Header Ads

নিৰ্বাচন আচরণ বিধি লাগু হওয়ায় বন্যা ও ধ্বসের সমস্যার সমাধান হচ্ছে না

ফাইল ছবি

নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, গুয়াহাটিঃ অসমে নিৰ্বাচন আচরণ বিধি লাগু হয়েছে গত মাৰ্চ থেকে। চলবে মে মাস পৰ্যন্ত। প্ৰায় তিন মাস ধরে অসম প্ৰশাসনের কাজকৰ্ম প্ৰায় স্তব্ধ হয়ে যাবে। জরুরি কাজকৰ্ম হচ্ছে না। গ্ৰামগঞ্জের মানুষ বিভিন্ন কাজ নিয়ে সচিবালয়ে আসছেন। তাদের আসা বন্ধ হয়েছে। রাজ্যজুড়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৰ্ষার প্ৰাক মরশুম শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে নিম্ন অসমের কয়েকটি নদীতে ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যে বন্যার প্ৰকোপ শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে। এর প্ৰেক্ষিতে যে ধরণের প্ৰশাসনিক তৎপরতা হওয়া উচিত তাও নিৰ্বাচন আচরণবিধির জন্য বন্ধ হয়ে রয়েছে। রাজ্যের বন্যা প্ৰতিরোধী বাঁধগুলির অবস্থা মেরামতির অভাবে শোচনীয় অবস্থা হয়ে আছে। গত বিধানসভায় রাজস্ব এবং দুৰ্যোগ প্ৰশমন বিভাগের রাজ্যিক মন্ত্ৰী ভবেশ কলিতা জানিয়েছিলেন ২০১৮-১৯ অৰ্থ বছরে রাজ্যে ভাঙা বাধঁগুলি মেরামতির জন্য ৪৩৭৯.৮৭ লক্ষ টাকা এবং পথ মেরামতির জন্য ৭৫০৬.০০ লক্ষ টাকা অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারী সূত্ৰে জানা গেছে এখন পৰ্যন্ত এই টাকা রিলিজই করা হয়নি। অথচ বন্যা দোড়গোড়ায়। বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। রাজ্যের দুৰ্যোগ সাহায্য তহবিল থেকে ২০১৭-১৮ অৰ্থ বছরে জনসম্পদ বিভাগের ভাঙা বাঁধগুলি মেরামতের জন্য ৯০৫৩.৮২ লক্ষ টাকা এবং পূৰ্ত বিভাগের বন্যা ক্ষতিগ্ৰস্ত পথ মেরামতির জন্য ৯০০১.০৮ লক্ষ টাকা প্ৰশসনীয় অনুমোদন জানিয়েছিল। কিন্তু বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন এই টাকার যথাযথ সদব্যবহার করা হয়নি। জলসম্পদ এবং পূৰ্ত বিভাগের তথ্য মতে প্ৰশাসনীয় অনুমোদন জানানো সত্ত্বেও আজ পৰ্যন্ত কোনও কাজ হয়নি। করিমগঞ্জ জেলায় লঙ্গাই নদীর বাঁধ নিৰ্মাণের জন্য ৩ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার মধ্যে মাত্ৰ ৪০ শতাংশ কাজই সম্পূৰ্ণ হয়েছে। অপরদিকে সিংলা নদীর বন্যা প্ৰতিরোধে ২ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল কিন্তু কাজ এখনও বাকি আছে। শুধু বরাক উপত্যকা নয় রাজ্যের বন্যা দুৰ্গত কোনও জেলায় বন্যা প্ৰতিরোধী কাজ সম্পূৰ্ণ হয়নি। বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। প্ৰাক মরশুম শুরু হয়েছে, নিৰ্বাচনী আচরণবিধির লাল ফিতার বাধনে সব উন্নয়ণমূলক কাজ থমকে গেছে। অসমে প্ৰতিবছর বন্যায় কোটি কোটি টাকার জীবন সম্পত্তি নষ্ট হয় প্ৰতিবছর বিধানসভায় অসমের বন্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে গণ্য করার জন্য সৰ্বসম্মত প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করে কেন্দ্ৰে পাঠানো হয় কিন্তু কেন্দ্ৰীয় সরকার কোনও গুরুত্ব দেয় না। এমনই অভিযোগ উঠেছে। সম্প্ৰতি অনুষ্ঠিত অসম বিধান সভায় বন্যা ও ধসকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে গণ্য করে এক প্ৰস্তাব গ্ৰহণ করে দিল্লিতে পাঠাবার জন্য বিরোধীদলগুলি দাবি করেছিলেন। বিজেপি সরকারও তাতে সহমত পোষণ করে। কিন্তু অসমের বন্যা ও ধসের সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে গণ্য করে কোনও পদক্ষেপই গ্ৰহণ করা হচ্ছে না। এই অভিযোগ বিরোধীদের। আরও গুরুতর অভিযোগ ব্ৰহ্মপুত্ৰ ও বরাকের বাৎসরিক বন্যা ও ধ্বসের সমস্যাকে নিয়ে কেন্দ্ৰীয় সরকার প্ৰতিশ্ৰুতি অনুযায়ী আৰ্থিক বরাদ্দও দিচ্ছে না। প্ৰসঙ্গত, নিৰ্বাচনী প্ৰচারে কোনও রাজনৈতিক দলই অসমের অন্যতম জ্বলন্ত সমস্যা বন্যা ও ধ্বস নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করছে না। শুধুই এনআরসি আর নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে মজে আছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.