Header Ads

সহিষ্ণুতা, ধৈৰ্য্য এবং পারস্পরিক শ্ৰদ্ধা না থাকলে বিধানসভার মান-মৰ্যাদা বিনষ্ট হয় : হিতেন্দ্ৰনাথ গোস্বামী


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
নীতি আয়োগের সাম্প্ৰতিক প্ৰতিবেদনে জলাভাব নিয়ে দেশ জুড়ে আলোচনা চলছে৷ নীতি আয়োগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেশের জল সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে সতৰ্ক বাৰ্তা জারি করে বলেছে০২০ সালের মধ্যে দেশের চারটি বড় শহর-সহ ২১ টি নগরের ভূগৰ্ভস্থ জল শুকিয়ে যাবে৷ সেইসঙ্গে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হবে৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় প্ৰশ্নোত্তর পৰ্বে নিৰ্দল সদস্য ভূবন পেগু নীতি আয়োগের প্ৰসঙ্গ তুলে সুবনশিরি জল প্ৰকপ্লের  নেতিবাচক দিকগুলি তুলে ধরেন৷ তিনি অণাচল প্ৰদেশের প্ৰস্তাবিত দিবাং ভ্যালি প্ৰস্তাবিত বৃহৎ জলবিদ্যুতের কথা তুলে ধরে বলেন, নীতি আয়োগ জল সম্পদের কথা নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলেছে৷ চেন্নাইয়ের মতো শহরে ইতিমধ্যে ভয়ানক জলকষ্ট শুরু হয়েছে৷ অসম-সহ উত্তর পূৰ্বাঞ্চলে অঢেল জলসম্পদ৷ এই জলসম্পদ যদি পাইপের মাধ্যমে দেশের জলহীন শুষ্ক অঞ্চলে সরবরাহ করা হয় তবে অসম সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্ৰহ করতে পারবে৷ 

