Header Ads

ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ কাগজ থাকার পরও হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এক তরফা রায়ে রত্না মালাকারকে বিদেশী ঘোষণা করল



বিপ্লব দেব, হাফলংঃ রাষ্ট্রীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) প্রথম খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে। এমনকি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের আগে ভারতীয় হওয়ার বৈধ কাগজপত্র সহ ভোটার পরিচয় পত্র থাকার পর ও লোয়ার হাফলং কাশীপুরের বাসিন্দা রত্না মালাকার গত তিন বছর থেকে কোকরাঝাড় ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি রয়েছেন। হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের এক তরফা রায়ে ভারতীয় হয়েও বিদেশীর তকমা নিয়ে কোকরাঝাড় ডিটেনশন ক্যাম্পই এখন স্থায়ী ঠিকানা রত্নাদেবীর। ২০১৭ সালের ১৪ মে হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য রঞ্জন কুমার ভরালী একতরফা রায়ে রত্না মালাকারকে  বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করার পর ডিমা হাসাও জেলার সীমান্ত পুলিশ রত্না মালাকারকে লোয়ার হাফলং কাশীপুর স্থিত বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে কোকরাঝাড় ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়। অথচ করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর বিধানসভা কেন্দ্ৰের হাসানপুর খৈরাবাড়ি গ্রামে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। রয়েছে এনআরসির প্রথম খসড়া তালিকায় রত্নাদেবীর নাম। রত্না মালাকারের জন্ম ১৯৭০ সালের ২০ ডিসেম্বর কাছাড় জেলার সোনাই থানার অন্তর্গত রুকনী ৪র্থ খন্ড গ্রামে জন্ম। এমনকি ধলাই বিধানসভা চক্রের রুকনী ৪র্থ খন্ড গ্রামে ১৯৬৫ ও ১৯৬৬ সালের ভোটার তালিকায় রত্না মালাকারের বাবা কুসুম রায়ের নাম রয়েছে। ১৯৬৬ সালের লিগ্যাসি ডাটায় রয়েছে কুসুম রায়ের। রত্না মালাকারের কাছে রয়েছে ভারতীয় হওয়ার সব বৈধ কাগজ পত্র তারপরও রত্নাদেবীকে হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের সদস্য রঞ্জন কুমার ভরালী এক তরফা রায়ে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করেন। বদরপুর হাসানপুর খৈরাবাড়ির বাসিন্দা নীলু মালাকার কর্মসুত্রে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করছেন লোয়ার হাফলং কাশীপুরে। নীলু মালাকার শ্রমিকের কাজ করেন। হতদ্ররিদ্র পরিবারের এই মহিলাকে ২০১৭ সালের এপ্রিলে ডিমা হাসাও জেলার বর্ডার পুলিশ বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। রত্না মালাকারের ছোট ভাই কাঞ্চন রায় বলেন বাঙালি হয়ে জন্ম নেওয়াই আমাদের কাছে অভিষাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঞ্চনবাবুর অভিযোগ ডিমা হাসাও জেলার সীমান্ত শাখার পুলিশ রত্না মালাকারকে বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করে এই মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। এমনকি এই মামলার আইনজীবি ও এই হতদরিদ্র পরিবারের কাছে মামলাটি নিষ্পতি করার জন্য ১৪ হাজার টাকা দাবি করে রত্নাদেবীর পরিবার ওই টাকা দিতে না পারায় ভারতীয় হওয়ার সব বৈধ কাগজ পত্র থাকার পর ও রত্না মালাকারকে হাফলং ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল এক তরফা রায়ে বিদেশী হিসেবে ঘোষণা করে কোকরাঝাড় ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয় বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন রত্নাদেবীর ছোটভাই কাঞ্চন রায়। এদিকে রত্না মালাকারকে বিদেশী ঘোষণা করে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি করে রাখার পর থেকেই তার বড় ছেলে সোনা মালাকার মানষিক ভারসাম্য হাড়িয়ে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদক রত্না মালাকারের বাড়িতে উপস্থিত হলে সোনা মালাকারের মুখ দিয়ে কিছুই বের করা যায়নি। মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে রয়েছে ছেলে। এদিকে হতদরিদ্র রত্না মালাকারের পরিবার গত তিন বছর থেকে ন্যায় বিচারের জন্য দৌড়ঝাপ করতে থাকলে ও কিছুই করতে পারেনি। কেউ তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন রত্না মালাকারের পরিবারের সদস্যরা তাই এবার বাধ্য হয়ে সংবাদ মাধ্যমের দারস্থ হন রত্নাদেবীর পরিবার।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.