Header Ads

ডিমা হাসাও জেলায় বেছে বেছে বাঙালিদের বিদেশী নোটিশ পাঠানোর অভিযোগ সীমান্ত পুলিশের বিরুদ্ধে

   বিপ্লব দেব, হাফলংঃ রাজ্যের সর্বানন্দ সানোয়াল দুর্নীতিতে জিরো টোলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও রাজ্য সরকারের গৃহ বিভাগের অধীনে থাকা অসম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এবার ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ডিমা হাসাও জেলায় অসম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এধরনের গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। ডিমা হাসাও জেলার বিভিন্ন স্থানে সীমান্ত শাখার পুলিশ বেঁছে বেঁছে বাঙালিদের জোর করে বিদেশী নোটিশ পাঠিয়ে টাকা দাবি করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ভারতীয় হওয়ার প্রমানপত্র দেখানোর পরও হেনস্থা বন্ধ হচ্ছেনা। সীমান্ত পুলিশকে দাবি মত টাকা মিটিয়ে না দিলে  ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করছে সীমান্ত শাখার পুলিশ। লোয়ার হাফলং কাশীপুরের হতদরিদ্র পরিবারের এক মহিলা রত্না মালাকারকে ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ প্রমান পত্র থাকার পরও শুধু সীমান্ত শাখার পুলিশের দাবি করা ১০ হাজার টাকা মিটিয়ে না দেওয়ার জন্যই বিদেশী সাজিয়ে রত্নাদেবীকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নরক যন্ত্রনার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়। ডিমা হাসাও জেলার  বেছে বেছে শুধু বাঙালিদের টার্গেট করে বিদেশীর নোটিশ ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যাদের বিদেশী নোটিশ পাঠানো হচ্ছে পুলিশের সীমান্ত শাখার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমানপত্র থাকার পরও নানা ভাবে হেনস্থা করে সীমান্ত শাখার পুলিশ হুমকি দিচ্ছে যে দাবি মত টাকা না দিলে তাদের ওপর বিদেশী তকমা সেটে দিয়ে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে। ডিমা হাসাও জেলার হাফলং উমরাংশু হাতিখালি লাংটিং এলাকায় সীমান্ত পুলিশ এখন পর্যন্ত অনেক বৈধ ভারতীয় নাগরিককে বিদেশী সাজিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠেলে দিয়েছে। রাজ্যে রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি নবায়নের কাজ চলাকালীন ডিমা হাসাও জেলার সীমান্ত শাখার পুলিশ প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের বিদেশী নোটিশ পাঠিয়ে এভাবে হেনস্থা করছে।  কিন্তু এত সব অভিযোগের পরও এনিয়ে রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। উল্লেখ্য, লোয়ার হাফলং কাশীপুরের বাসিন্দা রত্না মালাকার ভারতীয় নাগরিক হওয়ার সব প্রমানপত্র দাখিল করার পরও হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য রঞ্জন কুমার ভরালী একতরফা রায়ে রত্না মালাকারকে বিদেশী ঘোষণা করলেও রত্নাদেবীর নাম এখনও ভোটার তালিকায় রয়েছে এমনকি রত্না মালাকারের নামে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফটো ভোটার স্লিপ পাঠানো হয় ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য। এর থেকেই প্রমান হয়েছে যে সীমান্ত শাখার পুলিশ ও এই মামলার আইনজীবি ও হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য রঞ্জন কুমার ভরালীর কু-চক্রান্তে একজন বৈধ ভারতীয় নাগরিক হওয়ার পর ও রত্না মালাকারকে বিদেশী ঘোষণা করা হয়। তবে শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশ পাওয়ার পর রত্নাদেবীকে ন্যায় পাইয়ে দিতে অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এগিয়ে এসেছেন। রত্না মালাকারের পরিবার মনে করছে এবার হয়ত ন্যায় মিলবে তাদের।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.