উত্তরপূর্বাঞ্চলের জলসম্পদ সদ্ব্যবহারের জন্যে কেন্দ্র কমিটি গঠন করেছেঃ মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, অৰ্থমন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার দাবি, অৰ্থের অভাব নেই
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি
অসমের ৩৩ টির মধ্যে ৩২ টি জেলায় ব্রহ্মপুত্র, বরাক ও অন্যান্য নদী বন্যার জলে প্লাবিত, গত ১৫ বছরেও বন্যার এমন বিধ্বংসী রূপ দেখা যায়নি। শোনিতপুর এবং বরপেটাতে দুটি শিশু বন্যার জলে পড়ে মারা যায়, আজ পৰ্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যা প্লাবিত জেলাগুলি থেকে পানীয় জল এবং ত্রাণ সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ আসছেই। অপরদিকে অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়ে দিলেন রাজ্যের হাতে ত্রাণ সাহায্য দেবার মত, এবং বন্যা দুর্গতদের ঘর বাড়ি মেরামতের মতো পর্যাপ্ত অর্থ সরকারের হাতে আছে। জেলার ডেপুটি কমিশনারদের ৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে সেই টাকা ডিসি খরচ করতে পারেনি।
রাজ্যে ১৮ টি বাঁধ ভেঙ্গেছে, তা সংস্কার করার যথেষ্ট টাকা তাদের হাতে আছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করতেই হবে না। নতুন বাঁধ নির্মাণের জন্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এদিন বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করার পর শুক্ৰবার জেলা শাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে তিন মাসের মধ্যে ঘর বাড়ি মেরামত, শিশুদের পোশাক গবাদি পশু কেনা প্রভৃতির জন্যে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ত্রাণ শিবিরে না কাটালেও ঘরবাড়ি ক্ষতি গ্রস্ত হলে ৯৫ হাজার টাকা করে এবং ক্ষতিগ্রস্থদের বাসন পত্র, আসবাবপত্র প্রভৃতি ক্ষতির জন্যে ৩৮০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে ডিসিদের। তিনি অভিযোগ করেন ডিসিরা তাৎক্ষণিক ভাবে ত্রাণ সাহায্য দিতে অহেতুক বিলম্ব করে, বিল পাঠায় তিন মাস পর, এবার তা হবে না, তিনমাসের আগে দিতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকার অসমের বন্যাকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে গণ্য করে কেন আর্থিক সাহায্য করছে না? এই প্রশ্নের জবাবে হিমন্ত বলেন কেন্দ্রকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যার সঙ্গে চিন, তিব্বতের সম্পর্ক আছে, চিনের সঙ্গে কথা না বলে কোনও কিছু সম্ভব নয়, এর জন্যে গবেষণা দরকার, প্রকল্প তৈরি করতে হবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী বর্ষা মরশুমে নদীগুলির মধ্যে সংযোগের পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু তা মানলে অসমের ক্ষতির সম্ভাবনা, কেন্দ্রীয় সরকার অসমের বন্যাকে জাতীয় সমস্যা বলে গণ্য করলেও চিন তিব্বত নিয়ে প্ৰকল্প প্রস্তুত করবে কে? ওই দুই দেশকে সামিল করতে না পারলে। ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা সমস্যা সমাধান কোনও দিন হবে না।
ওদিকে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল এদিন বরাক উপত্যকায় বন্যা দুর্গত অঞ্চল পরিদর্শন করার পর বলেন, এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অসমের বন্যা সমস্যাকে চিরতরে সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে এক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। শুধু অসম নয় উত্তরপূর্বাঞ্চলের জল সম্পদকে সদ্ব্যবহারের জন্যে এই কমিটি গড়ে দিয়েছেন। অসমের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, ৩২ টি জেলার ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ত্রাণ সাহায্যের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।









কোন মন্তব্য নেই