বদরুদ্দিন আজমল-কংগ্ৰেস একই ভাষায় কথা বলেঃ দেশের পক্ষে বিপজ্জনক দুই দলঃ যোগী আদিত্যনাথ
সঞ্জিত সরকার, হোজাইঃ ‘কংগ্ৰেস দল এবং বদরুদ্দিন আজমল যে ভাষায় কথা বলে তা দেশের সুরক্ষার জন্য হানিকারক। কংগ্ৰেস এবং বিজেপি বিরোধী মহাজোট কেবল মাত্ৰ পরিবারবাদ এবং বংশবাদের রাজনীতি করে’- ১০ নং নগাঁও লোকসভা কেন্দ্ৰের বিজেপি প্ৰাৰ্থী রূপক শৰ্মার পক্ষে নিৰ্বাচনী প্ৰচারে এসে শনিবার হোজাইয়ের এক বিশাল জনসভায় এআইইউডিএফ সুপ্ৰিমো মৌলানা বদরুদ্দিনের জন্মভিটায় এমন চাঁচাছোলা ভাষাতেই এআইইউডিএফ এবং কংগ্ৰেসকে আক্ৰমণ করলেন উত্তরপ্ৰদেশের মুখ্যমন্ত্ৰী যোগী আদিত্যনাথ। বিজেপি প্ৰাৰ্থী রূপক শৰ্মার সমৰ্থনে হোজাইয়ের বিহুতলি ময়দানে আয়োজিত ‘বিজয় সংকল্প সমারোহ’তে মুখ্য বক্তার ভাষণে যোগী আদিত্যনাথ তাঁর ভাষণের শুরুতে অসম তথা অসমবাসীর ভূয়সী প্ৰশংসা করেন। সুধাকন্ঠ ড০ ভূপেন হাজরিকার বিখ্যাত গান ‘ মহাবাহু ব্ৰহ্মপুত্ৰ, মহামিলনের তীৰ্থক্ষেত্ৰ’র কথা উল্লেখ করে স্বাধীনতা সংগ্ৰামে অনবদ্য অবদান রাখা অসমের সকল বীর সেনানীদের নাম উল্লেখ করে তাঁদের শ্ৰদ্ধা জানান যোগী। অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারীর প্ৰসঙ্গ টেনে কংগ্ৰেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন- কংগ্ৰেস সবসময় অবৈধ অনুপ্ৰবেশকারীদের নিয়ে আপোস করে এসেছে। বিজেপি কিন্তু এ ব্যপারে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি। তিনি বলেন- ২০১৪ সালে নরেন্দ্ৰ মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি দল ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’ স্লোগান দিয়ে দিল্লির মসনদে আসীন হয়ে দেশের সৰ্বাঙ্গীন বিকাশ, দেশের সুরক্ষা এবং সুশাসন এই ৩টি ক্ষেত্ৰেই সফলতা দেখিয়েছে। উন্নয়নের ক্ষেত্ৰে জাত পাত, ধৰ্ম বৰ্ণ ভেদাভেদ, ভুলে কাজ করেছে মোদি সরকার। গত ৫ বছরের ‘রিপোৰ্ট কাৰ্ড’ নিয়েই ‘ফের একবার মোদি সরকার’ স্লোগান দিয়ে বিজেপি মিত্ৰ জোট ২০১৯-এর নিৰ্বাচনে জনগণের মুখোমুখি হচ্ছে এবং জয়ও নিশ্চিত করবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করেন যোগী আদিত্যনাথ। কংগ্ৰেস তথা ইউপিএ-র শাসনকালে দেশের সৰ্বত্ৰ উগ্ৰপন্থী সমস্যা, রুটিরুজির সমস্যা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। এমনই অভিযোগ করেন যোগী। তিনি আরও বলেন- নরেন্দ্ৰ মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি তথা এনডিএ সরকার ডোকলাম আগ্ৰাসন নিয়ে চিনকে এবং পুলওয়ামা কাণ্ড নিয়ে পাকিস্তানকে সমূচিত জবাব দিয়েছে। উত্তরপূৰ্ব ভারত ইতিমধ্যেই কংগ্ৰেস মুক্ত হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করে ইউপি-র মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন- অসমের উন্নয়নে সৰ্বানন্দ সনোয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজ্যের বিকাশের কাজে ৩ বছর সম্পূৰ্ণ করেছে। কংগ্ৰেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে ‘উত্তরপ্ৰদেশ থেকে ভগোড়া’ বলে তীব্ৰ ভাষায় আক্ৰমণ করে যোগী বলেন- আমেথি থেকে হারের ভয়ে পালিয়ে কেরলে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। প্ৰসঙ্গক্ৰমে তিনি আরও বলেন- কেরলের ওয়ানাড লোকসভা কেন্দ্ৰে মনোনয়ন পত্ৰ পেশ করার দিন কেরলের ভূমিতে কংগ্ৰেস পতাকা এবং মুসলিম লিগের পতাকার ছয়লাপ হয়ে গেছে। যে মুসলিম লিগ দেশ ভাগের জন্য দায়ী সেই মুসলিম লিগের সঙ্গে সখ্যতা করে কংগ্ৰেস শুধু উগ্ৰ সাম্প্ৰদায়িকতাকেই উস্কে দেয়নি বরং দেশের গণতন্ত্ৰকেও একপ্ৰকার বিপন্ন করে তুলেছে। বিজেপি প্ৰাৰ্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান তিনি। সেইসঙ্গে তিনি কংগ্ৰেস নেতা প্ৰদ্যুৎ বরদলৈকে ‘ফেইলড লিডার অৰ্থাৎ ব্যৰ্থ নেতা বলে মন্তব্য করেন। এদিনের জনসভায় ৩০ হাজারেরও বেশি লোকের উপস্থিতি ছিল। উপস্থিত ছিলেন হোজাইয়ের বিধায়ক শিলাদিত্য দেব, রাজ্যের মন্ত্ৰী পীযুষ হাজরিকা, লামডিঙের বিধায়ক শিবু মিশ্ৰ, প্ৰাক্তন বিধায়ক সুশীল দত্ত প্ৰমুখ। তবে এদিনের নিৰ্বাচনী সভায় নগাঁও কেন্দ্ৰের বৰ্তমান বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্ৰীয় রেলমন্ত্ৰী রাজেন গোহাঁইয়ের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয় ব্যপার। উল্লেখ্য, আগামী ১৮ এপ্ৰিল দ্বিতীয় পৰ্যায়ে নগাঁও লোকসভা কেন্দ্ৰে ভোটগ্ৰহণ হবে।









কোন মন্তব্য নেই