার প্রজেক্টের নামে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আছে, এমন কি জন্তু জানোয়ারদের জন্যে হাইল্যান্ড নির্মাণের নামেও দুর্নীতি হয়েছে।
ছবি, সৌঃ আন্তৰ্জাল
চলতি বন্যায় ৫ টি গণ্ডার এবং ৪০ টি হরিণ মারা গেছে। আজও হরিণের মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে ১৬৭ টি বাঘ গণনা করা হয়েছিল। এতসব জন্তু বন্যায় ডুবে বাঁচার জন্য অন্যত্ৰ আশ্ৰয় নিচ্ছে। এখন প্ৰশ্ন উঠছে কাজিরাঙ্গার এই বাঘগুলো কোথায় গেল? শুধুমাত্ৰ একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার কাজিরঙার পাৰ্শ্ববৰ্তী এলাকায় জনৈক এক ব্যক্তির বাড়িতে ঢুকে আশ্ৰয় নিয়েছে। উদ্যানের প্রায় ১০০ ভাগ বন্যায় ডুবে গেছে। তাহলে ১৬৭ টি বাঘ কোথায় গেল? সত্যিকারে ১৬৭ টি বাঘ আছে, না কি শুধু খাতায় কলমে সংখ্যা দেখিয়ে সব কেন্দ্রীয় টাইগার প্রজেক্টের টাকা খেয়ে ফেলা হয়েছে? প্রায় ১০ দিন বন্যার পরও তুলনামূলকভাবে বাঘের তো দেখা নেই। বাঘগুলো গেল কোথায়? এই প্রশ্ন আমাদের নয়, প্রকৃতিপ্রেমী সংগঠনগুলির। বৃহস্পতিবার নাজিরাতে দুটি চিতা বাঘ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজ্যের ৩২টি জেলায় বন্যার প্রকোপ অব্যাহত, গুয়াহাটির পাণ্ডু, উজান বাজার এলাকা প্লাবিত, নিম্ন অসমের ধুবড়ি, বরপেটা, মানকাছার, ফাকিরগঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলের অবস্থা আজও খারাপ, ওই অঞ্চলের বানভাসি মানুষ ডাক্তার ফতেহুল চৌধরী টেলিফোনে জানান ধুবড়ি সহ ফাকিরগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ, ত্রাণ সাহায্য পাচ্ছে না। ধুবড়ি জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পথ ঘাট সব ডুবে গেছে।









কোন মন্তব্য নেই