পুত্র কন্যাকে হত্যা করে আত্মঘাতী মা
কোকরাঝাড়, নয়া ঠাহর প্রতিবেদন:জীবনের প্রতি কতখানি বিতৃষ্ণা হলে এক মা তার দুই সন্তানকে দা দিয়ে কেটে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করতে পারে। বাস্তব হয়তো এতটাই কঠিন। আর দরিদ্রতা হয়তো সবচেয়ে বড় অভিশাপ । কোকরাঝাড় জেলার ফকিরাগ্রাম থানার অন্তর্গত বেচিমারি গ্রামের বাসিন্দা দীনবন্ধু দাসের স্ত্রী সুজলা দাস(২৮) স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁদের দুই সন্তান রিমপা দাস(৯) ও দিগন্ত দাসকে(২) দা দিয়ে হত্যা করার পরে নিজেও কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যা করার ঘটনা সম্পূর্ণ জেলাতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য, কোকরাঝাড় জেলার ফকিরাগ্রাম থানার অন্তর্গত বেচিমারী গ্রামের বাসিন্দা দীনবন্ধু দাস ও তাঁর পত্নী স্ত্রী সুজলা দাসের দুই সন্তান রিম্পা দাস (৯) আর দিগন্ত দাস (২) দিব্যাংগ হবার সাথে পরিবারটি অভাবগ্রস্ত ছিল। বড় মেয়ে রিম্পা দাস দিব্যাংগ হওয়ার জন্য তার মা-বাবার দুঃখ তো ছিলই কিন্তু পুত্র সন্তান জন্মের পরে যখন পুত্র একটু বড় হয় তখন জানতে পারা গেল যে পুত্র বিশেষভাবে সক্ষম । সাধারণ রংমিস্ত্রি দীনবন্ধু দাস গুয়াহাটি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে নিজের দুই সন্তানকে চিকিৎসা করার জন্য নিয়ে গেছিল যদিও অর্থের অভাবে সন্তানের চিকিৎসা করতে পারেনি ।
অর্থাভাবে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ফকিরাগ্রামের হাসপাতালেই সন্তানের চিকিৎসা অব্যাহত রেখেছিল ।অন্য দিনের মতো শনিবারও দীনবন্ধু সকালবেলা কাজের জন্য বাইরে যায় । এরপর এই ঘটনা সংঘটিত হয়। কিভাবে ঘটনা সংঘটিত হয়েছে সে কথা সে জানেনা । অনুমান করা হচ্ছে যে যে সময়ে ঘটনাটি ঘটেছিল সেই সময় এলাকাতে ঝড়ের তান্ডব চলছিল।
দীনবন্ধু দাস যখন ঘরে ফিরে আসে তখন সে প্রত্যক্ষ করে ঘটনাটি। খাটের উপর পড়েছিল তার ছেলে ও মেয়ের রক্তাক্ত মৃতদেহ আর সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া স্ত্রীর মৃতদেহ নীচে পোড়া অবস্থায় প্রত্যক্ষ করার পরে সে দৌড়ে গিয়ে আশেপাশের লোকদের খবর দেয়। খবর পেয়ে আশেপাশের লোক ওরা ছুটে আসে। এর পরে পুলিশ আসে ।পুলিশ আসার পরে মৃতদেহ তিনটিকে পোস্টমার্টেমের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। সমস্ত ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ একটি মামলা রজ্জু করে তদন্ত শুরু করছে।









কোন মন্তব্য নেই