Header Ads

ডিটেনশন ক্যাম্পে অনশন ধর্মঘট করেও বিচার পেলেন না, ভারতীয় নাগরিক বৃদ্ধ অমৃত দাস অবহেলায় মারা গেলেন


অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ ‘‘ভারতীয় নাগরিক বৈধ নথি পত্র থাকা সত্বেও আমাদের গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আমাদের পরিবার সব ধংস হয়ে যাচ্ছে। টাকা পয়সা নেই মামলা চালানোর ক্ষমতা নেই। জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে মৃত্যুর দিন গুনছি।’’ গত বছর ২২ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এক স্বারকপত্র পাঠিয়ে ওই কাতর আবেদন করেছিলেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ অমৃত দাস। বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার বছর খানিক বাদে অমৃত দাসকে বিনা অপরাধে গোয়ালপাড়া ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়। ঠিকমতো খাবার নেই,   চিকিৎসা নেই। অসুস্থ পরিবেশে থেকে গতকাল শনিবারের বারবেলায় গোয়ালপাড়া সিভিল হাসপাতালে মারা গেলেন। এর আগেও এই তথাকথিত ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত পরশু শোনিতপুর জেলার তেজপুরে এক এনআরসি কেন্দ্রে যাবার পথে বলরাম চক্রবর্তী নামে এক অসুস্থ ব্যাক্তি মারা যান বলে খবর পাওয়া গেছে। বরপেটার পুরানো বাসিন্দা ভারতীয় নাগরিক অমৃত দাসদের তদন্ত না করে একপক্ষ ভাবে বিদেশি বানিয়ে জেলে পাঠানো হয়। অবিচারের বিরুদ্ধে গোয়ালপাড়া জেলের হিন্দু মুসলিম বাঙালি গরিব বন্দীরা দু দুবার জেলের মধ্যে অনশন ধর্মঘটে বসেছিলেন। অসম বিধানসভায় বন্দিদের সমস্যা নিয়ে বিরোধীরা প্রতিবাদ করেছিলেন। অমৃত দাসের ভোটার তালিকায় নাম ছিল। ভোটার পরিচয় নম্বর   হলো জিএমএল ১৪৬৭০৭৮। গত বছর ২২ এপ্রিল অমৃত দাসের সঙ্গে আরও ১৪০ জন গোয়ালপাড়ার ডেপুটি কমিশনার তথা জেলের সুপারের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। অমৃত দাস ৮৭ নম্বরে টিপসই দিয়েছিলেন। মিন্টু ঘোষ, বাবুল সরকার, সুজিত বালা, আলিমুদ্দিন খান, শ্যামল ঘোষ, রসুল উদ্দিন প্রমুখ। সেই কাতর আবেদনে তারা বারবার দাবি করছেন তারা ভারতীয়, তাদের আত্ম পক্ষের সুযোগ দেওয়া হোক, এমনকি তারা প্রকৃত ভারতীয় কিনা তা প্রমাণের জন্যে ডিএনএ টেস্ট ও করা হোক। ৭০ বছরের      বৃদ্ধ অমৃত দাসের কাতর আবেদনও সরকার সাড়া দিল না। সব আবেদনের বাইরে চলে গেলেন। সন্তান পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আর বিজেপি সরকারের জেলে কাটাতে হবে না। অমৃত লোকে চলে গেলেন অমৃত দাস। অমৃত দাস এর মৃত্যর প্রতিবাদে আজ বরপেটা তে  প্রতিবেশীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।সিভিল  হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ নিতে চাইনি পরিবারের  মানুষরা।সারা আসাম বাঙলি যুব ছাত্র ফেডারেশন অভিযোগ করেছে এক  পক্ষ ভাবে তাকে বিদেশি বানানো হয়েছে।তার ভোটার তালিকায় নাম আছে, লিগাসি ডাটা আছে ,কোড নম্বর  ১২০০০১৮৭৮৭৬ । অমৃত দাস  খুবই গরিব  মানুষ ।এডভোকেট তার কাছে প্রচুর টাকা দাবি করেছিল।  পরিবারের মানুষজনদের সঙ্গে   মিলতে দেওয়া হয়নি,দেখা করতে দেয়া হয়নি বলে  পরিবারের মানুষ অভিযোগ করেছে।অসমে   আগেও  ডিটেনশন ক্যাম্পে সারকারী অবহেলায় কয়েকজন মারা গেছে ।দেশের মানবাধিকার  সংস্থা গুলি  বিস্ময়কর  ভাবে  চুপ।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.