গঙ্গা বাঁচাও, দেড়শ দিন অনশনে কেরলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের ছাত্র ২৬ বছরের স্বামীআত্মবোধানন্দ
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, হরিদ্বারঃ গঙ্গা বাঁচাতে অনশনে বসেছেন কেরলের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ২৬ বছরের ছাত্র স্বামীআত্মবোধানন্দ। গত ২৮ অক্টোবর থেকে দেড়শ দিন ধরে তিনি অনশনে রয়েছেন। হরিদ্বারের মাতৃসদন আশ্রম থেকে অবিরল ও নির্মল গঙ্গার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি গঙ্গা কে গঙ্গাকে অবিরল ভাবে বইতে দিতে হবে। গঙ্গাকে যদি অবিরল করা সম্ভব হয় তবেই গঙ্গা নির্মল হবে খুব সহজেই। উল্লেখ্য যে হিমালয়ের গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে শেষ হওয়া ২,৫২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের গঙ্গা নদী দেশের দীর্ঘতম ও প্রধান নদী । ১৩০ কোটির প্রায় অর্ধেক মানুষ গঙ্গার ও তার উপনদী গুলির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। গঙ্গা হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র নদী। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির প্রধান প্রধান শহর গড়ে উঠেছে গঙ্গা নদীর তীরে। শহরের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত জলের একমাত্র উৎস হচ্ছে গঙ্গা।
গঙ্গার জল কৃষিজমিতে নিয়ে যাবার জন্য প্রায় এক হাজারের ওপর বাঁধ নির্মাণ ও খাল খনন করা হয়েছে গঙ্গাতে। এছাড়া অবৈধ খননকার্য প্রতিদিন বেড়েই চলছে তার সঙ্গে গঙ্গাবক্ষে মাল্টি লিডার ব্রিজ বড় বড় রাস্তা গঙ্গাকে মৃতপ্রায় করে তুলেছে। এসবের জন্য গঙ্গাতে জলের যোগান মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছে। গঙ্গায় গিয়ে পড়ে শহরগুলি নোংরা জল, কারখানার বর্জ্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবের বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য ফলে গঙ্গা একদিকে যেমন হারিয়েছে তার অবিরলতা তেমনি অন্যদিকে সবরকম বর্জ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গঙ্গা হারিয়েছে তার নির্মলতা। গঙ্গার অবিরলতা ব্যাহত হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। সমস্ত গাঙ্গেয় বদ্বীপ বিলুপ্ত হতে চলেছে।
গঙ্গা দূষণ শুধুমাত্র গঙ্গা তীরে বসবাসকারী কয়েক কোটি ভারতীয়দের ক্ষতি করছে না। বিভিন্ন মাছের প্রজাতি, উভচর প্রাণী ও গাঙ্গেয় শুশুকের প্রচুর ক্ষতি করছে। অন্যদিকে, নদীকে তার মত করে বইতে দেওয়াই উন্নয়ন। ২৬ বছরের তরুণ সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ নদীকে তার মত করে বইতে দেওয়ার জন্যই অনশন শুরু করেছেন। ব্রহ্মচারী আত্মবোধনান্দের আগে গঙ্গার জন্য ১১২ দিনের অনশনে আত্মাহুতি দেন ৮৬ বছরের অধ্যাপক গুরুদাস আগারওয়াল। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন- দূষণ নয়, উন্নয়নই গঙ্গার সকল সমস্যার উৎস। তার মতে গঙ্গা দূষণের মূল কারণ হচ্ছে বড় বড় বাঁধ, বড় রাস্তা, সেতু নির্মাণ, আর বৃক্ষ নিধন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে এই বিষয়ে একটি চিঠিও লেখেন।
১৯৯৭ এ হরিদ্বারে মাতৃসদন আশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ন্যাসীদের আন্দোলন চলতে থাকে। ২০১০ সালের ১১৫ দিনের অনশনে আত্মাহুতি দেন স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী। ২০১৪ সালে শহীদ হন বাবা নাগনাথ। ২০১৮ সালে সন্ত গোপালদাসকে স্বাস্থ্যের জন্য প্রশাসন হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় কিন্তু তিনি এখন কোথায় আছেন কেউ জানে না। ২০১৮ সালে ১১০দিনের অনশনে গুরুদাস আগারওয়াল শহীদ হন। এরপর পর ২৮ অক্টোবর ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ সেই থেকে ১৫০ দিন অনশন করে যাচ্ছেন তবু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাননি। মাতৃসদন আশ্রমের অবিরল ও নির্মল গঙ্গা আন্দোলনে উত্তরাখন্ড ও অন্যান্য রাজ্যে তেমন সাড়া না পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে আত্মবোধনান্দের সমর্থনে বেশকিছু কার্যসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে প্রতীকী অনশন, পদযাত্রা কার্যক্রম, স্বাক্ষর গ্রহণ ইত্যাদি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত করা হয়েছে। তার সমর্থনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদযাত্রা দিল্লি থেকে হরিদ্বার অনুষ্ঠিত হয় ৯ মার্চ থেকে ১৭ পর্যন্ত। এতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকার ও বর্তমান এনডিএ সরকার নির্মল গঙ্গার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও সুফল পাওয়া যায়নি কারণ কোনও সরকার গঙ্গার অবিরলাতার জন্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না যা নিয়েছে নির্মলতার জন্য। গঙ্গাকে অবিরল করা না গেলে গঙ্গার জলকে বইতে না দিলে গঙ্গা কখনোই নির্মল করা সম্ভব নয় । ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ এভাবে চলতে থাকলে তিনি হয়তো আর কয়েকটা দিন বাঁচবেন। তারপর গঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য একটা জীবন শেষ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র লোকের অজ্ঞতা ও সরকারের উদাসীনতার জন্য একদিন হয়তো গঙ্গা নদী ইতিহাস হয়ে থাকবে। বর্তমান বিজেপি সরকারের তৎপরতায় গঙ্গা নদী অনেকটাই দূষণমুক্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুরো নদী দূষণ মুক্ত হবে সে আশা রাখা যায়।
গঙ্গার জল কৃষিজমিতে নিয়ে যাবার জন্য প্রায় এক হাজারের ওপর বাঁধ নির্মাণ ও খাল খনন করা হয়েছে গঙ্গাতে। এছাড়া অবৈধ খননকার্য প্রতিদিন বেড়েই চলছে তার সঙ্গে গঙ্গাবক্ষে মাল্টি লিডার ব্রিজ বড় বড় রাস্তা গঙ্গাকে মৃতপ্রায় করে তুলেছে। এসবের জন্য গঙ্গাতে জলের যোগান মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছে। গঙ্গায় গিয়ে পড়ে শহরগুলি নোংরা জল, কারখানার বর্জ্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবের বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য ফলে গঙ্গা একদিকে যেমন হারিয়েছে তার অবিরলতা তেমনি অন্যদিকে সবরকম বর্জ্যে পরিপূর্ণ হয়ে গঙ্গা হারিয়েছে তার নির্মলতা। গঙ্গার অবিরলতা ব্যাহত হওয়ার জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে। সমস্ত গাঙ্গেয় বদ্বীপ বিলুপ্ত হতে চলেছে।
গঙ্গা দূষণ শুধুমাত্র গঙ্গা তীরে বসবাসকারী কয়েক কোটি ভারতীয়দের ক্ষতি করছে না। বিভিন্ন মাছের প্রজাতি, উভচর প্রাণী ও গাঙ্গেয় শুশুকের প্রচুর ক্ষতি করছে। অন্যদিকে, নদীকে তার মত করে বইতে দেওয়াই উন্নয়ন। ২৬ বছরের তরুণ সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ নদীকে তার মত করে বইতে দেওয়ার জন্যই অনশন শুরু করেছেন। ব্রহ্মচারী আত্মবোধনান্দের আগে গঙ্গার জন্য ১১২ দিনের অনশনে আত্মাহুতি দেন ৮৬ বছরের অধ্যাপক গুরুদাস আগারওয়াল। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন- দূষণ নয়, উন্নয়নই গঙ্গার সকল সমস্যার উৎস। তার মতে গঙ্গা দূষণের মূল কারণ হচ্ছে বড় বড় বাঁধ, বড় রাস্তা, সেতু নির্মাণ, আর বৃক্ষ নিধন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদিকে এই বিষয়ে একটি চিঠিও লেখেন।
১৯৯৭ এ হরিদ্বারে মাতৃসদন আশ্রম প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ন্যাসীদের আন্দোলন চলতে থাকে। ২০১০ সালের ১১৫ দিনের অনশনে আত্মাহুতি দেন স্বামী নিগমানন্দ সরস্বতী। ২০১৪ সালে শহীদ হন বাবা নাগনাথ। ২০১৮ সালে সন্ত গোপালদাসকে স্বাস্থ্যের জন্য প্রশাসন হাসপাতালে ভর্তি করে দেয় কিন্তু তিনি এখন কোথায় আছেন কেউ জানে না। ২০১৮ সালে ১১০দিনের অনশনে গুরুদাস আগারওয়াল শহীদ হন। এরপর পর ২৮ অক্টোবর ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ সেই থেকে ১৫০ দিন অনশন করে যাচ্ছেন তবু সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাননি। মাতৃসদন আশ্রমের অবিরল ও নির্মল গঙ্গা আন্দোলনে উত্তরাখন্ড ও অন্যান্য রাজ্যে তেমন সাড়া না পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে আত্মবোধনান্দের সমর্থনে বেশকিছু কার্যসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে প্রতীকী অনশন, পদযাত্রা কার্যক্রম, স্বাক্ষর গ্রহণ ইত্যাদি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত করা হয়েছে। তার সমর্থনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পদযাত্রা দিল্লি থেকে হরিদ্বার অনুষ্ঠিত হয় ৯ মার্চ থেকে ১৭ পর্যন্ত। এতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকার ও বর্তমান এনডিএ সরকার নির্মল গঙ্গার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও সুফল পাওয়া যায়নি কারণ কোনও সরকার গঙ্গার অবিরলাতার জন্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না যা নিয়েছে নির্মলতার জন্য। গঙ্গাকে অবিরল করা না গেলে গঙ্গার জলকে বইতে না দিলে গঙ্গা কখনোই নির্মল করা সম্ভব নয় । ব্রহ্মচারী আত্মবোধানন্দ এভাবে চলতে থাকলে তিনি হয়তো আর কয়েকটা দিন বাঁচবেন। তারপর গঙ্গা নদীকে বাঁচানোর জন্য একটা জীবন শেষ হয়ে যাবে। শুধুমাত্র লোকের অজ্ঞতা ও সরকারের উদাসীনতার জন্য একদিন হয়তো গঙ্গা নদী ইতিহাস হয়ে থাকবে। বর্তমান বিজেপি সরকারের তৎপরতায় গঙ্গা নদী অনেকটাই দূষণমুক্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে পুরো নদী দূষণ মুক্ত হবে সে আশা রাখা যায়।









কোন মন্তব্য নেই