ফের লরি বোঝাই কয়লা বাজেয়াপ্ত বদরপুরে
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, বদরপুরঃ ফের বদরপুর পুলিশের জালে ধরা পড়ে অবৈধ কয়লা বোঝাই লরি। বিভিন্ন সূত্রের খবরের প্রকাশে জানাগেছে, সোমবার গভীর রাতে বদরপুর থানার ওসি জে কে বরা ও মালুয়া জলালপুর অস্থায়ী গেটের ইনচার্জ মিলে একটি অবৈধ কয়লা বোঝাই লরি আটক করেছেন। যার নম্বর হল - এন এল ০২ কিউ ৬৭০৪ । জানা গেছে এই ট্রাকের কয়লার সাথে কাগজ পত্রের কোন সামঞ্জস্য নেই। কোন কিছু ঠিক নেই দেখে বদরপুর পুলিশ কয়লা বোঝাই ট্রাকটি আটক করেছে। কিছু দিন ধরে অবৈধ কয়লার কালো ব্যবসার ধীরগতিতে চলেও এখন আবার চলছে জোরকদমে। চার পাঁচ দিনে তিন চারটি ট্রাক পার হলেও ব্যপারটি প্রকাশ্যে ছিল না। বর্তমানে, শুরু তহয়েছে সেই কালো বানিজ্য। গত ৩/৪ রাতে বেশ কিছু অবৈধ কয়লা বোঝাই ট্রাক মালিডহর দিয়ে প্রবেশ করে বদরপুর, করিমগঞ্জ দিয়ে ত্রিপুরা ও সুতারকান্দি হয়ে বাংলাদেশে গিয়েছে। অভিযোগ এই ঘটনার পিছনে প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন নাকি গুমড়া পুলিশ ও করিমগঞ্জ উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তারা।এক বিশেষ সূত্র থেকে জানা গেছে এই দুই তিন দিনে নাকি আমদানি হয়েছে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। যারা সবসময় কয়লার অবৈধ কারবারে বিশেষ ভূমিকায় থাকেন, তাদেরকে সাইডে রেখে নূতন তৈরি হয়েছে একটি দল। আবার সেই দলের নাম রাখা হয়েছে বি টিম। এর তৈরির পেছনেও নাকি গুমড়া পুলিশ ও করিমগঞ্জ পুলিশের ভুমিকা রয়েছে। মাস দুয়েক আগে এমন একটা সময় গেছে যখন মালিডহর থেকে অবৈধ কয়লা বোঝাই ট্রাক প্রকাশ্য দিনের আলোতেই কাছাড়ে ঢুকত। এসব নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশন শুরু হতেই পাচারের সময় বদল করা হয় রাতে। এভাবে মাস দুয়েক চলার পর অসম সরকার কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। সংবাদমাধ্যম জোরদার প্রকাশ হওয়ার ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অবৈধ কালো হীরের কালো কারবার। যে কয়লা সিণ্ডিকেটকে এসবের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, তারাও বাধ্য হয়েছিল পিছু হঠতে। কিন্তু এতে মাথাব্যাথা শুরু হয়ে যায় পুলিশ সহ কতিপয় দালালের। প্রতিরাতে লক্ষ টাকা আয় করা ব্যাক্তিদের বিকল্প পথ খোঁজা ছাড়া আর গতি থাকেনি।
করিমগঞ্জ পুলিশ ও গুমড়া পুলিশের একাংশ সহ কিছু ব্যাক্তির ফলে আবার সচল করা হয় কয়লা কারবারকে। সুত্রটি জানিয়েছে, গুমড়া পুলিশের ইনচার্জ মিলে তৈরি করেন নতুন ফর্মুলা। বহু আগে থেকেই গুমড়া কালাইন এর একদল কয়লা কারবারিকে অন্দোলনকারী বানিয়ে জাতীয় সড়কের পাশে বসানো হয়। তারা প্রতি রাতেই ওভারলোডের দরুন জাতীয় সড়ক ভেঙ্গে যাচ্ছে বলে চিৎকার চেচামেচী শুরু করে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল কয়লা ব্যবসায়ী। কিন্তু পেছন থেকে গুমড়া পুলিশের মদতে ওই আন্দোলন চলে বেশ কিছু দিন। তবে এই ব্যাপারটি টের পাননি সাধারণ আন্দোলনকারীরা। বর্তমানে সেই লোকদের দিয়ে প্রতিরাতে কয়লা বোঝাই ট্রাক গুমড়া এলাকা পার করাচ্ছেন। মালিডহর থেকে গুমড়া হয়ে যেসব কয়লা বোঝাই ট্রাক করিমগঞ্জ বা ত্রিপুরায় যায় তার সবগুলিই কিন্তু কাটিগড়া পুলিশের সামনে দিয়েই চলে। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারনে ট্রাকগুলি কাটিগড়া পুলিশের নজরে পড়ে না।
অথচ প্রতিরাতে ৬নং নম্বর জাতীয় সড়কের মদুয়া থেকে হিলাড়া এলাকায় পেট্রোলিং থাকে কাটিগড়া থানার পুলিশের। তবে সন্দেহের উর্ধে নয় করিমগঞ্জ জেলা পুলিশের বড় কর্তাও। সন্দেহ রয়েছে বদরপুর পুলিশের উপর। সূত্র মতে কয়লা সিণ্ডিকেটের সাথে করিমগঞ্জ পুলিশ সুপারের যদি সম্পর্ক নেই, তবে বদরপুরঘাট থেকে করিমগঞ্জ জেলায় অবৈধ কয়লার ট্রাক ঢুকে কি ভাবে। বদরপুর পুলিশ সন্দেহের তালিকায় থাকলেও বিভিন্ন সময়ে অবৈধ কয়লা বোঝাই ট্রাক আটক করছে। কিন্তু কোন কোন সময় দেখা যায় করিমগঞ্জ পুলিশ সুপারের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর তারা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে। অন্য একসূত্রে জানাগেছে করিমগঞ্জ পুলিশ সুপারের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে। তাই জোরকদমে শুরু হয়েছে কয়লার ব্যবসা। সংবাদ প্রতিবেদক পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে,তা সম্ভব হয়নি।









কোন মন্তব্য নেই