আবারও সব্যসাচীর বাড়িতে মুকুল রায়, তৃণমূল নেতার বিজেপিতে যোগ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়: তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে ফের বৈঠক করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এদিন সাড়ে বারোটা পৌনে একটা নাগাদ তিনি বিধাননগরে সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে যান। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিটের মতো আলোচনা হয়। বেরিয়ে এসে মুকুল রায় জানান, ১৮ জুলাইয়ের অনাস্থাকে সামনে রেখেই আলোচনা হয়েছে। এদিন মুকুল রায়ের সঙ্গে ছিলেন বিজেপিতে যোগ দেওয়া উত্তর বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস।
মার্চের শুরুর দিকে মুকুল রায় গিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্তের বাড়িতে। এপ্রসঙ্গে সব্যসাচী দত্ত বলেছিলেন, ফোন করে মুকুল রায় বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি না বলতে পারেননি। লুচি-আলুর দম খেয়েই মুকুল রায় চলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন সব্যসাচী দত্ত। মুকুল রায় যে সময় তৃণমূলের ছিলেন, সে সময় তাঁর পছন্দের নেতাদের মধ্যে ছিলেন সব্যসাচী দত্তও। এরপর গত রবিবার রাতে বিধাননগরের সুইমিংপুল অ্যাসোসিয়েশনে বৈঠক হয়। সেই সময়ও মুকুল রায় বলেছিলেন সাম্প্রতিক সমস্যায় থাকা সব্যসাচী দত্তকে তিনি সাহায্য করতেই এসেছিলেন।
এদিন সেই বৈঠকের আগে দুপুরের দিকে মুকুল রায় বলেছিলেন, লোকসভা নির্বাচনে তাদের পক্ষেই ছিলেন সব্যসাচী। এদিন এমনটাই দাবি করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। আর ছিলেন বলেই ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টিতে বিজেপি এগিয়ে যেতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এদিনের বৈঠকের পর সব্যসাচী দত্তের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষ করে এদিন তৃণমূল ভবনে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ওই বৈঠকে সব্যসাচী দত্ত যোগ দেন নি।
কংগ্রেসকে হারাতে রাজ্যসভার কমিটিতে বিজেপির কাছে ভোট চেয়েছিলেন, খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সব্যসাচী দত্তের বাড়ি থেকে বেরনোর সময় এমনটাই দাবি করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তৃণমূল নেত্রীর চেয়েছিলেন বলেই বিজেপি ভোট দিয়েছে। দাবি করেছেন মুকুল রায়।
এমপ্লয়িজ স্টেট ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন বা ইএসআইসিতে রাজ্যসভা এবং লোকসভা থেকে একজন করে প্রতিনিধি থাকেন। সাধারণভাবে সহমতের ভিত্তিতে এই প্রতিনিধি নির্বাচন হয়ে থাকে। এমন অনেক কমিটি আছে, যেখানে বিভিন্ন দলের সদস্যরা প্রতিনিধি হিসেবে যান। এবারই কার্যত রীতি ভেঙে ভোটাভুটি। আর যার জেরেই তুলকালাম পরিস্থিতি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, রাজ্যসভায় ভোটাভুটিতে তৃণমূল প্রার্থীর পাওয়া কথা ১০ থেকে ১২ টি ভোট সেখানে তৃণমূলের দোলা সেন পেয়েছেন ৯০ টি ভোট। অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ৫০-এর আশপাশে ভোট পাওয়ার কথা থাকলেও প্রদীপ ভট্টাচার্য পেয়েছেন ৪৬ টি ভোট। প্রার্থী দিয়েছিল সিপিএমও। তাদের প্রার্থী করিম পেয়েছেন আটটি ভোট। আর বারোটি ভোট বাতিল হয়েছে।
ভোটে হারের পর প্রদীপ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, বিজেপির ভোটে জিতেছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির দুই প্রভাবশালী নেতার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন প্রকাশ জাভড়েকর তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। তাঁকে (জাভড়েকর) প্রশ্ন করায় উত্তর-এটাই সংসদীয় কৌশল। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাজ্যসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ সুখেন্দুশেখর রায়, অস্বস্তি এড়াতে দাবি করেছেন আঞ্চলিক দলের ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। বুধবারের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের দাবি যে কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্যের অভিযোগকেই সমর্থন করল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ওদিকে, কাঁচড়াপাড়া নিয়ে চিন্তা নেই তা বিজেপির দখলেই আছে। আর হালিশহর ফের বিজেপির দখলেই আসবে বলে আশ্বস্ত করলেন মুকুল রায়। এর জন্য সাত থেকে দশ দিন সময় লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তিনি। আপাতত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হবে বলে জানিয়েছেন মুকুল তিনি।
ফিরহাদ হাকিমের ভয় দেখানোর অভিযোগ উড়িয়ে মুকুল রায় বলেন, কাউকেই ভয় দেখিয়ে বিজেপিতে আনা হয়নি। কাউন্সিলররা সবাই নিজের ইচ্ছায় দিল্লিতে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার রাতে হালিশহরের বেশ কিছু কাউন্সিলরকে পাশে বসিয়ে মুকুল রায় বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে হালিশহরের চেয়ারম্যান অংশুমান রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনবে বিজেপি। মুকুল রায়ের দাবি অংশুমান রায় তাঁর দয়াতেই পুরপ্রধান হয়েছিলেন। রবিবার রাতে বীজপুরে ফিরেই কাঁচড়াপাড়ার বিজেপি কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠক করেন মুকুল রায়। পরে হালিশহর নিয়ে বৈঠক করেন তিনি।









কোন মন্তব্য নেই