জলস্তর কমতে শুরু করলেও মানুষের দুৰ্দশা কমেনি, এপৰ্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে
কাজিরঙায় মৃত্যুর হার কমানো গেছেঃ পরিমল শুক্লবৈদ্য
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ
অসমে প্রায় ১০ দিন বন্যার তাণ্ডবের পর ৩১ টি জেলায় বন্যার জলস্তর হ্রাস পাচ্ছে, তবে মৃত্যুর হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ জনে। এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। পানীয় জল , পশু খাদ্য, শিশুদের আহার, ওষুধ পত্র প্রভৃতি ত্রাণ সাহায্যের জন্য হাহাকার অবস্থা।
ছবি, সৌঃ নিউজ১৮.কম
এই বন্যায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ক্ষতিগস্থ হয়েছে, প্রায় ৫ হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এখনও ৫১ হাজার মানুষ ত্রাণ শিবির গুলোতে আছে। কৃষি মন্ত্রী অতুল বরা বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৭৭০ হেক্টর কৃষি জমি বিনষ্ট হয়েছে। ৮০ কোটি টাকা রিলিজ করা হবে। বন্যায় মৃত ব্যক্তির নিকট পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এখনই জরুরি ভাবে ৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মতো কৃষি মন্ত্রী অতুল বরাও দাবি করেন অর্থ্যের কোনও অভাব নেই।
কৃষক মুক্তি সংগ্রাম কমিটির নেতা অখিল গগৈ বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন অসমের সব জেলা প্লাবিত হল অথচ কেন্দ্রীয় সরকার এক পয়সাও দিল না। রাজ্যের বকেয়া টাকা দিয়েছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার অসমের স্বার্থ পরিপন্থী অরুণাচল প্রদেশের দিব্যাং জল বিদ্যুৎ জল প্রকল্পের জন্যে ১৬০০ কোটি মঞ্জুর করে। এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অসম ডুববে।
এদিকে কাজিরাঙা রাষ্ট্রীয় উদ্যানে গণ্ডার অন্য প্রাণী ৬০ টির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রাজ্যের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্ল বৈদ্য জানিয়েছেন- গত ২০১৭ সালে বন্যায় শতাধিক প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল, এবার তা হয়নি বরঞ্চ ২৮টি প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন ১৩ কোটি টাকা খরচ করে ৩৩ টি হাইল্যান্ড নির্মাণ করার ফলে বন্য জন্তুরা প্রাণে বেঁচে যাচ্ছে। বন দফতরের কৰ্মীদের বক্তব্য- বন্যাকে অভিশাপ হিসেবে দেখা হয় ঠিকই, বন্যায় প্ৰত্যেক বছর কিছু প্ৰাণীর প্ৰাণ হানি হয়। কিন্তু বন্যার পর কাজিরঙায় বন্যার জলস্তর কমে যাওয়ার পর সেখানে ফের সবুজ পাতা জন্মায়। সেগুলি খেতে ভালবাসে গণ্ডাররা। এভাবেই কাজিরঙার প্ৰাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে।









কোন মন্তব্য নেই