বদরপুরের লজ্জাবতীকে ছাড়া হল বড়াইলের জঙ্গলে
চার্ব্বাক দেব, বদরপুরঃ এক বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর ধরা পড়লো বদরপুর এলাকায়। বন বিভাগ সূত্রে প্রকাশ স্থানীয় লোকের সহায়তায় বদরপুর বনবিভাগ উদ্ধার করল লজ্জাবতী বানরটি। বড়াইল পাহাড়ের জঙ্গলে ছাড়া হল বানরটিকে বুধবার। দুঃখের বিষয় বড়াইলের পরিকাঠামো দেশের অন্যান্য অভয়ারণ্যের মতো নয়, যদিও রাজ্যের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য এ অঞ্চলের লোক। বনমন্ত্রীর সুদৃষ্টি খুব প্রয়োজন এ অঞ্চলের বন্যপ্রাণী জীবনকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। বদরপুরের বন বিভাগের সাব-বিট্ অফিসার দেবাশীষ দত্ত, ফরেষ্ট গার্ড আব্বান আলী ও সহকর্মী আব্দুল কায়ুম প্রমুখের এ মহৎ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণয়ের কাজটি স্থানীয়বাসীর দৃষ্টিগোচর হয়। লজ্জাবতী বানর (Slow Loris)-এর দেহের গঠন মোটাসোটা। মাথা আর শরীর লম্বায় ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার, ওজন ২৩০-৬১০ গ্রাম। লেজ অতি ছোট দেখতে, সারা শরীর ঘন লোমে ঢাকা, শুধু নাক আর ঠোঁট লোম শূন্য, রং হালকা বাদামী, পিঠের মধ্যে রেখা, কান বেশ ছোট গোলাকার। পেছনের পা জোড়া সামান্য বড়। হাত পায়ের বুড়ো আঙুল মানুষের আদলে অন্য আঙুলের চেয়ে অনেক দূরে থাকে। পায়ের দ্বিতীয় আঙ্গুলে নখ থাকে। হাত ও পায়ে আঙ্গুলের সংখ্যা ৫ টা করে। এ প্রজাতি ডালের ওপরে খাড়া হয়ে হাতের সাহায্যে শিকার ধরে। তাদের মাথা গোলাকার, আর চোখ প্যাঁচার মত গোল। গোল চোখের চারপাশ ঘিরে একটা স্পষ্ট বাদামী রংয়ের বলয় আছে। চোখের আকার তাদের মস্তিষ্ক থেকে বড়। এমনিতে তাদের চোখ দেহের তুলনায় বড় দেখায়। পরিস্থিতি অনুকুল থাকলে রাতে তাদের চোখের উজ্জ্বলতাকে ১০০ মিটার বা এর চেয়েও দূর থেকেও দেখা যায়। অনেকের কাছে অজানা ও অচেনা এই অসাধারণ সুন্দর বানর প্রজাতি। প্রাণীবিদ্ থাংজম পাউলেন সিংহ এর লেখা প্রবন্ধে পাওয়া যায় লজ্জাবতী বানর সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ। বাঘ, হাতী, গণ্ডারের সাথে এটিও ভারতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষিত আইন, ১৯৭২ এর প্রথম অনুচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত। প্রাণী ছোট ও লাজুক হলেও আইনের চোখে সমান বিধান অমান্যকারীদের জন্য। বন্যপ্রাণী হত্যা শাস্তি হল ৬ বছরের কারাদন্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানা। "প্রাণী শিকার করুন ক্যামেরা দিয়ে, বন্দুক দিয়ে নয়", এ হয়ে উঠুক সকলের বন্য প্রাণী সংরক্ষণের শপথ বাক্য। আমরা যেন সর্বদা মনে রাখি - প্রাণী বাঁচলে, পরিবেশ বাঁচবে।









কোন মন্তব্য নেই