Header Ads

অসমের গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে আরও একটি প্ৰাণ গেল


গুয়াহাটিঃ  "অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পে আরও কতজন হিন্দু বাঙালির মৃত্যু হলে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ও অৰ্থমন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মার জিঘাংসা পূরণ হবে? গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু হয়েছে সত্তর বছরের বৃদ্ধ অমৃত দাসের। পাশাপাশি এনআরসি কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয়েছে বলরাম চক্রবর্তীর৷ রাজ্যের বিজেপি সরকার হিন্দু বাঙালির এই মৃত্যু মিছিল দেখেও অমানবীয় ও রহস্যজনক ভাবে নীরবতা পালন করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক !" অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পাল গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন৷ তিনি বলেন, ধর্মের নামে বিষ ছড়িয়ে বিজেপি হিন্দুত্বের যে শ্লোগান আওড়াচ্ছে, সে আগুনে হিন্দু বাঙালিরাই দগ্ধ হচ্ছে৷ এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দলকে দুহাত উজাড় করে ভোট দিয়েছেন৷
কিন্তু উগ্র জাতীয়তাবাদী চিন্তার উত্তরণ বৃদ্ধি করতে চাওয়া এইসব বিজেপি নেতারা হিন্দু বাঙালি জাতিসত্ত্বাকে নিঃশেষ করতে সচেষ্ট হয়েছে ৷ তাদের প্রতিশোধ পরায়ণতার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বাঙালির দ্বিজাতি তত্ত্বকে সামনে এনে হিন্দু-মুসলমানে ভাগ করতে সফল হয়েছে৷ যার পরিণতিতে একের পর এক আত্মহত্যা ও মৃত্যুর প্রতিবাদ করার পরিবর্তে হিন্দু বাঙালিরা বিজেপি দলেরই স্তাবক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে৷ ভোটের প্রচলিত ব্যবসায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও আক্রোশই হচ্ছে বিজেপির প্রধান অস্ত্র ! সেক্ষেত্রে, গেরুয়া দলের বিরুদ্ধে অসমের হিন্দু বাঙালিরা এই ক্ষয়িষ্ণু ব্যাধির উপাচার না করলে অচিরেই নিঃশেষ হওয়া অবধারিত৷ বরপেটা শহরের ১০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অমৃত দাস গোয়ালপাড়া ডিটেনশান ক্যাম্পে আটক বন্দিদের সঙ্গে অনশন করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে৷ সত্তর বছরের বৃদ্ধ প্রয়াত অমৃত দাস পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে৷ সাধারণ সম্পাদক চিত্ত পাল আরও বলেন, গত ৪ মার্চ বিজেপির ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ নগাঁওয়ের এক জনসভায় সদম্ভে ঘোষণা করেছেন যে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অসম চুক্তির ৬ (ক) ধারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে৷ যার অর্থ হচ্ছে, ভূমিপুত্রদের একশো শতাংশ জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার সংরক্ষণ৷ ওদিকে, হিমন্তর মস্তিষ্কপ্রসূত অসম চুক্তির ভিত্তিবর্ষ ১৯৭১ সালের পরিবর্তে ১৯৫১ সালের নিশ্চিয়তা প্রদান করতে রেজিষ্ট্রার জেনারেল অফ ইণ্ডিয়া (আরজিআই) ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে৷ এই প্রক্রিয়ায় ১৯৫১ সালের পর আগত হিন্দু বাঙালিরা শরণার্থীর মর্যদাও পাবেন না৷ এমন সংকীর্ণ চিন্তাধারার বশবর্তী হয়ে পরিচালনা করা বিজেপি সরকারকে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ব্রহ্মপুত্রে ছুঁড়ে ফেলতে হিন্দু বাঙালিদের প্রতি চিত্ত পাল আহ্বান জানান৷

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.