Header Ads

ভারত দর্শনে মাহীশূরের কৃষ্ণকুমার, ৭০ বছরের মা ছূড়া রত্না ২০ বছরের পুরোনো স্কুটার চড়ে শিলচরে

নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, শিলচর:
 মাহীশূরের বাসিন্দা বছর ৪০য়ের কৃষ্ণকুমার তাঁর ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা কে নিয়ে ২০ বছর পুরনো একটি স্কুটারে চেপে ভারত দর্শনে বেড়িয়েছেন। দেশের বিভিন্ন রাজ্য ঘুরে বর্তমানে শিলচরে রয়েছেন তিনি। নয়া ঠাহর প্রতিবেদনের সঙ্গে কথা বলেন কৃষ্ণকুমার এবং তাঁর মা। শিলচর তরুণী রোড়ের (রাঙ্গিরখারী) বাসিন্দা মান্না দত্ত এবং সঙ্গীতাঞ্জলি সংস্থার কর্ণধার নিবেদিতা সেনগুপ্তের বাড়িতে তাঁরা আতিথ্য গ্ৰহণ করেছিলেন। কৃষ্ণকুমার কৰ্ণাটকের মাহীশূরের বাসিন্ধা। চার বছর আগে তাঁর বাবা গত হন। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারে এখন তাঁরা দুইজনই সদস্য। 


২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি স্কুটারে চেপে কেরল, কর্ণাটক, তেলাঙ্গানা, পুদুচেরি, অন্ধ্ৰপ্রদেশ, তামিলনাড়ু সমেত ভারতের বিভিন্ন মঠ মন্দির ভ্ৰমণ শুরু হয়। ভারতের ১৭ টি রাজ্য ঘুরে মন্দির ও বিভিন্ন  তীর্থস্থান দৰ্শন করেছেন। এমনকি ভারতের বাইরেও নেপাল, ভুটান পৰ্যন্ত গিয়েছেন। গত এক বছর ৭ মাস ধরে স্কুটারে চেপে চলছে মা এবং ছেলের তীৰ্থভ্ৰমণ। এই ভ্ৰমণ কবে শেষ হবে তা তাঁদের জানা নেই। চার বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর বেঙ্গালুরুর একটি কোম্পানিতে কর্পোরেট লিডার হিসাবে চাকরি করতেন কুষ্ণকুমার । তখন তাঁর মাকে মাহীশূর থেকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসেন। 


বাবা থাকতে দশ জন পরিবারের সদস্য ছিলেন। মা চাকুরিরতা ছিলেন না। বাড়িতে কার কি লাগবে, না লাগবে সমস্ত কিছু কৃষ্ণকুমারের মা নিজে হাতে দেখাশোনা করতেন। একদিন মন্দির বা তীর্থস্থান ভ্ৰমণের ইচ্ছা প্ৰকাশ করেন। তিনি বলেন বেলুর বা স্থানিয় প্রসিদ্ধ মন্দির বা তীর্থস্থান কখনও দেখেননি। তাই মাকে নিয়ে ভারত সহ বহিৰ্ভারতের মঠ মন্দির ও তীর্থস্থান ঘুরে ঘুরে দেখার পালা শুরু হয়। বাবার উপহার দেওয়া ২০ বছরের পুরোনো স্কুটারে চেপে। কৃষ্ণকুমারের বিশ্বাস, তাঁদের সঙ্গে তাঁর বাবাও তীৰ্থযাত্রী হিসাবে রয়েছেন। তিনি ভারতীয় পুরোনো মন্দির ও তীর্থস্থানের ইতিহাস সংরক্ষিত রাখতে ভারত সরকারের নিকট আবেদন জানান। মা ও বাবার প্রতি কৰ্তব্য পালন করে তিনি বৰ্তমান যুব প্ৰজন্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন। ‘নয়া ঠাহর’ এর সঙ্গে  সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে শিলচরবাসীকে শুভেচ্ছা সহ শিলচরের তরনী রোডে বাসিন্দা মান্না দত্ত ও সঙ্গীতাঞ্জলি সংস্থার কর্ণধার নিবেদিতা সেনগুপ্তের আতিথেয়তা এবং যাত্ৰাপথে সহযোগিতার জন্য উচ্চ প্রশংসা করেন। এরপর মাকে নিয়ে স্কুটারে চেপে ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.