Header Ads

অসমে বন্যায় ৫০ জনের মৃত্যু, ত্রাণ দেওয়ার নামে প্রহসন, দমকল বসানো নিয়ে দুর্নীতি, মুখ্যমন্ত্রীর তদন্তের নিৰ্দেশ


নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ

অসমের ৩২ জেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়লেও বিজেপি সরকার এবং জেলা প্রশাসনগুলি যে ধরনের সক্রিয়ভাবে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ঝাপিয়ে পরা উচিত ছিল, তা হয় নি। রাজ্যে আজও ৭৫৫ টি ত্রাণ শিবিরে ১লাখ ৪৭ হাজার মানুষ আছে, ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান  সুষ্ঠভাবে হয়নি। তার ফলে  অধিকাংশ বন্যাপীড়িত জেলায়   মানুষ সামান্য পানীয় জল, পশুখাদ্য , নুন্যতম ওষুধ পত্র, শিশুর জন‍্য খাদ্য কিছুই পায়নি। বিভিন্ন জেলাতে বন্যাদুর্গত মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। উদ্ধার অভিযানে  নৌকা পর্যন্ত নেই , এসডিআর এফের হাতে মাত্র ১৫০ রাবার বোট আছে। যার দরুন এবার এই ভয়ংকর বন্যায় ৪৮ জন জলে ডুবে এবং ২ জন ভূমিধসের ফলে মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার সরকারি সূত্রে জানা গেছে। ৫০ জনের জলে  ডুবে মৃত্যু সহজ কথা নয়।  ত্রাণ নিয়ে   সর্বত্র চড়ম প্রহসন হয়েছে।বরপেটা, মাজুলি, গোলাঘাট, বোকাখাট প্রভৃতি এলাকায় পিএইচই বিভাগের  বসানো দমকলে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল  এদিন তদন্তের  আদেশ দিয়েছেন। দমকলগুলি  মাত্র ৭, ৮ ফুট গভীরে  বসানো হয়েছে। বন্যার্ত্যদের নুন দেওয়া হয়েছে নিম্ন মানের। বরপেটা এবং মরিগাঁওয়ের বন্যা দুর্গতদের   মধ্যে টাটা কোম্পানীর মতো   দেখতে তাজা সল্ট এবং সিটিজেন কে যার  নামে লবন সরবরাহ করা হয়েছে। এই নিম্ন মানের লবন গরু  ছাগলকে খাওয়ানো হয়েছে।   মুখ্যমন্ত্রী লবনের দুর্নীতি নিয়েও তদন্ত ঘোষণা করতে পারেন। অধিকাংশ বন্যা দুর্গত মানুষ বন্যার ৮, ১০ দিন পরেও চাল ডাল কিছুই পায়নি বলে ভুড়িভুঁড়ি অভিযোগ   আসছে। দেশের গর্ব অসমের বিপন্ন প্রজাতির গণ্ডারের মৃত‍্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ এবং হরিণ সহ অন্যান্য জন্তুর মৃত্যুর  সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে। আজ কাজিরাঙা, বোকাখাট অঞ্চলের দল সংগঠন   বনমন্ত্রী।পরিমল শুক্লবৈদ্যের পদত্যাগ দাবি করেছে। এতবড় বন্যার পরও মন্ত্রী একদিনও কাজিরাঙা পরিদর্শন না করার প্রতিবাদে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা , জলদম্পদ মন্ত্রী কেশব মহন্ত প্রমুখ  বিভিন্ন বন্যাপীড়িত এলাকা পরিদর্শন করেন। কংগ্রেস দলের  রকিবুল হোসেইন ও দল বল নিয়ে   বন্যাপরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
অসমের রাজ্যপাল জগদীশ মুখী এদিন ধুবড়ি গৌরীপুর প্রভৃতি বন্যাপীড়িত অঞ্চল পরিদর্শন করে   মানুষের অভাব অভিযোগ শুনে তা অবিলম্বে সুরাহার জন্যে জেলা  প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.