অসমে প্রথম পর্যায়ের ভোটদান সম্পন্ন
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ অসমের প্রথম পর্যায়ের পাঁচটি কেন্দ্ৰের ভোট পাৰ্বন সম্পন্ন হল বৃহস্পতিবার। এদিন বিকেল ৫ টা পর্যন্ত চলে ভোট দান পৰ্ব। সকাল সাতটার আগেই ভোটগ্ৰহণ কেন্দ্ৰগুলিতে ভোটাররা এসে লাইনে দাঁড়িয়ে যান। ৭ টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্ৰহণ প্ৰক্ৰিয়া। রাজ্যের ৫টি কেন্দ্ৰেই ভোটগ্ৰহণ সেন্টারে ভোটারদের যথেষ্ট ভিড় দেখা গিয়েছে। ডিব্রুগড় ,কলিয়াবর, তেজপুর , যোরহাট ও লক্ষিমপুর লোকসভা কেন্দ্ৰে প্রথম পর্যায়ের ভোটদান সম্পন্ন হয়। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ ডিব্রুগরে নিজের ভোটাধিকার সাব্যস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ভোট দিয়ে এসে তিনি সাংবাদিকদের দৃঢ়কন্ঠে বলেন- ফের একবার রাজ্যে বিজেপি সরকার আসবে। অসমের পাঁচটি কেন্দ্ৰেই বিজেপি জিতবে। ডিব্রুগড় লোকসভা কেন্দ্ৰের অন্তর্গত লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া ভবন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দান করেন তিনি। অন্যদিকে, ধুতি পরে এদিন ভোট দিলেন বিধায়ক রূপ জ্যোতি কুর্মি। আঙুরলতা ডেকাও দিলেন ভোট। তেজপুর এর ঐতিহাসিক মহাভৈরব মন্দিরে বাবা ভোলেনাথের আশীর্বাদ নিয়ে তেজপুর কেতকীবাড়ী ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোট দান করেন কংগ্রেস প্রার্থী এমজিভিকে ভানু। এদিন মোটামুটি সারাদনিই ভোটগ্ৰহণ কেন্দ্রগুলির সামনে ছিল ভোটারের দীর্ঘ লাইন। প্রথম পর্যায়ে অসমে মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৯৫৭৪টি। মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৬ লাখেরও বেশী। এদিন রাজ্যে বিকেল ৩টে পর্যন্ত ৬৩% ভোট পড়েছে। তেজপুর কেন্দ্ৰে ৬৩%, কলিয়াবর কেন্দ্ৰে ৬০%, যোরহাট কেন্দ্ৰে ৬২%, ডিব্রুগড় কেন্দ্ৰে ৫৯,২৯%, লক্ষিমপুরে ৫৩% ভোট পড়েছে। তবে এদিন রাজ্যের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট মেশিনে বিসংগতির দেখা দিলে ভোটকেন্দ্ৰগুলিতে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এদিন ৫টি কেন্দ্ৰে প্রায় ৫০ টির বেশি ইভিএম বিকলের জন্য ভোটগ্রহণে ব্যাঘাত হয়। দেড়গাঁও বিধানসভা কেন্দ্ৰে ৪৪টি ইভিএম বিকল হবার ফলে ভোটদানে ব্যাঘাত ঘটে। বোকাখাত, খুমটাই, মেরাপানি, ধেমাজি ও মাজুলিতেও ইভিএম বিকল হয়ে যাওয়ার ফলে ভোটদানে ব্যাঘাত ঘটে। এদিকে এদিন তিনসুকিয়ার লাংকাসিতে আইইডি উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। মঠঙ্গা চা বাগানের সামনে উদ্ধার হয় এই আইইডিটি। অন্যদিকে, রূপরিহাটে কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মাঝে মারপিটের ফলে বিজেপি সমর্থকের আহত হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এদিন রাজ্যে বিকেল ৫টায় ভোট দান প্রক্রিয়া শেষ হয়। পাৰ্শ্ববৰ্তী রাজ্য মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ও ভোট দান করেন। পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার বালবাগরের ভোট কেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দান করেন তিনি। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিং এদিন নিজের ভোটাধিকার সাব্যস্ত করেন। ভোট দিতে পারেননি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্ৰ প্ৰতিমন্ত্ৰী মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সময় মতো হেলিকপ্টার সাৰ্ভিস না পাওয়ায় তিনি নিজের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে যেতে পারেননি। পশ্চিম কামেং জেলার নাফরাতে ছিল তাঁর ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন অরুণাচলের উপমুখ্যমন্ত্রী চৌনামিন। শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্ৰহণ হয়েছে অরুণাচলে। নামচাইয়ের কাছে মহং ভোটকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন তিনি। বাবা মায়ের সঙ্গে ভোট দান করলেন সাংসদ গৌরব গগৈ। কলিয়াবরে ভোট দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। স্ত্রী ডলি গগৈকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন তিনি, সাথে ছিলেন পুত্র গৌরব গগৈও। বিহালী কেন্দ্ৰের শিলাহারান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মন্ত্রী রঞ্জিত দত্ত নিজের ভোটাধিকার সাব্যস্ত করেন।










কোন মন্তব্য নেই