ছবি, সৌঃ  আন্তর্জাল
দিবাং ভ্যালি জল-বিদ্যুৎ প্ৰকপ্ল বাস্তবায়িত হলে অণাচল প্ৰদেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা পাবে৷ এনএইচপিসি-র উদ্যোগে সুবনশিরি প্ৰকপ্ল বাস্তবায়িত হলে অসমের ডাউন মি এলাকা সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের জন্য প্ৰায় ৫০০ কোটি টাকা দেবে৷ রাজ্য সরকার যদি বাড়তি জল বহিঃরাজ্যে সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারে তবে সুবনশিরি প্ৰকপ্ল নিৰ্মাণে তাদের কোনও আপত্তি থাকবে না৷ কারণ কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলে তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবে৷ আজ বিধানসভায় সংসদীয় পরিক্রমা মন্ত্ৰী চন্দ্ৰমোহন পাটোয়ারি প্ৰোত্তর পৰ্বে জানান, এনএইচপিসি-র সঙ্গে অসম রাজ্য বিদ্যুৎ পৰ্ষদের বিদ্যুৎ ক্রয় সম্পৰ্কে এক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ৯ জুন৷ এই চুক্তি মোতাবেক সুবনশিরি প্ৰকপ্ল বাস্তবায়িত হলে অসম বিনা পয়সায় ২৫ মেগাওয়াট এবং অৰ্থের বিনিময়ে ২০৮ মেগাওয়াট পাবে৷ ২০১৩ সালের ১৪ অক্টোবর কেন্দ্ৰীয় সরকার রাজ্যকে জানিয়েছিল অতিরিক্তভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হবে৷ এই প্ৰসঙ্গে ভূবন পেগু বলেন, অরুণাচল প্ৰদেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা পাবে৷ অসমের অতিরিক্ত জলসম্পদ বহিঃরাজ্যে পাঠিয়ে অৰ্থের সংস্থান করতে পারবে৷ জলসম্পদ সম্পৰ্কে অসম বিধানসভায় মঙ্গলবার ‘অসমের বন্যা ও ধ্বসের মতো প্ৰাকৃতিক বিপৰ্যয় হিসেবে গণ্য করে রাজ্যকে আৰ্থিক সাহায্য দিতে হবে’ শীৰ্ষক সংকল্প প্ৰস্তাবের ওপর বেশ কয়েকজন বিধায়ক আলোচনায় অংশ গ্ৰহণ করে অসমের বাৎসরিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্ৰকাশ করেন৷ কেন্দ্ৰীয় সরকার অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উপযুক্ত আৰ্থিক সাহায্য দিছে না বলে বিরোধী বিধায়করা অভিযোগ করেন৷ বরাক উপত্যকার কংগ্ৰেস বিধায়ক কমলাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ অভিযোগ করেন, কেন্দ্ৰীয় সরকার বন্যা সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না৷ তিনি বলেন, ত্ৰাণ সাহায্য দেওয়াটা সরকারের দায়বদ্ধতার মধ্যে পড়ে৷ কেন্দ্ৰীয় সরকার ১০০কোটি টাকা ব্যয় করে বন্যার কাৰ্যকারণ সম্পৰ্কে গবেষণা পত্ৰ প্ৰস্তুত করবে বলে জানিয়েছে৷ কবে শেষ হবে সেই গবেষণা? তাঁর প্ৰশ্ন৷ উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক বলেন, সরকারি ত্ৰাণসাহায্য দিক না দিক তা নিয়ে বেশি কথা বলছি না৷ আর যাতে ত্ৰাণ সাহায্য দিতে না হয় বন্যা সমস্যার যাতে স্থায়ী সমাধান হয় সেই ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে৷ বরাকের কুশিয়ারা, লংগাই, বরাক নদীতে বন্যার সৃষ্টি হয়৷ মিজোরামের বন্যা বরাককে প্লাবিত করে৷ কেন্দ্ৰীয় সরকার  রাজ্যকে হাজার কোটি টাকা করে আৰ্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে৷ কিন্তু অসমকে সাম্প্ৰতিক বন্যায় মাত্ৰ ২৫১কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে যা প্ৰয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য৷ বলেন, বরাক নদীতে ড্ৰেজিং-এর কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে৷ এআইইউডিএফ-এর হাফেজ বশির আহমেদ বলেন, বরাক-ব্ৰহ্মপুত্ৰের বন্যায় রাজ্যে জমির প্ৰায় ৪০ শতাংশ জলে ডুবে যায় এবং কোটি কোটি টাকার জীবন সম্পদও নষ্ট হয়৷ গৃহহারা সৰ্বশান্ত সংখ্যালঘু সম্প্ৰদায়ের মানুষগুলি প্ৰাণ হাতে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্ৰয় নিতে বাধ্য হয়৷ সেইসব ভারতীয় নাগরিকদেরকে ডি-ভোটার বানিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হছে এবং এনআরসি তালিকায় নাম উঠছে না৷ বন্যা ও ধ্বসের সমস্যাকে জাতীয় বিপৰ্যয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে  অসমকে আৰ্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান৷ কংগ্ৰেসের জাকির হোসেন শিকদার বলেন, ১৯৫০সাল থেকে বন্যা ও ধ্বসের সমস্যা অসমের আৰ্থিক পরিস্থিতিকে দুৰ্বল করে তুলেছে৷ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, বছরে ৮০০০ হেক্টর জমি নদীগৰ্ভে তলিয়ে যায়৷ বনবিভাগ নদীর বালি ব্যবহার করে থাকে৷ বনবিভাগকে বন্যা সমস্যার ক্ষেত্ৰে দায়িত্ব নেওয়া উচিৎ বলে শিকদার মন্তব্য করেন৷ সুমন হরিপ্ৰিয়া, দেবানন্দ হাজরিকা, চক্র গোহাঁই প্ৰমুখ সংকল্প প্ৰস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখেন৷ আজ বিধানসভায় পবিন্দ্ৰ ডেকার এক প্ৰশ্নের জবাবে শক্তি বিভাগের দায়িত্বপ্ৰাপ্ত মন্ত্ৰী জানিয়েছেন, রাজ্যে প্ৰতিদিন সৰ্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার সময় বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পৰ্যন্ত৷ বিদ্যুতের প্ৰয়োজন ১৮৫০ মেগাওয়াট৷ রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় প্ৰতিদিন গড়ে ৬০মেগাওয়াট মাত্ৰ৷ নামরূপ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ৰকপ্ল ১০০মেগাওয়াট, আমগুড়ি শৌরশক্তি প্ৰকল্প ৭০মেগাওয়াট, নামরূপ শৌরশক্তি প্ৰকল্প ১৫মেগাওয়াট এবং নিম্ন কপিলি জলবিদ্যুৎ প্ৰকল্প ১২০মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে৷ বাকিটা বাইরের রাজ্য থেকে ক্রয় করা হয়৷ বিধানসভায় গতকালের হুলস্থল পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষ হিতেন্দ্ৰনাথ গোস্বামী বলেন, মাননীয় বিধায়কদের উচিত, বিধানসভার মান-মৰ্যাদা যাতে কোনও ভাবে ক্ষুন্ন না হয়৷ তিনি বিধায়কদের তিনটি নীতিকথা মেনে চলার পরামৰ্শ দেন৷ সহিষুতা, ধৈৰ্য্য এবং পারস্পরিক শ্ৰদ্ধা৷ তা মানা না হলে বিধানসভার মান-মৰ্যাদা বিনষ্ট হয় এবং গণতন্ত্ৰ টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয় না৷

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.